রোজায় চিকিৎসা

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০১৫

এক রাতে চিকিৎসকের চেম্বারে আগত ব্যক্তি বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব, আপনার চিকিৎসায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো আছি। রমজানে রোজা রাখতে পারব কিনা এবং ওষুধ কিভাবে খাব জানতে চাই।’ চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের পর জানালেন, ‘আপনি রোজা রাখতে পারবেন, অসুবিধা হবে না ওহ ঝযধধ অষষধয. তবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।’ রোজা ইসলামের ৫টি মৌলিক স্তম্ভের একটি যা পালন করা সহজ, অর্থসাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যকর। রমজান এবং রমজানের পূর্বে রোগীদের কাছ থেকে আসা এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়ার জন্য চিকিৎসককে প্রস্তুত থাকতে হয়। ধর্ম এবং বিজ্ঞান এক অপরের বন্ধু। ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নাই। আজ যা অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস, বিজ্ঞান যখন আগামীকাল তা সঠিক বলে প্রমাণ করবে তখন মনে হতে পারে, ‘জীবনের অনেকটা সময় চলে গেল অবিশ্বাসে!’

চিকিৎসাকালীন রোজা রাখা নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে তবে প্রায় দুই দশক আগে রোজায় চিকিৎসা এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজা নিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে কিছু গুরূত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল তা আজো পালনীয়। ওই সম্মেলনের আলোকে নির্ধারিত হয়েছে রোজায় কি কি ওষুধ গ্রহণ করা যাবে, যাবে না এবং কি কি পরীক্ষা করা হলে রোজার পবিত্রতা ক্ষুণœ হবে না।

যেসব ওষুধ বা প্রক্রিয়া রোজার ক্ষতি করে না-

১. হার্টের ব্যাথার জন্য জিহ্বার নিচে নাইট্রোগিøসারিন ¯েপ্র অথবা ট্যাবলেট।

২. নাক, কান এবং চোখের ড্রপ এবং ¯েপ্র।

৩. অক্সিজেন এবং চেতনানাশক গ্যাস।

৪. চিকিৎসার জন্য ব্যবহার্য ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজ।

৫. ইসিজি, ইকো, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে করা।

৬. দরকারী পরীক্ষার জন্য রক্ত দেয়া।

৭. দাঁত তোলা ও ফিলিং করা।

৮. কাউকে রক্ত দান এবং প্রয়োজনে রক্ত গ্রহণ।

৯. হার্টের রোগ নির্ণয়ের জন্য এনজিওগ্রাম করা, রিং স্থাপন এবং চলমান চিত্র গ্রহণ করা।

১০. শরীরের কলা বা টিসু সংগ্রহ করে বায়োপসি করা।

১১. এন্ডোস্কপি করা।

১২. পায়ু ও যৌন পথে টেবলেট বা সাপোজিটরি ব্যবহার।

১৩. পরীক্ষার জন্য যৌন বা পায়ুপথে আঙুল চালনা।

রোজা রাখা অবস্থায় যা করা যাবে না-

১. শিরাপথে বা অন্য যেকোনো পথে খাদ্য উপাদান গ্রহণ করা যাবে না।

২. শিরা বা যে কোনো পথে গøুকোজ, এমাইনো এসিড বা ফ্যাটি এসিড গ্রহণ করা যাবে না।

৩. শক্তি প্রদানকারী উপাদান কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না।

হৃদরোগীদের রোজা :

দৈহিক ও মানসিক সুস্থতায় হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় রোজা রাখা যায়। রোজা রাখা অবস্থায়

হৃদরোগ সাধারণত চরম (অপঁঃব) আকার ধারণ করে না। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে, ভালো কোলেস্টারল (ঐউখ)- এর পরিমাণ ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পায়। খারাপ কোলেস্টরল কমে যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। ওজন কমে যায়।

উচ্চ রক্তচাপ ও অন্য হৃদরোগীদের ওষুধের মাত্রা ও সময় নির্ধারণ যথাযথ হতে হয়। তাই রমজানের আগেই নির্ধারিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তবে অতি উচ্চ রক্তচাপ কিংবা অসহনীয় এজাইনা (টহংঃধনষব অহমরহধ) থাকলে রোজা রাখার ব্যাপারে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

শেষ কথা-

একমাস রোজা পালন দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক উন্নতির সহায়ক। স্বাস্থ্যবান নর-নারীর জন্য বাধ্যতামূলক। রোজা মানুষের দৈনিক কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলায় আনার পাশাপাশি নিষিদ্ধ কর্ম থেকে বিরত রাখে। মনে রাখতে হবে, ধর্ম পালনের জন্য দেহ ও মনের সুস্থতা প্রয়োজন। তীব্র অসুস্থ অবস্থায় রোজা পালন না করে সুস্থ হওয়ার পর তা পালন করা যাবে। প্রয়োজনবোধে, চিকিৎসক এবং ইমাম/আলেম সাহেবদের পরামর্শ নিতে হবে।

হ ডা. লিয়াকত হোসেন তপন

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ

সহকারী অধ্যাপক

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj