ইউরোপে বিভাজন বিপজ্জনক : রানী এলিজাবেথ

শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : গত ৫০ বছরে জার্মানিতে তার পঞ্চম রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ গত বুধবার বার্লিনে তার সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে বলেছেন, পূর্ব এবং পশ্চিমে ইউরোপেকে বিভাজনের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার ছিল ৮৯ বছর বয়সী রানী এলিজাবেথ এবং তার ৯৪ বছর বয়সী স্বামী প্রিন্স ফিলিপের সর্বাধুনিক জার্মানি সফরের প্রথম দিন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্লিনের টেগেল বিমানবন্দরে রাজকীয় অতিথিদের ২১ বার কামান দেগে অভ্যর্থনা জানানো হয়। অতঃপর তাদের ব্রান্ডেনবুর্গ তোরণের ঠিক সামনে অবস্থিত ঐতিহ্যমণ্ডিত আডলন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রানী ও প্রিন্স ফিলিপের জন্য সেখানে রয়াল সুইটটি রিজার্ভ করা হয়েছে।

বুধবার রানী প্রথমে বার্লিনের স্প্রে নদীর ওপর ‘আয়াক্স’ নামধারী একটি খোলা লঞ্চে করে ঘোরেন। ঘণ্টা খানেকের ট্যুর। লঞ্চে ছিলেন রানী ও প্রিন্স ফিলিপ এবং জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক ও তার জীবনসঙ্গিনী। রানীকে দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আপামর জনতা।

পরে রানীকে চ্যান্সেলরের দপ্তরে স্বাগত জানান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। অত্যাধুনিক স্থাপত্যের চ্যান্সেলারির বারান্দায় দাঁড়িয়ে বার্লিন প্রাকার কোথায় ছিল, রানীকে তা দেখান ম্যার্কেল: ‘ওই ট্রেনটা যেখান দিয়ে যাচ্ছে, ওখানেই ছিল বার্লিন প্রাচীর। পূর্ব জার্মানিতে আমি থাকতাম ওই রেলওয়ে লাইনের ঠিক ২০০ মিটার পেছনে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও এ দিন বার্লিনে পৌঁছান এবং দ্বিপ্রহরে ম্যার্কেলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। সন্ধ্যার নৈশভোজে উভয়েই উপস্থিত ছিলেন, রানী যখন তার ভাষণে বলেন যে তিনি তার জীবনে ‘ইউরোপের সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে ভালো, দুটি দিকই দেখেছেন। আমরা দেখেছি, কত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি খারাপ থেকে ভালোর দিকে যেতে পারে, কিন্তু আমরা জানি যে যুদ্ধপরবর্তী বিশ্বের সুযোগ-সুবিধাগুলো বজায় রাখার জন্য আমাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাসংক্রান্ত গণভোটের সময় নীরব ছিলেন। এবার যখন ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ সম্পর্কে গণভোটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং ক্যামেরন ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে ইইউের প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যাপারে তার ধ্যানধারণা পেশ করে বেড়াচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে বার্লিনে রানীর এই মন্তব্য কিছুটা রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে বৈকি। অন্তত ভাষ্যকারদের তা-ই ধারণা।

জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক-ও সরাসরি ‘ব্রেক্সিট’-এর ব্যাপারে তার চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রিটেনকে প্রয়োজন,’ নৈশভোজে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন গাউক। এই কারণে ব্রিটেনের কাম্য সংস্কারগুলো সম্পর্কে গঠনমূলক সংলাপ অত্যাবশ্যক। জার্মানি সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এই সংলাপে সহায়তা করবে। কেননা ব্রিটেন ইউরোপের অঙ্গ।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj