ফ্যাশন ও স্বাস্থ্য সৌন্দর্য

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০১৫

সৌন্দর্য সচেতনতা ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি। কিন্তু এই আধুনিক যুগে ছেলেরাও কম যায় না। নগরায়ন, কর্পোরেট পেশা, ডেস্ক জব, নানাবিধ কারণে আমরা আমাদের ফিগারটাকে ঠিক রাখতে পারি না। ফিগারের সাথে কিন্তু শরীর, স্বাস্থ্য ও মন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যাবধি সুন্দরের জয় সব জায়গায়।

যারা একটু স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিট থাকতে চান তাদের কাছে মেদভুঁড়ি এক মারাত্মক সমস্যা। শুধু তাই নয়, ফ্যাশন সচেতনদের কাছেও ভুঁড়ি এক বিড়ম্বনা।

ধরুন আপনি শার্ট ইন করছেন বা শাড়ি কাপড় পরছেন, কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে বেরিয়ে আসছে ভুঁড়ি। কিংবা একটু ফিটিং ড্রেস পরেছেন এ ভুঁড়িতে আপনার সব স্টাইল শেষ। সমালোচকরা তো ভুঁড়িতে চিমটিও কেটে ঠাট্টা করছে। আর অন্যদিকে মেদভুঁড়িদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো রয়েছেই।

ভুঁড়ি হৃৎপিণ্ড, শ্বাসযন্ত্র, গলব্লুাডার এমনকি মস্তিষ্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। এটা হার্ট এটাক, ডিমেনশিয়া (মস্তিষ্কের রোগ), ডায়াবেটিস, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের অন্যতম কারণ। তাই সুস্থ ও সবল থাকতে হলে ভুঁড়ি দূর করা জরুরি। খুব সহজেই এই বিড়ম্বনাকে তাড়ানো যায়। এর জন্য দরকার ইচ্ছা ও অধ্যবসায়।

ফিগার ঠিক রাখার জন্য নিম্নলিখিত হেলথ টিপস মেনে চলতে পারেন :

১. নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। খাদ্য তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার বৃদ্ধি করুন, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে আনুন, ভাজা-পোড়া ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করুন। খাবারের শুরুতে ১-২ গøাস পানি পান করুন। খাবার শেষে অন্তত ১/২ ঘণ্টা পর পানি পান করবেন। লালমাংস (চার পা বিশিষ্ট পশুর মাংস), দোকানের কেনা মিষ্টি, ঘি, ডালডা, ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার কম খাবেন। ফলমূল ও শাক-সবজি বেশি করে খাদ্য তালিকায় রাখুন। একবার বেশি করে খাওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেতে পারেন। রাতে আহার তাড়াতাড়ি করা উচিত ও আহারের ১-২ ঘণ্টা পর শোবার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. নিয়মিত ও পরিমিত নিদ্রা সুস্বাস্থ্য ও ফিগারের জন্য খুবই প্রয়োজন। দিনে শোবার অভ্যাস ত্যাগ করে রাতে তাড়াতাড়ি শোবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রত্যহ ৬-৭ ঘণ্টা পর শোবার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. যাদের মেদ বা ভুঁড়ি জমেছে তারা নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন। তার জন্য আপনি একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। মনে রাখবেন ভুল ব্যায়াম ও অনিয়ন্ত্রিত জিম এক্সারসাইজ আপনার সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৪. দৈনিক নিয়মিত সমতল জায়গায় হাঁটুন। মনে রাখবেন হাঁটা সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম। নিয়মিত অন্তত ১-২ ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৫. প্রাতঃকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন ও সকালে স্কুল, কলেজ বা অফিসে যাওয়ার পূর্বে গোসল সেরে নিন।

৬. লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

৭. সাইক্লিং, সাঁতারের সুযোগ থাকলে নিয়মিত করুন।

৮. দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরার সময় সোজা ও সঠিকভাবে করুন। মনে রাখবেন চলাফেরা শারীরিক কাজের ক্ষেত্রে আপনার শরীরের অবস্থানগত ভুলের কারণে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার বসা, শোয়া, কম্পিউটিং, দৈনন্দিন কাজ অথবা প্রফেশনাল কাজে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে আপনি একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

৯. দেহ-মন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে কোনো প্রতিকূল মানসিক চাপে নিজেকে দূরে না সরিয়ে ধৈর্য সহকারে মোকাবেলা করুন।

১০. সর্বোপরি সুস্থ ও সুন্দর চিন্তা করুন ও প্রাণ খুলে হাসুন, এতে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

হ ডা. মো. সফিউল্যাহ্ প্রধান

ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন বিষেশজ্ঞ

চেয়ারম্যান, ডিপিআরসি

২৯ প্রবাল হাউজিং, রিং রোড,

মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj