শাস্তি পেতেই হবে বাদাউয়ির আদালতের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : মানবাধিকারকর্মী ও ব্লুগার রাইফ বাদাউয়ির বিরুদ্ধে শাস্তি বলবৎ রেখেছেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত। আবারো উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। শাস্তি মওকুফের দাবি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন,যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স।

২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি সৌদি আরবের মানবাধিকারকর্মী ও ব্লুগার রাইফ বাদাউয়ি। সে বছর ব্লুগ লিখে দেশের প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন এবং ইসলাম ধর্মের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে আদালত ৩১ বছর বয়সী ব্লুগারের বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাভোগ এবং ১ হাজার দোররার শাস্তি ঘোষণা করে। তখনো প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। উঠেছিল শাস্তি প্রত্যাহারের দাবি। কিন্তু শাস্তি প্রত্যাহার না করে শাস্তি কার্যকর শুরু করেন সৌদি আদালত।

এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ধাপের ৫০ বার দোররা মারা হয় বাদাউয়িকে। তার স্ত্রীর আশঙ্কা ছিল, পর্যায়ক্রমে আরো ৯৫০ বার বেত্রাঘাত করা হলে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া মানবাধিকারকর্মীর জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কিছু দেশ শাস্তি প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার করার আহ্বান জানিয়েছিল। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শাস্তি প্রত্যাহার বা হ্রাস করা সম্ভব নয়, রাইফ বাদাউয়ির বিরুদ্ধে আগের রায় পুরোপুরিই বলবৎ থাকবে। ইইউয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটা অগ্রহণযোগ্য এবং পুরোপুরি মানবাধিকারের পরিপন্থী। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় এই জোট জানিয়েছে, বাদাউয়ির শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য সম্ভব সব ধরনের চেষ্টাই তারা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সও সৌদি আদালতের এই রায়ে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, গত জানুয়ারিতেও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বাদাউয়ির শাস্তি প্রত্যাহার এবং মামলার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র আবার জোরালোভাবে সেই দাবি জানাবে।

মানবাধিকাকর্মী এবং ব্লুগার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে খুব পরিচিত রাইফ বাদাউয়ি। ২০১৪ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ‘প্রেস ফ্রিডম’ এওয়ার্ড জেতেন তিনি। এ বছর ডয়চে ভেলে প্রথমবারের মতো ‘বাক স্বাধীনতা পুরস্কার’ দিচ্ছে, বাদাউইকেই দেয়া হয়েছে এই স্বীকৃতি।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj