হিলারি দোটানায়, জেব বাজিমাৎ করতে পারেন

শনিবার, ২০ জুন ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : হোয়াইট হাউসের গদির লড়াই এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যদিও ভোটপর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে। ডেমোক্রেটিক শিবিরে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকলেও জেব বুশের পাল্লা ভারি বলে মনে করেন গ্রেহেম লুকাস।

আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার সূচনা হিলারি ক্লিনটন ও জেব বুশ। কারো জন্যই তেমন ভালো হয়নি। দুজনকেই নার্ভাস দেখাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে উপদেষ্টারা তাদের ভালো করে শিখিয়ে-পড়িয়ে প্রস্তুত করেছেন। অন্যদের লেখা ভাষণ তারা অক্ষরে-অক্ষরে পড়ে শোনাচ্ছেন। অবশ্যই অনেকটা পথ চলা বাকি। আধুনিক যুগে আমেরিকার দুই বিখ্যাত রাজনৈতিক বংশের এই দুই প্রার্থীকে সবার আগে নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে হবে। প্রাইমারি পর্যায়ে দলের বাকি প্রার্থীদের জোরালো মোকাবেলা করতে হবে। তারা নিজ নিজ দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে তবেই এই দুই পরিবারের সরাসরি সংঘাতের প্রশ্ন উঠবে।

বুশ বংশের ঝুলিতে দুজন এবং ক্লিনটন বংশের ঝুলিতে একজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকের বিপুল জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন স্ত্রী হিলারির প্রচার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এটা ধরে নেয়া যায়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের স্থপতি জর্জ ডাব্লিউ বুশ অত্যন্ত বিতর্কিত এক চরিত্র। জেব বুশের বাবা জর্জ ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকলেও তিনি রোনাল্ড রেগানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেই বেশি পরিচিত। অর্থাৎ জনমানসে তার নিজস্ব কোনো পরিচয় নেই। ইরাক যুদ্ধের দুবছর পর ১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিল ক্লিনটনের হাতে পরাজয়ের ফলে জর্জ বুশ অনেকটা অখ্যাত রয়ে গেছেন। ফলে ছেলে জেবের প্রচার অভিযানে তার কারণে কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

তবে মানুষ নেতা নির্বাচনের সময় অতীতের দিকে বেশি তাকিয়ে দেখে না। মানুষ তার পকেটের জোর দেখে, চাকরির বাজারে সুযোগের সম্ভাবনা দেখে, জীবনযাত্রার মান নিয়ে ভাবে। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটন নিজের প্রচার অভিযানের কৌশল সম্পর্কে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার সময় একটা মূল্যবান কথা বলেছিলেন। ‘ইটস দ্য ইকোনমি স্টুপিড’ অর্থাৎ আসল কথা হলো অর্থনীতি। ফার্স্ট লেডি হিসেবে হিলারি যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। বারাক ওবামার প্রথম কার্যকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও তিনি ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো কোনো সরকারের নেতৃত্ব দেননি বা কোনো বড় অর্থনীতির প্রয়োজন নিয়ে কাজ করেননি। প্রথম নারী হিসেবে দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাও তাকে বেশি সাহায্য করবে বলে মনে হয় না। ২০০৮ সালে ওবামার বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতার সময়ও সেই আবেগ কাজ করেনি। তার ওপর ডেমোক্রেটিক দল সম্প্রতি আরো বামঘেঁষা হয়ে পড়েছে। প্রচার অভিযানে তার প্রথম ভাষণ শুনলে মনে হবে, দলের মনোনয়ন পেতে তিনি নিজেও বাম রাজনীতির দিকে এগোনোর পরিকল্পনা করছেন। এর যথেষ্ট কারণও রয়েছে।

গবেষণার ফল অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বিদায়ী প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের ওপর নির্ভর করলে আগামী বছরে ৪ শতাংশ পর্যন্ত ভোট হারাতে পারেন। অর্থাৎ ক্লিনটনকে ওবামার সমর্থকদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। কৃষ্ণাঙ্গ, ল্যাটিনো ও উদারপন্থীদের বৃত্তের বাইরেও তাকে সমর্থন খুঁজতে হবে। যেমন শ্রমিক সংগঠন। এ কারণে হিলারি ওবামার পরিকল্পিত ট্রান্স-অ্যাটলান্টিক সহযোগিতার সমালোচনা করেছেন। বামপন্থী শিবিরের অনেকে মনে করেন, এর ফলে আমেরিকায় অনেকে চাকরি হারাবে। এই প্রেক্ষাপটে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র সব মার্কিন নাগরিকের আওতায় আনতে হবে। অন্যদিকে তিনি আবার মধ্যপন্থীদেরও উপেক্ষা করতে পারেন না, কারণ নির্বাচনে জয়-পরাজয় অনেকটা তাদের ওপর নির্ভর করে। এটাই তার উভয়-সংকট।

অন্যদিকে জেব বুশ ফ্লোরিডা রাজ্যের অত্যন্ত সফল গভর্নর হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দুটি কার্যকালে তিনি রাজ্যের কোষাগার বৃদ্ধি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। ভাই জর্জ ডাব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছেন।

২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় ভাইয়ের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার সময় জেব মাথা নিচু রেখেছিলেন। প্রচার অভিযানের সূচনার সময় তিনি অবশ্য নিজের পরিবারকে এড়িয়ে যাননি। বাবা-মাকেও তাতে শামিল করেছেন তিনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনিই সম্ভবত রিপাবলিকান দলের একমাত্র প্রার্থী, যিনি সেই সব মধ্যপন্থীদের সমর্থন পেতে পারেন, যাদের মনে হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে সংশয় রয়েছে।

এখনো অনেক সময় রয়েছে বটে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্বের লড়াই যে বেশ জমজমাট হবে, এখন থেকেই তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj