ঠোঁটের ও মুখের মারাত্মক রোগ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০১৫

বিপজ্জনক ঠোঁটের রোগ

ঠোঁটের মারাত্মক রোগগুলোর একটি হলো ডিসকয়েড লুপাস ইরাইথিমেটোসাস। সংক্ষেপে ডিএলই রোগ বলা হয়ে থাকে। ডিসকয়েড লুপাস ইরাইথিমেটোসাস আলোক সংবেদনশীল ত্বকের বৃদ্ধি বা র‌্যাশ যা স্থানীয়ভাবে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, আবার চারপাশে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে। ঠোঁটে যদি ডি,লই রোগ হয় তবে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ডিএলই রোগের চিকিৎসা যথাযথভাবে না হলে স্থায়ী দাগের সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঠোঁট ও মুখের অভ্যন্তরে আলসার বা ক্ষত দেখা দিতে পারে। ভাগ্য খারাপ হলে ডিএলই স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের কারণ হিসেবে আবির্ভাব হতে পারে। এর অর্থ হলো ডিএলই রোগের চিকিৎসা গ্রহণ না করলে মুখের অভ্যন্তরে বা ঠোঁটে স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সার দেখা দিতে পারে।

ডিএলই রোগ একটি অটোইমমিউন অচলাবস্থা। অতিরিক্ত সূর্যের আলোর সংস্পর্শ এবং ধূমপান ডিএলই রোগের রিস্ক ফ্যাক্টর। শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে ডিসকয়েড লুপাস ইরাইথিমেটোসাস থেকে সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিমেটোসাস হতে পারে।

তাই ঠোঁটের ওপর বা মুখের অভ্যন্তরে কোনো লাল বা কালো র‌্যাশ বা দাগ অথবা ক্ষত বা ফুলাভাব দেখা দিলে নিজে চিকিৎসা নিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে একজন অভিজ্ঞ মুখের রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে একটু অবহেলা আপনার জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ডাউন সিনড্রোম ও মুখের স্বাস্থ্য

ডাউন সিনড্রোম জেনেটিক কারণে একটি জন্মগত অচলাবস্থা যা ক্রমোজোমের অসঙ্গতির কারণে হয়ে থাকে। ডাউন সিনড্রোমে শারীরিক অস্বাভাবিকতা এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার সমন্বয় দেখা যেতে পারে। ডাউন সিনড্রোমে বুদ্ধিমত্তার অক্ষমতা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে যা চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব।

বাবা-মা থেকে জিন তাদের সন্তানে সঞ্চালিত হয়ে থাকে। এ জিন বহন করে থাকে ক্রোমোজোম। যখন শিশুর কোষ গঠিত হয় তখন প্রত্যেক কোষ সাধারণত ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম গ্রহণ করে থাকে। এর অর্ধেক বাবা আর অর্ধেক মা থেকে আসে। শিশুদের মধ্যে যারা ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হয় তাদের ক্ষেত্রে একটি ক্রোমোজোম ঠিকভাবে আলাদা হয় না। শিশুর গঠন শেষ হয় একুশ নম্বর ক্রোমোজোমের ৩টি কপির মাধ্যমে, যেখানে কপি হওয়ার কথা ছিল স্বাভাবিক নিয়মে দুটি। এ অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোম সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে যার কারণে মস্তিস্কে এবং শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

১. ডাউন সিনড্রোমের শিশুদের জন্মের সময় জিহ্বায় ফোলাভাব থাকতে পারে।

২. পরবর্তীতে এ রোগীদের ফাটলযুক্ত জিহ্বা বা ফিসারড টাং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. ডাউন সিনড্রোম রোগীদের স্থায়ী দাঁত ওঠার সময় প্রায়ই অনিয়মিত বা বিলম্বিত হতে পারে।

৪. রোগীর দাঁতের গোড়া ছোট হয়ে থাকে এবং কনিকাল আকৃতি হয়ে থাকে।

৫. পেরিওডন্টাল রোগে যতœ না নিলে ডাউনস্ সিনড্রোম রোগীদের দাঁত তাড়াতাড়ি পড়ে যায়।

৬. এছাড়া এ রোগীদের মুখে অ্যাপথাস আলসার, ওরাল ক্যান্ডিডা সংক্রমন এবং আলসারযুক্ত মাড়ি রোগ দেখা যেতে পারে।

ডাউন সিনড্রোম রোগীদের যেহেতু বুদ্ধিমত্তার অক্ষমতা পরিলক্ষিত হয় অর্থাৎ শিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তাই মুখের যতেœ পরিবারের সবার তাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

হ ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

শাহ-আলী হাসপাতাল, মিরপুর-১, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj