নিঃশূন্যের কথকতা : রবিউল হুসাইন

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

আজ শূন্য বার, শূন্য মাসের শূন্য তারিখ, শূন্য বছর। এরকম হয়ে হয়ে চলেছে সহস্র বছর ধরে। আদিবাসী পরিবারের শিশুসহ চার সদস্য খুন। খবর আকর্ষণীয় হত্যা ও খুন জখমে হয়ে থাকে। তাই ও প্রথমেই কাগজটির পাতায় পাতায় হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, গুম হওয়া- এইসব খোঁজো সঙ্গে দুর্ঘটনারও। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বেশ কয়েকটি এই ধরনের খোঁজ পায়। মিরপুরে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, আটক তিনজন। প্রথম পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এগারো কলাম চারে, পাতা উল্টায়। ছাত্রটি বাড্ডায় পরিবারের সঙ্গে থাকে। সকালে প্রাইভেট পড়তে যায় এবং শেষে এক বন্ধু তাকে শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় নেয় শুধু বেড়াতে। সে সরল বিশ্বাসে তার বন্ধুর সঙ্গ দেয়। সেখানে তাকে কোমল পানীয় খেতে দেয় খাওয়ার পর মেয়েটির মাথা ঝিম ঝিম করে এবং সে জ্ঞান হারায়। এই সুযোগে তার বন্ধুসহ অন্যরা তাকে ধর্ষণ করে ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। জ্ঞান ফিরলে সেখান থেকে বিধ্বস্ত শরীরে বেরিয়ে আত্মীয়স্বজনদের খবর দেয়। তারা তখন থানায় যায় অভিযোগ করতে এবং সেই ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিবাসী পরিবারের ঘটনাটি আরো ভয়াভহরকমের নৃশংস। সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে আর সে, ভালোই চলছিল। এক ছেলের বয়স ছয়, আরেক ছেলের তিন ও মেয়েটি চার মাসের। সবাইকে নিয়ে মা রাতে ঘুমিয়ে ছিল। এই সময়ে স্বামী চুপি চুপি ঘরে ঢুকে একে একে সবাইকে চাপাতি দিয়ে খুন করে এবং কান্নাকাটিতে প্রতিবেশীরা জেগে ওঠে। পরে তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে স্বামীটি এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটায় যার কোনো প্রমাণ নেই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিতে কোনো শত্রুতা কাজ করেছে বলে পুলিশের সন্দেহ। সাংসদ পুত্র এক, তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে মাতাল অবস্থায়, গভীর রাতে ইচ্ছাকৃতভাবে দুই পথচারীর দিকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে, ক্ষমতা আর অর্থ তাকে অস্বাভাবিক আচরণে উদ্বুদ্ধ এবং অমানবিক চরিত্রে পর্যবসিত করেছে। আর একটা খবর আরো মারাত্মক। এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার হোতা ছিল, সে বলেছে কাকে হত্যা করার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো, সেটি তার বোধগম্য হচ্ছে না। এখনই সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, তাহলে সে বুঝতে পারবে কেন তাকে এই দণ্ড দেয়া হয়েছে, মানুষজন তেমনটিই মন্তব্য করে চলেছে। তবে প্রতিবেশী দেশের আচরণ, চালচলন খুবই ভয়ানক ও অবিবেচনা প্রসূত। বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডের এক সদস্যকে মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী পুলিশ এতদিনেও তাকে মুক্ত করেনি। এখনো হাতে হ্যান্ডকাপ দিয়ে কোমরে শিকল বেঁধে বন্দি করে রেখেছে। বারবার আশ্বাস দিয়েও তাকে ছাড়ছে না। সবাই মনে করছে রোহিঙ্গা-মুসলিমদের মায়ানমারে ঢুকতে দিয়ে তাদের মায়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দর কষাকষি করতে এই ক‚টকৌশল নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে নিদারুণ সংবাদ সেই বিজিবি সদস্যকে রাতের অন্ধকারে অপহরণ করা হয়েছে প্রগুক্তহীন লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এই দুর্ঘটনার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে, দেশবাসী সেই আশাই করে। বোয়ালখালীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রায় সত্তর হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল কর্ণফুলী নদীতে পড়ে অন্তত বিশ কিলোমিটার এলাকার খাল, বিল ও পরিবেশ দূষিত করে ফেলেছে। তাতে নদীর পানিসহ মাছ ও জলজ প্রাণী, পাড়ের গাছপালা, উদ্ভিদ ধ্বংসের সম্মুখীন। এই প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসা দরকার তা না হলে খুব ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিম্নমানের গম নিয়ে দেশ বিপাকে। আগে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য থেকে গম নেয়া হয়েছে, এরকম কোনো অঘটন ঘটেনি, ব্রাজিল যে এরকম বাটপারী করবে তার অভিজ্ঞতা ছিল না বলে তাই বুঝা যায়নি স্বয়ং খাদ্যমন্ত্রীর এরকম বয়ান। এখন কী হবে দেখা যাক। পরে জানা যায় গম ঠিক আছে আঠারো কোটি টাকার জাল স্ট্যাম্পসহ একজন আটক। নোয়াখালীতে বিকাশ এজেন্টের আঠোরো লাখ ছিনতাই। ব্যাগ ভর্তি টাকা মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন গাছের সঙ্গে দুই দিকের রশি বাঁধার সঙ্গে সাইকেল পড়ে গেলে তাদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনজন মোটরসাইকেলে করে উধাও। পুলিশ বলেছে এতগুলো টাকা নিয়ে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছাড়া চলা উচিত হয়নি। তারা দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীদের ধরার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রভাবশালীদের দখলে দুই হাজার একর জমি, সংসদে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন এবং জমিগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের। সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদের হার কমানোয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে, বাজেটের ওপর আলোচনায়। সপ্তম পাঁচশালা পরিকল্পনায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক জরুরি। ২০৪০ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে অবির্ভূত হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে বাংলাদেশে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব ছিল। এ বছর শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে হবে পঁচিশ বিলিয়ন ডলার। পদ্মাসেতু চালু হলে মুন্সীগঞ্জ হবে সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনীতিবিদরা এমনই মন্তব্য করেছেন ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি রেখে। ও কায়মনোবাক্যে এই ফলাফলের পূর্ণ সফলতা প্রার্থনা করে। বর্ণবাদকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষয়রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইয়েমেন সংকটে অস্ত্রবিরতি ছাড়াই আলোচনা শেষ। ইরাক ও সিরিয়ার স্বঘোষিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকারী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের আত্মপ্রকাশের এক বছর পার হতে চললো কিন্তু তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই। অস্ত্রে সজ্জিত আইএস এখনো অত্যন্ত অর্থপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। বিশ্লেষকদের অভিমত, আগামীতে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের রাজত্ব চলবে। জানা গেছে, আগের বছরের তুলনায় এ বছর সন্ত্রাসের জেরে মৃত্যু আশি শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় তেত্রিশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে যা আশি শতাংশ। কারণ হিসেবে মূলত ইরাক সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও নাইজেরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের তৎপরতা দায়ী। সে ভাবে আমেরিকাও এর জন্য কাজ করছে। তা না হলে, তার এতকিছু পারে তো এটা ঠেকাতে পারছে না কেন। তাদের যুদ্ধাস্ত্রের লাভজনক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে, তাই। ও মনে মনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ও আরো জেনেছে এই সঙ্গে বসে বসে কাজ করলে, টিভি দেখলে, কম্পুউটার চালালে, শুয়ে শুয়ে বিশ্রাম করলে অন্যদের তুলনায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বেশি বেশি হতে। এই সঙ্গে মোটা হয়ে গিয়ে ওজন বাড়া হৃদরোগ, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে। ওর মনে হয় এইসব, তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ ঘরে কাগজ পড়তে পড়তে একট জিনিস সে লক্ষ্য করে যে, দেশে বা বিদেশে বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোথাও শান্তি বা একটু ভালো খবর নেই। সবকিছুই নেতিবাচক, ক্ষতিকর এবং খারাপ খবর। খবরের কাগজ কি শুধু খারাপ খববরই পরিবেশন করে। আশা সুখবর, স্বপ্ন আনন্দ সংবাদ, প্রাণময়তা, শান্তি ও কল্যাণকর সংবাদ কী কোনো সংবাদের পর্যায়ে পড়ে না। খবরের কাগজ কী যুগে যুগে শুধু খারাপ সংবাদই ছেপে যাবে। ওর মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। ও খুব ভেঙে পড়ে। নিরাশ আঁধারে কোন আলোর খোঁজ পায় না। শেষ পর্যন্ত আজকের রাশিচক্র পড়া শুরু করে এবং নিজের মতো করে সাজিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ ও লক্ষ্য করেছে জেগে থাকার চেয়ে ঘুমিয়ে থাকা খুব শান্তি আর নিরাপদের। আজকে যে জন্মগ্রহণ করবে সে সবার মতো একদিন মরে যাবে।

মেষ : আপনি নিন্দত হবেন। বিদেশে যাওয়া হবে তবে ফিরতে হবে। পথে যেতে হোঁচট খাবেন।

বৃষ : ষাঁড় হওয়া সহজ নয়, আপনি তো একজন মানুষ। চুক্তি হবে তবে দুর্ভোগ্যের সঙ্গে। মাথা বাঁচিয়ে চলবেন।

মিথুন : সঙ্গমে সফল হবেন, তবে যাকে চাইবেন তাকে পাবেন না। পরে এ কারণে খুব অপমানিত হবেন। দূরের যাত্রা কাছেই সারবেন শীঘ্র।

কর্কট : আপনার মৃত্যু হবে কর্কট রোগে। হঠাৎ করে নিজেকে নিজের কাছে সম্মানিত বোধ করবেন। হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিস কখনো খুঁজে পাবেন না, পেলেও মরনের পরে।

সিংহ : আচ্ছা মানুষ কী কখনো সিহং হতে পারে, হুঙ্কার দিলেও না। বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি প্রীতির সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন কিন্তু কোনোদিন মিলিত হতে পারবেন না দৈহিকভাবে।

কন্যা : আপনি একজন কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা বা মাতা আপনার কন্যার বিয়েতে কোনো খরচা পাতি নেই। সে পালিয়ে বিয়ে করবে এবং তাদের আপনি বাহবা দিয়ে গ্রহণ করবেন এ কারণে শিল্পে আপনার অবদান স্বীকৃত হবে যেহেতু আপনি হেসে হেসে হাস্যশিল্পের উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছেন।

তুলা : তুলা দিয়ে কাপড় বোনা খুব লাভজনক পেশা। তুলার বান্ডিল নিয়ে বরং বাতাসে উড়িয়ে দিন। তুলাগুলো আকাশে পৌঁছে মেঘ হবে। তারপর জমে জমে বৃষ্টি হয়ে নিচে ঝরে পড়বে। তাতে দেশ ও দেশের এবং শস্য ও ফসলের উপকার হবে।

বৃশ্চিক : যখনই বৃশ্চিক দেখবেন, ওকে পিষে মারবেন। কেননা ও যদি কামড়ায় তাহলে আপনিও এক বৃশ্চিকে রূপান্তরিত হবেন। অতএব সাবধান।

ধনু : ছিলা টেনে ধনুক ছাঁড়বেন। সেই তীর গিয়ে জোড়া বকের একটার গায়ে লাগে সে মারা যাবে। তখন জীবিতটি করুণ সুরে তাকে ডেকে ডেকে উড়বে এবং সেই বকধ্বনি শুনে আপনি কবিতা রচনা করতে উদ্বুদ্ধ হবেন। কিন্তু তা কোনোদিন কোনো কবিতা হয়ে উঠবে না।

মকর : বেকারেরা সাকার হলেও হতে পারেন, কিন্তু আকার পাবেন না। সাফল্য আপনার কাছে বিড়াল হয়ে পায়ে পায়ে ঘুরবে আর আপনি তাকে পায়ে ঠেলে দিবেন, তাতে আপনার কিছুই আসে যাবে না।

কুম্ভ : আপনাদের মতো বেয়াদব আর নির্লজ্জ হয় না। কেউ অপমান করলে আপনার কিছুতেই অপমানিত হন না বরং সম্মানিত বোধ করেন। আপনারা কী মানুষ না অন্যকিছু, আশ্চর্য।

মীন : মাছের রাজ্যে আপনি মৎস্যরাজা বা মৎস্যরানী। আপনাদের মৎস্যকন্যা হবে কিন্তু মৎস্যপুত্র জন্মাবে না। সারা জীবন আপনারা জলের অরণ্যে সাঁতার কেটে যাবেন একই জায়গায়, একইভাবে কিন্তু কোনো রকম জল পরিবর্তন ঘটবে না। জলের মধ্যে স্বপ্নের বুদবুদি সৃষ্টি করে জলের জলগান ও জয়গান গাইবেন, কোনোদিন এর অন্যথা হবে না। জলের গ্রামে জলের বাতাস, জলের বৃষ্টি জলের মধ্যে ঝির ঝির টিপ টিপ করে পড়বে। কিছুই ভিজবে না, কিছুই ধুয়ে যাবে না। মাঝরাতে ও হঠাৎ স্বপ্নের হাত ধরে জেগে ওঠে। আবার সে গভীর ঘুমে ডুবে যায়। 

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj