পারমিতা : শুভ্রা নীলাঞ্জনা

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

পারমিতার মন ভালো নেই। আজ সে ফেসবুকে যায়নি। কিছুই ভালো লাগছে না। অফিসেও যাওয়া হয়নি। ফোনে জানিয়ে দিয়েছে। জ্বর আসছে। গা-টা ম্যাজ ম্যাজ করছে। কেমন একটা অশ্বস্তি। কয়েক দিন ধরেই পারমিতার মন খারাপ সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছে। তার মন পড়ে থাকে আকাশের দিকে। আকাশের সীমানা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। অদৃশ্য এক আকর্ষণ। এড়িয়ে যেতে পারছে না সর্বশক্তি দিয়ে। আবার একটা মায়াও নিজের অজান্তে জন্ম নিয়েছে। দোটানায় পড়ে পারমিতার বেহাল অবস্থা।

পারমিতা খুব ভেবেচিন্তে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কনফার্ম করে। আননোন অথবা অবয়ব নেই কখনই তার ফ্রেন্ড লিস্টে জায়গা নেই। ২২১ জন ফ্রেন্ডদের ভেতর একজনই অবয়বহীন। যার ইনবক্সে পাঠানো বার্তায় মুগ্ধ হয়ে বন্ধু করে নিয়েছিল। সেই আননোন ব্যক্তিটাই পারমিতার রাতের ঘুম উধাও করে দিয়েছে। প্রথম প্রথম পারমিতা গা করেনি। কোনো ইন্টারেস্টও ছিল না। অনেকেই লিখে। আবার একসময় আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। সাড়া না পেয়ে। কিন্তু বিপত্তিটা এখানেই। অসীম ধৈর্য সহকারে রুটিন করে ইনবক্স ভর্তি করে লিখে যাচ্ছে। পারমিতা একদিন সময় করে পড়ল। না খারাপ কিছু লিখেনি তো। অনেকগুলো কবিতা, কোনো সময় নিজের মনের কথা, গানের অংশ বিশেষ, কোনো কোনো সময় ইমো। মাঝে মাঝে পড়তে পড়তে পারমিতার মন ভালো হয়ে যায়। অদৃশ্য একটা কাঁটা খচ খচ করে বুকের ভেতর লাগে। না পারমিতা আর দ্বিতীয়বার কাউকে প্রশ্রয় দেবে না। কারো মিষ্টি মিষ্টি কথায় ভুলবে না। নো রিপ্লাই।

কিন্তু না একমাস দুই মাস তিন মাস একদিনের জন্যও লেখা বন্ধ হয়নি। অদ্ভুত ব্যাপার। পারমিতার ফোন নাম্বারও চায়নি। অথবা সে কেন রিপ্লাই দেয় না কোনো অভিযোগও নেই। ছেলেটা মনে হয় ধরেই নিয়েছে এইটাও তার প্রাত্যহিক রুটিনের ভেতর একটা কাজ। পারমিতার একদিন ইনফোতে গিয়ে ভালো করে দেখে। ছেলেটা কে? কোথায় থাকে? সব কিছু জানতে ইচ্ছে করছে।

অরণ্য আকাশ। কমপ্লিকেটেড রিলেশনশিপ। নো পিক। কভার পিকে পাশাপাশি পেছন ফিরে একটি ছেলে একটি মেয়ে বসে আছে সূর্যাস্তের সময়। নিজের লেখা কিছু কবিতা, মনীষীদের বাণী ছাড়া বিশেষ কিছু জানা যায় না। পারমিতা আকাশের দিকে হাত বাড়ালো আকাশ ছুঁতে। পারমিতার জীবনটা হঠাৎ করেই রঙিন হয়ে উঠল। ঝাঁক ঝাঁক রঙিন প্রজাপতিরা পারমিতার চারপাশে ডানা ঝাপটায়। মেঘলা আকাশে এক ফালি রোদ্দুর।

হাজার হাজার মাইল মাইল দূরে মেলবোর্নে থাকে একটা ছেলে, কিন্তু কিভাবে যেন অদৃশ্য সুতার বন্ধনে দুজন আবদ্ধ। ইনবক্সে ম্যাসেজ না লিখলে পারমিতার আর ভালো লাগে না। আকাশের কোনো ম্যাসেজ না থাকলে পারমিতার চোখ ছলছল করে ওঠে অভিমানে।

পারমিতা : তোমাকে আর লিখব না। সত্যি সত্যি তিন সত্যি। আমি তোমাকে এখন রিপ্লাই দেই তাই তুমি আর আগের মতো ভালোবাস না। আমি সব বুঝতে পারি। আর একজন পারমিতা পেয়ে গেছ তুমি।

আকাশ : আকাশের হাসি। রাগলে তোমায় লাগে আরো ভালো। তোমার অভিমানী মুখটা আমি বেশ দেখতে পাচ্ছি। ভালোবাসা আমাকে নিঃস্ব করেছে, তোমাকে করেছে অভিমানী। আই লাভ ইট।

এভাবেই রাত গড়িয়ে অনেক সময় ভোর হয়ে যায় পারমিতার। এ এক মজার খেলা। কোনো দায়বদ্ধতা নেই শুধু অনুভব করা। হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছোঁয়া। কথার মায়াজালে আটকে থাকা।

পারমিতার মাঝে মাঝে কৌশিকের কথা মনে পড়ে। কৌশিক একটু অন্য ধরনের সুন্দর ছিল। মায়াবী মুখের আদল। বয়সে ছোট হলেও খুবই গম্ভীর আর চুপচাপ ধরনের ছেলে। বয়সের চেয়ে বেশিই ম্যাচিউরড। পারমিতাকেও সবসময়ই ছোট ভাবত। অদৃশ্য একটা শাসন ছিল কৌশিকের ভেতর। যা পারমিতা এড়িয়ে যেতে পারত না। পারমিতা সবসময় বলত চশমা তোর জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। তোকে খু-উ-বি মানায়। কি পাগলটাই না ছিল পারমিতার জন্য। পারমিতার গুনে গুনে চার বছরের ছোট। কৌশিকের পাগলামি পারমিতার খুব একটা খারাপ লাগত না। মনে হতো এটাই ঠিক। ভালোবাসা এ রকমই হওয়া উচিত। নিয়ম মানে না। যত বেশি পাগলামি তত বেশি ভালোবাসা। কৌশিকের বয়সটাই এরকম মাতাল করা ভালোবাসা ওকেই মানায়।

কৌশিকটার অনেক সাহস। সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পারু বলে ডাকত। তখন পারমিতা অনেক রেগে যেত। পারমিতা, এই শোন আমাকে পারু বলবি না। কি আমার দেবদাস রে। দেবদাস কাপুরুষ ছিল, আমি দেবদাসকে দেখতে পারি না। আসল কাজে খবর নাই ফেনসিডিল খেয়ে চুড়। কৌশিক হাসতে হাসতে বলে, তখন ফেনসিডিল কোথায় পাবে। আমি এই যুগের দেবদাস। ফেনসিডিল খেয়ে মরব না। ভালোবেসে মরে যাব। তোমাকে নিয়ে মরব। সাত আকাশ খুঁজে তোমাকে নিয়ে আসব। তুমি বিয়ে করবে না, আমার জন্য ওয়েট করবে। আমি এস্টাবলিশ হয়ে তোমাকে নিয়ে যাব। পারমিতা কথা শুনে হেসে গড়িয়ে পড়ত। তুই একটা পাগল আস্ত পাগল। আমি তোর বড় না? আমাকে বিয়ে করলে মানুষ তোকে পিটিয়ে তক্তা করবে। কৌশিক, আমি মানুষের খাই না পড়ি? তুমি করবে কিনা সেটা বলো? পারমিতাও একটু পাগলিই ছিল অন্য আট-দশটা মেয়ের চেয়ে। পারমিতা বলে ঠিক আছে করব।

হিরণের সাথে একদিন পারমিতাকে এক রিকশায় দেখে কৌশিকের সে কি অভিমান। কৌশিক বলে আমি ছাড়া তুমি কারো সাথে রিকশায় উঠবে না প্লিজ আমি মরে যাব। পারমিতা কখনই কৌশিককে বুঝতে চেষ্টা করেনি সবটাই ভেবে নিয়েছে নিছক মজা। হিরণের সাথে যখন পারমিতার বিয়ে ঠিক হলো তখন কৌশিক একটা চিঠি লিখে দেশের বাইরে চলে গেল। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি কৌশিকের সাথে।

হিরণের সাথেও পারমিতার বিয়েটা হলো না। পারমিতা কি অবচেতন মনে কৌশিককেই ভালোবেসেছিল? পারমিতা নিজেও জানে না। তারপর আর পারমিতা বিয়ের চেষ্টা করেনি। দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা মায়ের দেখাশুনা সবকিছুর দায়িত্ব নিতে গিয়ে বিয়েটাকে আর গুরুত্ব দেয়া হয়নি। হিরণ বিয়ে করে এক কন্যার জনক। পারমিতার মাঝে মাঝে কৌশিকের কথা মনে পড়ে। মনটা খারাপ হয়ে যায়। চোখটা শুধু শুধুই জলে ভরে ওঠে। কৌশিক এখন কোথায়? কি করে? নিশ্চয় বিয়ে করে সংসারি হয়েছে। যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক। পারমিতা কৌশিকের সম্পর্কে ইচ্ছে করেই কোনোদিন কারো কাছে জানতে চায়নি।

কিছু কিছু সম্পর্ক এমন হয় যেখানে চেনার দরকার হয় না। কোনো চাওয়া থাকে না। কোনো স্বার্থ খুঁজে না। তারপরেও অনেক মায়া হয়ে যায়। আর একবার কারো ওপর মায়া পড়ে গেলে সে মায়া কমে না বরং আরো বাড়তে থাকে। আকাশের প্রতি পারমিতার এমনি একটা মায়া পড়ে গেছে। টান। ভেতর থেকে সর্বনাশা টান।

আকাশ নিজের কথা তেমন বলে না। এড়িয়ে যায়। পারমিতা মাঝে মাঝে চমকে যায় আকাশের কথা শুনে। পারমিতা জানতে চায় তুমি কি আমাকে চেনো নাকি? সামনা সামনি কখনো দেখেছ? আকাশের উত্তর, না অনুমানে বুঝে নেই, তুমি এরকম। তোমার সাদা গোলাপ পছন্দ। কিভাবে বুঝলে? মাঝে মাঝে তুমি সাদা গোলাপ পোস্ট কর তাই? আমার আর কি পছন্দ? বেলি ফুলের মালা। এটা কিভাবে বুঝলে? আমি তো কখনো বলিনি। তোমার প্রায় ছবিতে হাতে বেলি ফুলের মালা পেঁচানো থাকে। তুমি এতকিছু দেখ? হুম। পারমিতা : ভাবছি তোমার সাথে আর কথা বলব না।

আকাশ : কেন?

পারমিতা : তুমি আমাকে সবসময় দেখতে পাও, আমি দেখতে পাই না। ইট ইজ নট ফেয়ার?

আকাশ : কেন? তোমার না ঋত্বিক রোশন অনেক পছন্দ। ওর ছবিই তো দেওয়া আছে।

পারমিতা : তুমি কি ঋত্বিক নাকি? ঢং করবা না। কাল থেকে আমাকে আর পাবে না। আচ্ছা তোমার বয়স কত?

আকাশ : মজা করে, তোমার কত লাগবে?

পারমিতা : সত্যি বল না? জানতে ইচ্ছে করছে।

আকাশ : চল্লিশ হলে অসুবিধা?

পারমিতা : আমার কোনোটাই অসুবিধা নেই। তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে নাকি?

আকাশ : বিয়ে হলে কত লাগবে?

পারমিতা : ভেবে দেখিনি।

আকাশ : ত্রিশ হলে চলবে?

পারমিতা : না তুমি আমার চার বছরের ছোট হবে।

আকাশ : অসুবিধা কি? বাদ দাও। আজ কি করলে?

পারমিতা : সারাদিন তোমার কথাই ভাবছি।

আকাশ : এহেম ! এহেম ! সূর্যটা ঠিকঠাক মতো আজ উঠছে তো?

পারমিতা : ভাব! কেন আমি বুঝি তোমার কথা ভাবি না।

আকাশ : জি না মহারানী।

পারমিতা : জি না রাজপুত্র, সবসময় তুমি আমার সাথেই আছ।

পারমিতা : এই ওয়েট, মা ডাকছেন শুনে আসি।

এভাবেই প্রায় বছর হলো আকাশের সাথে পারমিতার পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজনই গল্পে গল্পে অনেকটাই কাছাকাছি। একটা নীল আকাশের একটাই রুপালি চাঁদ।

সময় গড়িয়ে যায়। সামনে পারমিতার জন্মদিন। ১ এপ্রিল। এখন আর জন্মদিন সেলিব্রেট করা হয় না। জন্মদিন সাদামাটাভাবেই চলে যায়। আকাশ বলছে মেলবোর্নের বাইরে যাবে ৩/৪ দিন ঝামেলা থাকবে। ফিরে এসে যোগাযোগ করবে। তবুও ইনবক্সটা চেক করে। ভাবনাগুলো ডানা মেলে। পারমিতার অভ্যাস গান শুনে শুনে ঘুমিয়ে পড়া। জয়তী চক্রবর্তীর রবীন্দ্রসঙ্গীত পারমিতার প্রিয়, সিডিটা অন করল।

যে জন দেয় না দেখা, যায় যে দেখে, ভালোবাসে আড়াল থেকে

আমার মন মজেছে সেই গভীরের গোপন ভালোবাসায়।

আমার সকল নিয়ে বসে সর্বনাশের আশায়।

আমি তার লাগি পথ চেয়ে আছি পথ যে জন ভাসায়।

পারমিতা গান শুনতে শুনতে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। সাত সকালে মোবাইলটা বেজে উঠল। আননোন নাম্বার। ও পাশ থেকে শুভ শুভ শুভ জন্মদিন। পারমিতা হ্যালো কে বলছেন? গেইস কর কে হতে পারে? পারমিতা, আমি বুঝতে পারছি না প্লিজ বলেন।

ওপাশ থেকে। আকাশ। উত্তেজনায় পারমিতার হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে যায়। কাঁপা হাতে আবার মোবাইল উঠিয়ে নেয় পারমিতা। ঐ পারে হাসির শব্দ। কেমন চমকে দিলাম। জন্মদিনের সারপ্রাইজ। পারমিতা বিস্ময়ে বিমূঢ়। কপট রাগে তুমি আমাকে বলনি কেন? আসবে তুমি? আকাশ, তাহলে আর সারপ্রাইজ হবে কিভাবে? শোন বিকেল ৩টায় ধানমণ্ডি ২৭/ নান্দুসে দেখা হবে।

পারমিতার গায়ের রঙ একটু চাপা। আকর্ষণীয় ফিগার। চোখ দুটি মনে হয় অতল জলের আহ্বান। সবচেয়ে সুন্দর তার চুল। দীর্ঘ কেশ। যা এখন আর দেখা যায় না। যে কোনো কেউ একবার দেখলে আরেকবার ঘুরে তাকাবে। পারমিতা নিজের সৌন্দর্যের কখনো পাত্তা দেয় না।

পারমিতার সাদা শাড়ি পছন্দ। নেটের শাড়ি। লম্বা হাতা ব্লুাউজ। আজ পারমিতার প্রিয় জিনিসগুলো ইউস করবে। কানে ডায়মন্ডের ছোট দুল। হালকা মেকআপ। একহাতে ঘড়ি। অন্য হাতে ব্রেসলেট। প্রিয় পারফিউম াবৎংধপষ. সংগ্রহের সবচেয়ে পছন্দের এঁপপরর ব্যাগটা নিয়ে বের হলো পারমিতা।

সারা রাস্তা আকাশকুসুম কল্পনায় রাঙিয়ে ভেসে ভেসে চলে এল আকাশের সাথে দেখা করতে। অজানা ভালোলাগায় সবকিছু যেন কেমন অস্তিরতায় ছেয়ে আছে। বিন্দু বিন্দু করে টেনশন ঝরে পড়ছে সারা গায়ে। ভালোলাগার মানুষটাকে এই প্রথম দেখবে। দেখতে কেমন হবে? পারমিতা তো চিনে না। কিভাবে চিনবে? আকাশ বলছে সে গ্রিন শার্ট পরবে। আকাশই চিনে নেবে। তারপরও সারাটা পথজুড়ে গভীর উৎকণ্ঠা। এক মিনিট মনে হচ্ছে এক যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে। উফ সময় এত দীর্ঘ হয় কেন? টানটান উত্তেজনা পারমিতার ভেতর উপচে উপচে পড়ছে। কল্পনার সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির খুব কাছাকাছি। একটু পরেই দেখা হবে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সাথে। নান্দুসে ঢুকেই পারমিতা চলে গেল বাঁ দিকের রুমটার ভেতর। মোবাইলটা হাতে নিয়েছে পারমিতা ফোন করবে তখনি পেছন থেকে এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ বাড়িয়ে দিয়ে কে যেন বলে উঠল ‘শুভ জন্মদিন পারু’। ঘুরে দাঁড়াতেই পারমিতা বিস্ময়ে নির্বাক। মাথাটা অল্প একটু ঘুরে গেল পারমিতার মনে হলো পড়ে যাবে। এও কি সম্ভব? পারমিতার তারপরে আর মনে নেই। চোখ খোলার পর পারমিতা নিজেকে আবিষ্কার করে কৌশিকের কাঁধে মাথা দিয়ে পরম নির্ভাবনায় শুয়ে আছে। কৌশিক স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মিটমিট করে হাসছে। কেমন সারপ্রাইজ দিলাম মহারানী জন্মদিনে? গিফটও বলতে পার। পারমিতা আদুরে আর একটু হলে আমি খুশিতে মরে যেতাম। তুমি আগের মতোই আস্ত একটা পাগল। হ

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj