রমজানে ওষুধ সেবন

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০১৫

রমজান মাসে মুসলমান রোগীদের জন্য প্রেস্ক্রিপশন করা এবং ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর (সুবহে সাদিক) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এ পানাহারের মধ্যে মুখ দিয়ে খাওয়ার ওষুধ অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া মাংসে বা শিরায় দেয়ার ইনজেকশনও রোজা রাখা অবস্থায় গ্রহণ করা নিষেধ।সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস প্রতি বছরের মতো এবারো হাজির হয়েছে তার সওগাত নিয়ে। এ মাসে মুসলমানরা সারাদিন রোজা রেখে আল্লাহর ইবাদত করে সময় কাটান। রমজান মাস অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। সুস্থ দেহ ও মনের জন্যও রোজার গুরুত্ব অতুলনীয়। রোজা রাখলে মেদভুঁড়ি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে খারাপ চর্বির পরিমাণ কমে। রমজান মাসের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং ইবাদত ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরের ওজন ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া রমজান মাসের পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত পানাহার বিভিন্ন পেটের পীড়া থেকে আমাদের রক্ষা করে।

রমজান মাসে মুসলমান রোগীদের জন্য প্রেস্ক্রিপশন করা এবং ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর (সুবহে সাদিক) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এ পানাহারের মধ্যে মুখ দিয়ে খাওয়ার ওষুধ অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া মাংসে বা শিরায় দেয়ার ইনজেকশনও রোজা রাখা অবস্থায় গ্রহণ করা নিষেধ।

রমজান মাসে রোগীরা যাতে সঠিকভাবে পানাহার করে কিংবা সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহার করে সেজন্য চিকিৎসকদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ মাসে প্রেসক্রিপশনে প্রয়োজনমত রদবদল করা আবশ্যক। বর্তমানে বিভিন্ন রোগের ডেইলি সিংগল ডোজ (২৪ ঘণ্টায় একবার) ওষুধ কিংবা সাসটেইন্ড বা টাইমড রিলিজড ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এ মাসে রোগের ধরন ও প্রকৃতি অনুসারে এসব ডেইলি সিংগল ডোজ বা বিডি ডোজ (২৪ ঘণ্টায় দুবার) ওষুধ প্রয়োজনমত প্রেসক্রিপশন করতে হবে। রমজান মাসের পানাহার বিশেষ করে ইফতার হতে হবে সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত। এ সময় পেট ভর্তি করে খাওয়া উচিত নয়। রাতে কম করে হলেও কিছু খাওয়া উচিত। সেহরির সময় না খেলে সারদিনে শরীর দুর্বল হয়ে পরতে পারে। এ সময় বেশি মাত্রায় খাদ্য গ্রহণ করলে বদহজম হতে পারে।

রমজান মাসে ঠিকমত নিয়ম পালন না করার জন্য অনেক রোগী ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকেন। রোজার সময় নিজে নিজে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। রমজানের আসার পূর্বেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা, খাবার ও ব্যায়ামের তালিকা নির্ধারণ করে নেয়া প্রয়োজন। এ সময়ে রোগীদের উচিত হবে চিকিৎসকের কাছে থেকে তার অসুখের প্রকৃতি, ওষুধ সেবন এবং পানাহার সংক্রান্ত নিয়মাবলি বুঝে নেয়া।

হ ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান খান

জনস্বাস্থ্য ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

সহকারী রেজিস্ট্রার, হৃদরোগ বিভাগ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj