সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ইউরোপীয় উদ্যোগ

শনিবার, ১৩ জুন ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : সাইবার অপরাধ ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে ‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ বা ইউরোপোলের একটি অংশ এটি। যার বাজেট বছরে ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো।

পাসওয়ার্ড ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষ। কিংবা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে বিকল করে দিয়েছে কোম্পানির সব তথ্য। অথবা ব্যাংকের একাউন্ট হ্যাক করে সব টাকা চুরি করে নিজের একাউন্টে নিয়ে গেছে হ্যাকার। এমন দৃশ্য সিনেমায় দেখেছেন নিশ্চয়ই?

কেবল সিনেমা নয়, বাস্তব জগতেও এসব ঘটনা অহরহই ঘটছে। বিশেষ করে আমেরিকা আর ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে এসব ঘটনা এখন অত্যন্ত সাধারণ।

নানা রকম অপরাধ…

পত্রিকার পাতায় এমন খবর প্রায়শই চোখে পড়ে যে, রাতে যিনি নিজের একাউন্টে কোটি টাকা রেখে ঘুমোতে গেলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন একাউন্ট একেবারে ফাঁকা। কোনো টাকা নেই। মনে চোট পেলেও কিচ্ছু করার নেই সে ভুক্তভোগীর। কারণ, একাউন্ট ‘হ্যাক’ হয়ে গেছে।

এই ‘হ্যাকিং’ এখন আর শুধু ব্যাংকের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ফেসবুক, টুইটার বা ব্লুগের একাউন্টও যোগ হয়েছে হ্যাকারদের তালিকায়। এ ছাড়া বিভিন্ন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির ঘটনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানান সব ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে কম্পিউটার বা কোনো অফিসের পুরো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সিস্টেমকে বিকল করে দেয়ার মতো মারাত্মক ঘটনাও।

সাইবার অপরাধের ঘটনাটা এখানেই শেষ নয়। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রও যোগ হয়েছে সাইবার অপরাধ জগতে। কারণ, সেই পুরনো পদ্ধতির খুন-খারাবিতে না গিয়ে ঘরে বসে ব্যাংক আইডি, পাসওয়ার্ড এবং অন্যের প্রোফাইল চুরি করাটা এখন আরো বেশি আধুনিক আর ঝামেলাবিহীন।

সাইবার অপরাধ : ইউরোপে উদ্বেগ…

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের কারণে শুধু ইউরোপেই বছরে ক্ষতি হয় অন্তত ৯২৯ বিলিয়ন ডলার।ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় সাইবার অপরাধীদের দ্বারা।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সাইবার অপরাধ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ইউরোপে। সাইবার অপরাধ বেড়ে চলার এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুইডিশ রাজনীতিক সেসিলিয়া মালমস্ট্রোম। তার মতে, এই ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভরা। আর এই ভয় সর্বত্র ছড়ানো। কেননা এখন, অনলাইনে কেনাকাটা করায় ভয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যোগ দিতে ভয় এবং ভয় দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারেও। সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হ্যাকাররা বা সাইবার অপরাধীরা যখন এক দেশে বসবাস করে অন্য দেশে সাইবার অপরাধ ঘটায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।

‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার…

তাই ইউরোপের সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গঠন করা হয়েছে ‘ইউরোপীয়ান সাইবার ক্রাইম সেন্টার’। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’, ইউরোপোলের একটি অংশ। এর দপ্তর দ্য হেগ শহরে। আর এই কমিশনের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো।

সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে এই কমিশনে যোগ দিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫৫ জন তদন্তকারী। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ ইয়ান ফিলিপ অ্যালব্রেশটের মতে, ‘এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তবে এই কমিশনে আরো বেশি সংখ্যক তদন্তকারী নিয়োগ করা প্রয়োজন।

প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ…

ইউরোপজুড়ে ঘটে চলা সাইবার অপরাধগুলো ঠেকাতে ইইউয়ের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে আরো সমন্বিত ও একাত্ম হয়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ‘ইউরোপীয়ান নেটওয়ার্ক এন্ড ইনফরমেশন সিকিউরিটি এজেন্সি’-র নির্বাহী পরিচালক উডো হেল্মব্রেশট।

উডো বলেন, ক্রেডিট কার্ড বা তথ্য চুরি হয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে মাঠে নামা যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে কিছু করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আর এই সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টিকে তিনি একটি বিরাট ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবেই মনে করছেন। সমন্বিতভাবে কাজে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সাইবার অপরাধ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের দিকে এগুবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর সেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তেই ইউরোপ নিয়েছে নিজেদের প্রস্তুতি।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj