আজকের কাগজ ভোরের কাগজের সেই সব দিন

শুক্রবার, ২৯ মে ২০১৫

দৈনিক ‘ভোরের কাগজ’ তার ২৪ তম প্রতিষ্ঠাকাল উদযাপন করবে আসছে ২৯ মে, যদিও কাগজটির আত্মপ্রকাশ ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনের সংখ্যাটি যথাসম্ভব বৃহৎ কলেবরে প্রকাশ করবে বলে জেনেছি। কাগজের বর্তমান সম্পাদক অনুজপ্রতীম বন্ধু শ্যামল দত্ত যখন ওই বিশেষ সংখ্যার জন্য লিখতে অনুরোধ জানাল তখন কোনো কিছু না ভেবে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম লিখব বলে। আজ এত বছর পর অতীত জীবনের ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম অনেক রোমাঞ্চকর সুপ্ত স্মৃতি হঠাৎ যেন জেগে ওঠে চোখের সামনে ভেসে বেড়াতে শুরু করেছে। সম্ভবত এভাবেই কিছু স্মৃতি আছে যা এক বিশেষ মুহূর্তে মনে দাগ কাটে এবং যা কখনে একেবারে হারিয়ে যায় না, চাপা পড়ে থাকে এবং কোনো বিশেষ মুহূর্তে আবার আকাশের সাদা মেঘের মতো চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। একে নস্টালজিয়া বললে কম বলা হবে, বরং এরচেয়ে ঢের বেশি জীবনঘনিষ্ঠ।

আমি খুব সাদামাটা মানুষ, পত্রিকার রিপোর্টার ছিলাম। অবসর নিয়ে এখন কলাম লিখি। সমাজের কেউ হয়ে উঠতে পারিনি। তবু বলছি, সেদিনের ‘আজকের কাগজ’ এবং দীর্ঘ দুই যুগের ‘ভোরের কাগজ’ আমার জীবনের একটা বিশেষ সময় ধরে রেখেছে। ‘আজকের কাগজ’ এখন আর দেখি না, তবে ‘ভোরের কাগজ’ তেমনি সাহসী ভূমিকা ধরে রেখে প্রকাশিত হচ্ছে। লড়াই করছে সব প্রকার অসুন্দরের বিরুদ্ধে।

সেদিনের ‘আজকের কাগজ’ এবং আজকের ‘ভোরের কাগজ’-এর উত্থান এবং দ্রুত সচেতন সমাজ-মানুষকে আকৃষ্ট করার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসা এক ঝাঁক মেধাবী, আধুনিক, রুচিবান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে আপসহীন তরুণ-তরুণীর মিডিয়া ভুবনে আবির্ভাব। এরা যেমন মিলিটারি এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তেমনি খালেদা জিয়ার বিএনপি-জামায়াতের পশ্চাৎপদ রাজনীতির বিপরীতে রাজপথে লড়েছেন, তেমনি নিউজ টেবিলে বসে সাহসের সঙ্গে কলম চালিয়েছেন। কারণ তাদের চেতনায় বাঙালির হাজার বছরে সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা, তাদের চেতনায় রয়েছেন একজন অবিস্মরণীয় মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রয়েছে অসা¤প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র এবং জয় বাংলা। বয়সের ব্যবধান সত্ত্বেও পেশার সুবাদে ওদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে অসুবিধা হয়নি। রাজপথে যেমন একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি তেমনিভাবে সেদিনের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশব্যাপী ঘুরে বেরিয়েছি দিনের পর দিন। আমাদের মিডিয়ায় ‘আজকের কাগজ’ ও ‘ভোরের কাগজ’-এর আবির্ভাব ঘটেছিল উল্কার মতো। তবে তা হঠাৎ জ্বলে ওঠে আকাশ-চরাচল আলোকিত করে আবার মুহূর্তেই স্তিমিত হয়ে যায়নি। বরং উল্কাগুলো আজো আমাদের মিডিয়ায় জ্বলজ্বল করছে। নাঈমুল ইসলাম খান, মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, শ্যামল দত্ত, সৈয়দ বোরহান কবির, শিশির ভট্টাচার্য, আহমেদ ফারুক হাসান (মরহুম), মারুফ চিনু (মরহুম), জ. ই. মামুন, আমানুদ্দৌলা, নঈম নিজাম, মুন্নী সাহা, সুমনা শারমিন, মেরিনা ইয়াসমিন, উৎপল শুভ্র, প্রভাষ আমীন, জিল্লুর রহমান, আনিসুল হক, সাযযাদ শরীফ এবং যাদের নাম মনে না থাকায় উল্লেখ করতে পারিনি তারা ক্ষমা করবেন। আমি মনে করি না এদের পরিচয় দেয়ার খুব প্রয়োজন আছে। এরা এখনো মিডিয়া জগতজুড়ে দাপটের সঙ্গে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

ওই সময় রাজপথে আমার সিনিয়র বিবিসির বাংলাদেশ প্রতিনিধি মরহুম আতাউস সামাদ, আমাদের সামাদ ভাই কিংবা দৈনিক জনকণ্ঠের বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ফজলুল বারী, লন্ডন প্রবাসী আবু মূসা হাসান, তৎকালীন অবজারভারের মরহুম আতিকুর রহমান এবং আরো অনেকের সাথে প্রায় প্রতিদিনই রাজপথে আমাদের পরস্পরের দেখা হতো। এঁদের মধ্যে এক ধাপ এগিয়ে স্বদেশ রায়ের কলামিস্ট হিসেবে আবির্ভাব এবং দাপটের সঙ্গে বিচরণ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বলা যায় কলামিস্ট হিসেবে মিডিয়ায় স্বদেশ রায়ের বিচরণ ঈর্ষণীয়।

‘আজকের কাগজ’ বেরিয়েছিল ‘ভোরের কাগজে’র আগে ১৯৯১-এর ২৪ মার্চ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কাজী শাহেদ আহমদ ঝিগাতলা মোড় থেকে কাগজটি বের করেন এবং প্রথম দিকে এর প্রাণ ছিলেন নাঈমুল ইসলাম খান ও মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু (সাবেক চিফ রিপোর্টার বাংলার বাণী), সৈয়দ বোরহান কবীর, নঈম নিজাম ও শ্যামল দত্তরা। অল্পদিনেই কাগজটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক প্রচণ্ড শক্তি হিসেবে আমাদের মিডিয়া ওয়ার্ল্ডে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অবশ্য তখন বর্তমান ‘প্রথম আলো’ সম্পাদক মতিউর রহমানও এর সঙ্গে সংযুক্ত হন বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে। তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এবং তার তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। পর্দার আড়ালে কী চক্রান্ত হয়েছিল জানা নেই, তবে কাজী শাহেদ আহমদ, মতিউর রহমান ও নাজমুল হুদার যৌথ প্রযোজনায় ১৯৯২ সালের ২৯ জানুয়ারি রাতে এক নাটক মঞ্চস্থ হয় এবং ওই নাটকে ক্লাইমেক্স হলো যে তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের লড়াই হিসেবে বা মুক্তিযুদ্ধের মিডিয়া সেক্টর হিসেবে ‘আজকের কাগজ’ বের করেছিলেন এবং অতি অল্প দিনেই সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের অর্থাৎ নাঈমুল ইসলাম খান, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুদের সবাইকে বের করে দেয়া হয়। তাদের স্থলে মতিউর রহমান চৌধুরীর (বর্তমান মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক) নেতৃত্বে একটি গ্রুপ ‘আজকের কাগজ’-এ বসে পড়ে। তখন থেকে কাগজ ব্যালান্সড নীতি গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে মতিউর রহমানও বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু ‘আজকের কাগজে’র ওই দুঃসাহসী তরুণরা দমে যাবার পাত্র নন। তারা একত্রিত হয়ে অতি অল্পদিনেই অর্থাৎ ১৯৯২ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে অফিস স্থাপন করে ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’ বের করেন, যা বহুল চড়াই-উৎরাই পার হয়ে পল্টন, বাংলামোটর হয়ে এখন মৌচাকে নিজস্ব বিল্ডিং থেকে শ্যামল দত্তের সম্পাদনায় বের হচ্ছে।

‘ভোরের কাগজে’ও একটার পর একটা পরিবর্তন চলতে থাকে। কখনো সম্পাদক মতিউর রহমান, কখনো আবেদ খান, কখনো বেনজির আহমেদ, কখনো নাঈমুল ইসলাম খান সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০৫ থেকে শ্যামল দত্তের সম্পাদনায় কাগজের প্রকাশনা অব্যাহত আছে।

‘ভোরের কাগজ’ নিয়ে যে নাটকগুলো মঞ্চস্থ হয়েছিল তার প্রথমটি ছিল কাগজটির একটি লিমিটেড কোম্পানি করে যাত্রা শুরু করে এবং প্রথমদিনের ৫ জন ডাইরেক্টর ছিলেন মতিউর রহমান, নাঈমুল ইসলাম খান, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, জিল্লুর রহমান ও মারুফ চিনু (মরহুম)। তখন নাঈমুল ইসলাম খান সম্পাদক, মতিউর রহমান প্রধান সম্পাদক। যে কোনো লিমিটেড কোম্পানি কার কত শেয়ার সব উল্লেখ করে সরকারের রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রি করতে হয়। মতিউর রহমান জয়েন্ট স্টকে গিয়ে একক মালিকানায় নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। এ সময় মতিউর রহমান ও নাঈমুল ইসলাম খানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে মতিউর রহমান নাঈমুল ইসলাম খানকে অর্থের বিনিময়ে রফা করার চেষ্টা করেন। তখন মঞ্জুরুল ইসলাম, শ্যামল দত্ত, জিল্লুর রহমান, মারুফ চিনু ও অন্যরা প্রতিবাদ করেন। তাদের এই প্রতিবাদকে ভিন্নভাবে চিত্রায়িত করে মতিউর রহমান তার জীবন বিপন্ন বলে থানায় ডায়েরি করেন। পুলিশ পর্যন্ত আসে। অবশেষে মতিউর রহমানই সম্পাদক থেকে যান এবং এক পর্যায়ে তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর (বর্তমান এমপি এবং সভাপতি, আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) কাছে বিক্রি করে দেন। তারপরই একের পর এক সম্পাদক বদল হতে থাকে এবং সর্বশেষ শ্যামল দত্তের হাতে স্থিতি লাভ করে। দ্বিতীয় নাটকটি মঞ্চস্থ করেন মতিউর রহমান একা। তিনি ভেতরে ভেতরে ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘প্রথম আলো’ বের করার কাজ শুরু করেন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এক সকালে ‘ভোরের কাগজ’কে রীতিমতো বিরাণভূমিতে পরিণত করে ১৮০ জনের মতো সাংবাদিক-কর্মচারীকে নিয়ে বেরিয়ে যান এবং তাদের নিয়ে ‘প্রথম আলো’ প্রকাশ করেন। তখন মতিউর রহমানের সঙ্গে যারা বেরিয়ে যান তাদের মধ্যে রয়েছেন মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, সানাউল্লাহ লাভলু, সুমনা শারমিন, সাযযাদ শরীফ, আবদুল কাইয়ুম মুকুল প্রমুখ। তখন শোনা গেছে ‘ভোরের কাগজ’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ‘ভোরের কাগজে’ যে যত বেতন পেতেন তার দ্বিগুণ বেতনের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মতিউর রহমান আরেকটি অনৈতিক কাজ করেছিলেন, তাহলো ভোরের কাগজ থেকে চলে যাওয়ার সময় পত্রিকায় একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন যে, “মালিকের হস্তক্ষেপের কারণে তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে পারছিলেন না বলেই ‘ভোরের কাগজ’ ছেড়েছেন।” অথচ এ জগৎ সম্পর্কে যারা সামান্যতম অবগত আছেন তারা জানেন কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি ‘প্রথম আলো’ প্রকাশের কাজ করে আসছেন। আমরা জানি মতিউর রহমানের কাছে এসব নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত নয়।

‘আজকের কাগজ’ আজ যে অবস্থায়ই থাক না কেন কিংবা এর বিলুপ্তি ঘটেছে কিনা জানি না, এসব কিছুর ঊর্ধ্বে কাগজটির কাছে আমার ঋণ হলো পেশার জীবনে এ কাগজেই আমি প্রথম কলাম লিখি। কলামটি ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের ঘাতক বুলেটের বিরদ্ধে সরাসরি ধিক্কার। তখনো আমি ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’র রিপোর্টার এবং রিপোর্টার হিসেবেও বঙ্গবন্ধু হত্যার ধিক্কার জানিয়েছি, বিচার চেয়েছি, রাজপথে সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু কলামের মাধ্যমে যেভাবে বলা যায়, নিজের মত প্রকাশ করা যায়, বিশ্লেষণ করা যায়, রিপোর্টের মাধ্যমে তা সম্ভব হয় না। রিপোর্টে নিজের মত প্রকাশ করা যায় না, অন্যের মুখ দিয়ে বলাতে হয়। তারপরও বলব ইত্তেফাক-এ যা লিখতে পেরেছি, অন্য কোনো কাগজে তা পারতাম না। ‘আজকের কাগজ’, ‘ভোরের কাগজ’, ‘জনকণ্ঠ’ ছিল ব্যতিক্রম। সে কারণেই আমি এদের কাছে কৃতজ্ঞ। পরবর্তীতে ‘ভোরের কাগজ’ বেরোলে তাতেও বেশ কিছু কলাম লিখি। হাত খুলে লিখতে পারতাম বলে উৎসাহ বোধ করতাম। ২০০১-এর পর থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় বেশ কিছুদিন আর কলাম লিখতে পারিনি। কিছুটা ব্যস্ততা কিছুতা অলসতা। তারপর ২০০৮ সালের পর বন্ধু-লেখক-গবেষক-ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন ও স্বদেশ রায়ের উৎসাহে জনকণ্ঠে কলাম লেখা শুরু করি এবং এখনো নিয়মিত লিখে চলেছি।

এ লেখায় ব্যক্তিগত উপস্থিতি একটু বেশি হয়ে গেল বলে ক্ষমা চাইছি। অবশ্য নিজের নাম ফাটাবার জন্য নয়, বরং ‘আজকের কাগজ’, ‘ভোরের কাগজ’ ও কাগজ দুটির বন্ধুদের (অনুজপ্রতীম) কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দ্বিতীয় কোনো ক্যানভাস আমি খুঁজে পাইনি। ‘ভোরের কাগজ’-এর সম্পাদক সুহৃদ শ্যামল দত্তকে ধন্যবাদ কাগজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ক্যানভাসটি আমাকে উপহার দেয়ার জন্য। কাগজ দুটির প্রতিষ্ঠাকালীন সেসব সাহসী তরুণ-তরুণী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিকেরই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, মিলিটারি শাসনের অবসান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত করা এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারই পথ ধরে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে ছড়িয়ে আজো তারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করা, অসাম্প্রদায়িকতা, আধুনিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এবং নারী নির্যাতন, হত্যা, বোমাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট, সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে মিডিয়া লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অকুতোভয় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক টেরোরিস্ট আইএস, আলকায়েদা, মুসলিম ব্রাদারহুড, আইএসআই এবং তাদের এজেন্ট জামায়াত-শিবির, হিযবুল মুজাহিদীন, হিযবুত তাহরির, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মতো যারা হাজার বছরের বাঙালি কৃষ্টি, সংস্কৃতি বিনাশীদের বিরুদ্ধে, এভাবেই আমরা এগিয়ে চলেছি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে। সালাম জানাই ওদের।

:: মুহম্মদ শফিকুর রহমান

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj