‘সীতার বনবাস’ ও বিদ্যাসাগর : সালাহউদ্দীন আইয়ুব

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

আধুনিক সাহিত্যে অরুচির কারণে অনেকদিন ধরে একটু একটু করে পান করছি পুরাতন বাংলার মধু। বিদ্যাসাগরের ‘সীতার বনবাস’ এখনো এক বৈঠকে পড়া যায়। এতে সংস্কৃতি, অনুপ্রাণিত কিংবা সমাসবদ্ধ শব্দের প্রাচুর্য থাকলেও তার বাহুল্য নেই। বাংলা গদ্যের উন্মেষলগ্নে বিদ্যাসাগর যে গদ্য লিখেছেন তা পড়ে বোঝা মুশকিল যে এর রচয়িতা ও রচনার মাধ্যম আক্ষরিক না হলেও গভীরতর অর্থে সমানবয়সী।

সাহিত্যের ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই গদ্য তার সৃজনকর্তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে না। এমন কোনো বাক্য নেই যার পুনর্লিখন অসম্ভব। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে আমাদের যে সাহিত্যচর্চা তা কি মূলত, মর্মত, একটি পুনর্লিখন প্রক্রিয়া নয়। ব্যাপক অধ্যয়ন ও অনুশীলনের পর একজন টিএস এলিয়ট কিংবা রবীন্দ্রনাথ কিংবা হ্যারল্ড ব্লুমকেও তো এরকম একটি মীমাংসায় পৌঁছতে হয়, হয় না? ইন্টারটেকচুয়ালিটি কিংবা গত কয়েক দশকের নবোদ্ভূত বিচারশাস্ত্র ও তার নানা শাখা-প্রশাখা মোটামুটি একরম একটি সিদ্ধান্তেই তো পৌঁছতে চায়।

গদ্যে বিদ্যাসাগরের মন তার সকল স্বচ্ছতা, যুক্তিময়তা ও ভারসাম্য নিয়ে উদ্ভাসিত। ভারতবর্ষীয় ন্যায়শাস্ত্র, রামমোহনের ধর্মচর্চা ও বেদান্ত-বিচার, কাদম্বরীর সংস্কৃত গদ্য কিংবা চৈতন্যজীবনী ছাড়া দেশীয় গদ্যের আর কোনো মডেলই বিদ্যাসাগরের সম্মুখে ছিল না। ইংরেজির সংশ্রব ব্যতিরেকে তাঁর আখ্যান বা বাক্যের গড়ন কেমন হতো বলা কঠিন। কিন্তু বিধ্যাসাগরের কমা, কোলন; সতর্ক-কখনো কখনো অতিরিক্ত- যতিচিহ্নের ব্যবহার; বাক্যের গোড়ায় ‘যদি’ ‘যেমন’ ‘যেহেতু’-র প্রয়োগ এবং প্রায় প্রতিটি বাক্যে যুক্তির সঙ্গতি রক্ষায় রচয়িতার উৎকণ্ঠা ও সজাগ প্রযতœ জানিয়ে দেয় বাংলা গদ্য মোটেও ভাষিক বিবর্তনের স্বাভাবিক পরিণতি নয়, বরং এক বিপুল, বলিষ্ঠ, সাহসী ও সময়ের প্রতিপক্ষে সম্পাদিত উদ্ভাবন।

২.

সীতার বনবাস যে বাঙালির ঘরে ঘরে পঠিত হয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। ভবভূতির উত্তরচরিত নাটক ও রামায়ণ-অবলম্বনে রচিত হলেও মূল কাহিনী যেভাবে ব্যক্ত বিদ্যাসাগর তা সর্বাংশে অনুসরণ করেনি; রাম-সীতার কাহিনীকে একটা প্রচলিত পৌরাণিক গল্প হিসেবে উত্থাপন করাও তাঁর লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয় না। সেকালে যেমন তেমনি এখনো যে কেনো পাঠক এ কাহিনীর মধ্যে মানব সংসারের সুখ-দুঃখ বিরহ- ভালোবাসার বিশ্বাসযোগ্য প্রতিফলন দেখতে বাধ্য। ভারতবর্ষের বহু প্রাচীন পুরাণকে বিদ্যাসাগর ধর্মীয় ভক্তির বদলে সাহিত্যেরই এক চিরায়ত সামগ্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন। রামের বিপরীতে সীতা কিংবা সীতার বিপরীতে রামের পক্ষাবলম্বন বাংলা সাহিত্যের পরিচিত বিষয় হলেও দুই চরিত্রেই বিদ্যাসাগরের সমান অভিনিবেশ দেখা যায়, যদিও সীতা বিয়োগ আখ্যানের শেষ অনুচ্ছেদ পড়ার সময় করুণায় আর্দ্র বিদ্যাসাগরের অশ্রæসিক্ত মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে।

সীতার বনবাস, বলা বাহুল্য, রাবণ-কর্তৃক সীতা হরণের পরবর্তী ঘটনা। সীতা-উদ্ধারের পর অযোধ্যায় রাম-সীতার সংসারজীবন যখন সুখে কাটছিল তখন সিক্রেট এজেন্ট দুর্মুখের কাছে সীতা-সম্পর্কিত লোক-গুঞ্জন রামের কর্ণগোচর হয় এবং তিনি ‘লোকরঞ্জনের নিমিত্ত’ সীতাবর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

সীতার বনবাস যদি ভারতীয় অর্থে ট্র্যাজেডি হয় তাহলে এই গুজবেই তার সূত্রপাত। রামের নির্দেশে লক্ষণ তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানসম্ভবা ভ্রাতৃবধূকে ভাগীরথী তীরবর্তী বাল্মিকীর তপোবনে রেখে আসেন। অরণ্যেই জন্ম হয় কুশ ও লবের, রামের দুই যমজপুত্র, দ্বাদশ বর্ষের পূর্বে যারা নিজের পিতা ও মাতার নাম জানতে পারে না। নৈমিষারণ্যের যজ্ঞানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে মহর্ষি বাল্মিকী কুশ ও লবকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। সেখানে সমাগত লোকজন কুশ ও লবের গান শুনে,

‘মোহিত ও নিস্পন্ধভাবে অবস্থিত হইয়া অবিশ্রান্ত অশ্রæপাত করিতে লাগিল। না হইবেই বা কেন? প্রথমত’ রামের চরিত্র অতি বিচিত্র ও পরম পবিত্র; দ্বিতীয়ত, বল্মিকীর রচনা অতি চমৎকারিণী ও যারপরনাই মনোহারিণী; তৃতীয়ত, কুশ ও লবের রূপমাধুরী দর্শন করিলেই মোহিত হইতে হয়, তাহাতে আবার তাহাদের স্বর এমন মধুর যে উহার সহিত তুলনা করিলে কোকিলের কলরব কর্কশ বোধ হয়; চতুর্থত, বীণাযন্ত্রে তাহাদের যেরূপ অলৌকিক নৈপুণ্য জন্মিয়াছিল, তাহা অদৃষ্টচর ও অভূতপূর্ব।’ (সীতার বনবাস)

সঙ্গীতশ্রবণে মানবচিত্তে পুলকবোধ যতই স্বাভাবিক ঘটনা মনে হোক না কেন, আলোকপর্বের বিদ্যাসাগর তার কারণ নির্দেশ ও যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজন বোধ করেছিলেন।

কুশ ও লবের পরিচয় উদঘাটিত হওয়ার পর রাম ও তাঁর রাজপরিবার বনবাসী সীতাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যগ্র হলেন। বিদ্যাসাগর রামচিত্তের অভ্যন্তর সংকট, দহন ও যন্ত্রণা যেভাবে বর্ণনা করেন তা পৌরাণিক নয়, উপন্যাসোপম। সীতার চরিত্র বিষয়ে রাম আনুপূর্ব নিঃসংশয়; শুধুমাত্র রাজধর্ম ও প্রজাহিতের খাতিরে নিজ সন্তানের জননীকে অরণ্যে ত্যাগ করার যাতনায় দুঃখিনী সীতার মতো তিনিও সমান দগ্ধ। ভরতকে রাজ্যভার দিয়ে সীতার সঙ্গে জঙ্গলে জীবন কাটিয়ে দিলে ক্ষতি কি, এরকমও তিনি ভাবেন।

যজ্ঞানুষ্ঠানের পর স্বচক্ষে তাঁর দুই পুত্রকে দেখার পর রামের পক্ষে ধৈর্য ধারণ সম্ভব হয় না। কিন্তু সীতাকে ফিরিয়ে আনার নতুন গুজব নানা রূপ ও রূপান্তরে পাড়ায় ছড়ানোর পর :

‘কেহ কেহ কহিতে লাগিল, আমাদের রাজা অতি অব্যবস্থিতচিত্ত; যদি জানকীরে পুনরায় গৃহে লইবেন, তবে তাঁহারে পরিত্যাগ করিবার কি আবশ্যকতা ছিল? তখনও যে জানকী, এখনও সেই জানকী; তখনও যে কারণে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন, এখনও সেই কারণ বিদ্যমান রহিয়াছে;’…

রাজ্যভার গ্রহণের কারণে ‘নিতান্ত পরায়ত্ত’ রামের সঙ্গে নিষ্কলুষ, পরিত্যক্তা, হতভাগিনী সীতার অবস্থায় যে কোনো তফাৎ নেই, বিদ্যাসাগর বারবার সে দিকে ইঙ্গিত করেন। এই দুই বিরাট চরিত্রের অবাঞ্ছিত অপচয়ে কে দায়ী- অদৃষ্ট না রাজা রামচন্দ্র সেটি বিধ্যাসাগরের কাছে প্রশ্ন নয়। এদের জীবনে যা ঘটেছে তা যে অনিবার্য ও লজিকের দিক থেকে সঙ্গত বিদ্যাসাগর তাই শুধু দেখাতে চান। বাহ্যত অরণ্যবাসী সীতা যে রামের অন্তরবাসী চিরন্তন মানবী, বিদ্যাসাগর তার নানা সামন্ত হাজির করেন, রামের বিক্ষুব্ধ অন্তর্জ্বলা ও দ্ব›দ্ব যার অন্যতম :

‘অন্তর, সহসা উদ্ভূত রোষাবেশ সহকারে কহিতে লাগিলেন, আর আমি অমূলক লোকাপবাদে আস্থা প্রদর্শন করিব না। অতঃপর প্রিয়ারে গ্রহণ করিলে, যদি প্রজালোকে অসন্তুষ্ট হয়, হউক, আর আমি তাহাদের ছন্দানুবৃত্তি করিতে পারিব না’…

এখানে ‘ছন্দানুবৃত্তি’ কথাটি খেয়াল করেছেন? লেখার শুরুতেই একেই বলেছিলাম পুরাতন বাংলার মধু; ‘ছন্দানুবৃত্তি’ সেই বিলুপ্ত ডিসকোর্সের স্মৃতিবাহী।

উক্তির শেষে রাম বলছেন যে, সীতাকে ফিরিয়ে আনা যদি নিতান্তই অসম্ভব হয় তিনি ভরতকে রাজ্য দিয়ে বাণপ্রস্থে চলে যাবেন। ‘নিতান্ত না হয়’ বলছেন এই আশঙ্কাবশত যে যদিও উঁচুস্তরের সবাই সীতাকে অযোধ্যায় ফিরিয়ে আনার পক্ষে, রাবণের অন্তঃপুরে সীতা অতদিন কি করেছেন তা নিয়ে নিচুস্তরের লোকজনের হাসাহাসি, কানাঘুষা ও সুখের গুজব বন্ধ করার সাধ্য তার মতো রাজদেবতারও নেই। স্ক্যান্ডাল থামানোর সাধ্য যদি সেকালের দেবতাদের না থাকে একালের প্রেসিডেন্টদের কোত্থেকে থাকবে?

বাল্মিকীর উদ্যোগে সীতাকে আনা হলো কিন্তু সীতা পরিগ্রহ বিষয়ে সর্বসাধারণের সম্মতি পাওয়া গেল না। অপরিবর্তিত জনমত ও সমবেত সাধারণ মানুষের মৌনাবলম্বনে দুঃখিত ও বিমূঢ় বাল্মিকী অগত্যা সীতাকে বললেন-

বৎসে! তোমার চরিত্র বিষয়ে প্রজালোকের মনে যে সংশয় জমিয়া আছে, অদ্যাপি তাহা আনীত হয় নাই;

অতএব, তুমি, সর্বসমক্ষে পরীক্ষারূপ প্রত্যক্ষ প্রমাণ দর্শাইয়া, সকলের অন্তঃকরণ হইতে সেই সংশয়ের অপনয়ন কর।

বাল্মিকীর পাশে দণ্ডায়মান সীতা এ কথা ‘শ্রবণমাত্র, বজ্রাহতপ্রায় গতচেতনা হইয়া, প্রচণ্ড বাত্যাহত লতার ন্যায়, ভূতলে পতিতা হইলেন।’

সীতার মৃত্যুতে আখ্যানের সমাপ্তি। আখ্যানের বিষয় সীতার বনবাস নয়, সীতার প্রত্যাবর্তন এবং সতীত্ব পরীক্ষায় এক প্রাচীন পাবলিক আদালতে তার মৃত্যু। অযোধ্যা কিংবা অরণ্য নয়, এর বিষয়- এক অর্থে- রাম ও সীতার অন্তঃকরণ।

৩.

সীতার বনবাস যদি ট্র্যাজেডি হয় সেই ট্র্যাজেডি জানকীর একার নয়, রামেরও। তবে বিদ্যাসাগর ট্র্যাজেডি তৈরি করতে চেয়েছেন এমন প্রমাণ রচনায় নেই। বিদ্যাসাগর কোনো উপন্যাস রচনারও চেষ্টা করেননি; যাকে বলি চরিত্রায়ন, সীতার বনবাসে তা খোঁজার কোনো মানে হয় না। ঠিক চরিত্র নয়, বরং বিভিন্ন আদর্শকল্প বা একেকটা ভাবের টাইপ হিসেবে রাম, লক্ষণ, সীতা, বাল্মিকীকে বিবেচনা করা যায়। যে লোকলজ্জায় সীতার আত্মাহুতি, সেই লোকরুচিতেই এই আখ্যানের এরকম সমাদর হবে সে কথা বিদ্যাসাগর জানতেন কি?

‘রামায়ণে’র জ্বলন্ত চিতায় অগ্নিদেবের হস্তক্ষেপের কারণে সীতার মৃত্যু হতে পারেনি, কিন্তু ‘সীতার বনবাসে’র সেক্যুলার আখ্যানে সীতাকে বাঁচানো গেল না। শেক্সপিয়রের চরিত্রগুলোর মতো নেহাৎ কথার বিষে ধ্বংস হলো রাম ও সীতার জীবন। সীতা আগেও ভূতলে পতিত হয়েছিলেন কয়েকবার (রাম-লক্ষণকেও বারবার মূর্ছিত হতে দেখা যায়), কিন্তু এরপর সীতার চৈতন্য ফেরেনি। নিন্দামোচনে মৃত্যু ছাড়া ভারতীয় নারীর অন্য কোনো বিকল্প থাকতে পারত না। তবে কেবল কথার বিষ ও লজ্জায় যে নারীর মৃত্যু হলো তাই জানিয়ে দেয় আমরা পৌরাণিক সময় পার করে এসেছি।

‘সীতার বনবাস’ শেষ পর্যন্ত বিদ্যাসাগরের নিজের রচনা পুরাণের সঙ্গে এর সাদৃশ্য কেবল বহিরবয়বে, তাও সর্বত্র নয়, এবং সম্পূর্ণ নয়। ভাগীরথীর অন্যপারে সীতার নির্বাসন, কুশ ও লবের জন্ম এবং বাল্মিকীর কাছে তাদের রামায়ণ পাঠও রামচরিত্র অধ্যয়নের বৃত্তান্তে সময়ের একটি ‘হবে-হচ্ছে’ ধারণা ব্যবহৃত- এটি সময়ের এমন একটি ধারণা যা যুগপৎ ভবিষ্যতে সমাপ্ত ও সমকালীন। কুশ ও লব জানতো না বাল্মিকীর কাছে তারা যে আখ্যানের পাঠ নিচ্ছে।

তারা নিজেরা ঐ আখ্যানের অন্তর্গত। রাজা রামচন্দ্র যে তাদেরই জন্মদাতা পিতা সেটা তো তাদের অনুমানের বাইরে।

‘সীতার বনবাস’ উপন্যাস হলে তার মধ্যে প্লটের অংশ ঐটুকু। কিন্তু ‘সীতার বনবাস’ তো উপন্যাস নয়। এ যদি নাটক হয় তাহলে এর নাটকীয় ঘটনা-পরম্পরা কুশ ও লবের অজ্ঞাতেই সম্পন্ন কেননা জীবননাট্যের একটা নির্ধারিত অঙ্কে যে তারা অভিনয় করছে সেটি তাদের বোধের অতীত। সে নাটকের পূর্বাপর জানতেন বাল্মিকী, স্ক্রিপটের রচয়িতা। প্লটের কল্পনায় ঔপন্যাসিকের যে স্বাধীনতা থাকে তা বিদ্যাসাগরের ছিল না বলে পুরাণের কেন্দ্রীয় থিম ও স্ট্রাকচার (রামের সীতা পরিত্যাগ ও পরিগ্রহণ) অব্যাহত রেখে কাহিনীর ভেতরকার অনিশ্চিত টার্নগুলোকে তিনি কাজে লাগান।

রাম ও সীতার সুখ-দুঃখ, মিলন-বিরহ নিয়ে বিদ্যাসাগর চাইলেই একটা যুতসই গল্প লিখতে পারতেন। তার বদলে ঊনবিংশ শতাব্দীর এই বিশাল পুরুষ নারীপন্থী, দয়ালু, অশ্রæসিক্ত, র‌্যাডিকাল অ্যাগনস্টিক ব্রাহ্মণ পুরাণের আদি কাঠামোকে রেখে দিলেন অবিকৃত। তার কারণ সেটি বাদ দিলে সীতার বনবাসের সঙ্গে ঐতিহ্য, শ্রæতি ও পরম্পরার গভীর, দৃঢ়, স্থায়ী সংযোগ ছিন্ন হতো, পরিণত হতো একটা সাধারণ কাহিনীতে : ঐতিহ্যের বন্ধনহীন- কাজেই কর্তৃত্বরহিত- সেরকম কোনো কল্পিত কাহিনীর স্বেচ্ছাচার লোকগ্রাহ্য হতে পারতো না। পৌরাণিক টেকস্টের কর্তৃত্ব ও অথেনটিসিটি ‘সীতার বনবাসে’র শক্তির উৎস, তার দীর্ঘকালীন আবেদনময় ভিত্তি। হ

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj