ময়লা জমা দিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে যান

শনিবার, ২০ জুন ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : সমস্যা দুটি, সমাধান একটি। এমনই এক উপায় বের করেছেন ইন্দোনেশিয়ার তরুণ চিকিৎসক গামাল আলবিনসাঈদ।

সমস্যা দুটির একটি যেখানে সেখানে পড়ে থাকা আবর্জনা। আর অন্যটি বিমা না থাকার কারণে গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবা না পাওয়া। এই দুই সমস্যার সমাধান বের করেছেন আলবিনসাঈদ। সেটি হলো, গরিব মানুষরা আবর্জনা সংগ্রহ করে ক্লিনিকে নিয়ে যাবে। তার বিনিময়ে তারা চিকিৎসা সেবা পাবে। আর ক্লিনিক ওই ময়লাগুলো রিসাইকল করে সার ও কম্পোস্ট তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ আয় করবে। এর মাধ্যমে ক্লিনিক ওই দরিদ্র মানুষগুলোকে দেয়া চিকিৎসাসেবার বিনিময়মূল্য ফিরে পাবে। এতে লাভ হবে দুটো। এক, যত্রতত্র পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার হবে। আর দুই, অর্থ না থাকা সত্ত্বেও গরিবেরা চিকিৎসাসেবা পাবে।

বছর দুয়েক আগে বের করা আলবিনসাঈদের এই উপায়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিমাহীন মানুষ চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘ফাস্ট কোম্পানি’। এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই চিকিৎসা বিমা সুবিধার আওতার বাইরে রয়েছে।

আলবিনসাঈদের নিজের কোম্পানি ‘গার্বেজ ক্লিনিক্যাল ইনসুরেন্স’ এর ক্লিনিকসহ আরো চারটি ক্লিনিক এভাবে গরিবদের চিকিৎসা দিচ্ছে। দুই কেজির একটু বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল কিংবা অন্য প্লাস্টিক অথবা ৫ কেজি কার্ডবোর্ড জমা দিলে ওই ক্লিনিকগুলোতে দুই মাস পর্যন্ত মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যায়।

আলবিনসাঈদ জানান, ২০০৫ সালের একটি ঘটনা তাকে এই উপায় বের করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সে সময় তিন বছরের একটি মেয়ে বিমা না থাকার কারণে ডাক্তারের কাছে যেতে না পারায় ডায়রিয়ায় মারা গিয়েছিল। দুঃখজনক এই ঘটনার পর বিমা সমস্যার সমাধানে কয়েকটি উপায় বের করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো সফল না হলেও বর্তমান এই মডেলটি সফলতার মুখ দেখেছে।

আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিওতে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মালং শহরের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। আলবিনসাঈদ জানান, ওই শহরের মোট আবর্জনার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ময়লা নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়। বাকিগুলো যত্রতত্র পড়ে থাকে। তিনি বলেন, তার বের করা উপায়ে হয়তো সমাজের অনেক বড় উপকার হচ্ছে না, কিন্তু গরিব মানুষগুলোর জীবনে এর বড় প্রভাব পড়ছে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj