ঘর-বাহির : পূরবী বসু

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

বার বার, কতবার, কত শতবার বল তুমি,

আমিই শুধু আপন, -তোমার একমাত্র ঘর।

বাকি সব, -উঠান, বারান্দা, সিঁড়ি, জানালা, ঘুলঘুলি,

সব, সবই নাকি পর।

শিশির ভেজা দুর্বা-সিক্ত পায়ে উঠান মাড়িয়ে

বারান্দায় উঠে এসে রোজ ভোরে সূর্যোদয় দেখ তুমি।

কখনো একা নও। সঙ্গে বা অদূরে থাকে কেউ।

তবে ওরা পর। আপন কেবল আমি; তোমার স্বভূমি।

সন্ধ্যা নামে। আঁধারি আকাশে ফোটে চাঁদ।

অজস্র চকচকে নক্ষত্র জ্বলে চারপাশে।

আমি চেয়ে থাকি অপলক চোখে।

খোলা চুলে, আনমনে রাতভর থাকি বসে;

ঘুম টোটে, বেলি ফোটে; ভুলে যাই যৎকিঞ্চিৎ খেতে!

আচ্ছা বলতো, ফুটন্ত গোলাপে ঘেরা ঐ যে উঠান,

কামিনী-রাঙা টুকটুকে ঐ সিঁড়ি, ঐ যে নাতি-দীঘল বারান্দা,

ঘুলঘুলির খোপে খোপে জমে থাকা সহস্র বায়ু-কণা,

বিকেলের স্নিগ্ধ রোদ টেনে আনা ঐ যে খোলা জানালা!

ওরা যদি তোমাকে গা-পেতে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে

প্রমোদে, উল্লাসে, রঙ্গ-রসে না উঠতো মেতে,

তুমি কি পারতে শুধু ঘরের টানে ওদের ছেড়ে বেরিয়ে যেতে?

নিঝুম রাতে নিঃশব্দে এসে দাঁড়াতে কি আবার এই জীর্ণ কুটিরে?

ফিরে পেতে তোমার ‘একমাত্র আপন’ মানুষটিরে?

আমি বলি, না, ওরা আছে বলেই তুমি আজ পূর্ণ।

আমি বলি, শোন, বাহির করেছে তোমার অন্দর সম্পূর্ণ।

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj