গোলটেবিল বৈঠক : ‘মানবপাচার রোধে করণীয়’

বুধবার, ২৭ মে ২০১৫

গত ২৩ মে, শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রাউন্ড টেবিল মিলনায়তনে ‘মানবপাচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভোরের কাগজ ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথ উদ্যোগে বৈঠকটির আয়োজন করে। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহম্মেদ চৌধুরী কিরণ। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেয়া আলোচকদের বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের বিশেষ সংখ্যা।

শ্যামল দত্ত

সম্পাদক, ভোরের কাগজ

একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত সমগ্র মানবগোষ্ঠীর নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্র তথা সরকারের। সাগরে ভাসমান এই মানুষকে উদ্ধার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা দেয়াও রাষ্ট্রের উচিত। কিন্তু বাংলাদেশ নামক এই ছোট্ট রাষ্ট্রটির বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার সঙ্গে সুন্দরভাবে খাওয়া-পরা ও বেঁচে থাকা নিয়ে রাষ্ট্র তথা সরকারের যে হিমশিম খেতে হচ্ছে তা বোধকরি বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল জনসংখ্যা প্রকৃত অর্থে সম্পদ না বোঝা, এ নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক আছে। তদুপরি বাংলাদেশের মতো আয়তনে খুব ছোট উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা যে এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।

সাত কোটি মানুষের দেশ এখন ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয়েছে। দক্ষ-অদক্ষ মিলিয়ে এই বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ বাংলাদেশ। সম্প্রতি মানবপাচারের মাধ্যমে মানুষকে যেভাবে পণ্য করে অমানবিক, অসহায়ত্ব ও হৃদয়বিদারক ঘটনাবলি জন্ম দিচ্ছে, তাতে মনে হয়, আমরা কি সেই মধ্যযুগে ফিরে গেলাম? সাগরে ৬ থেকে ৮ হাজার মানুষ ভাসছে। অভিবাসীকে সাগরে ফিরিয়ে দিল মালয়েশিয়া। সাগরে জিম্মি করে নেয়া হচ্ছে মুক্তিপণ। যা আমাদের বিচলিত করে তোলে। জাতি হিসেবে পুরনো সেই দৈন্যদশার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এমনকি বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ করছে।

মুজিবুল হক চুন্নু

প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

মানবপাচার নতুন কোনো ঘটনা নয়, এটা অনেক পুরনো বিষয়। মানবপাচারকারীরা কেবল বাংলাদেশ নয়, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার সঙ্গে জড়িত। তাই মানবপাচার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একে রোধ করতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার অবৈধভাবে মানবপাচার বন্ধে ক‚টনৈতিক তৎপরতাসহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে অবৈধ পাচার বন্ধে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্যের পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এনজিওসহ সরকারি-বেসরকারি ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

মানবপাচারের ঘটনায় সরকার বসে নেই । সরকারের ক‚টনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তৎপরতার অংশ হিসেবেই গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মায়ানমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে অংশ নিয়েছেন। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে অর্থনীতি।

প্রতি বছর বাংলাদেশে ১৮ লাখ লোক শ্রমবাজারে আসছে। তাদের সবার কর্মসংস্থান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভাগ্যান্বেষণে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে লোকজনকে। যারা বৈধ পথে যায় তাদের যে উদ্দেশ্য, অবৈধ পথে যারা যায় তাদেরও একই উদ্দেশ্য। বৈধ পথে দেশ থেকে অন্য দেশে গেলে বলা হয় অভিবাসন আর অবৈধ পথে গেলে বলা হয় মানবপাচার।

যখন বৈধভাবে লাখ লাখ লোক দেশের বাইরে গেছে তখনো অবৈধ উপায়ে লোকজন বাইরে গেছে। অবৈধভাবে সমুদ্র বা স্থলপথে কেউ যেন যেতে না পারে তার জন্য বিভিন্ন বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

সভাপতি, সিপিবি

মানবপাচার একটি বর্বর ও অসভ্য কর্মকাণ্ড। এ বর্বরতা দাসপ্রথা ব্যবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই সভ্যতা যে কত বড় অসভ্য ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, মানবপাচারের এই ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কিছুদিন আগে বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো গরু পাচার হবে না। মোদি সরকার গরু পাচারের ক্ষেত্রে যতটা কঠোরতা দেখিয়েছে বাংলাদেশের সরকার কি মানবপাচার রোধের ক্ষেত্রে সেই কঠোরতা দেখাতে পেরেছে? তিনি বলেন, হয়তো সরকারের কাছে গরু-ছাগলের চেয়ে মানুষের মূল্য অনেক কম।

তিনি ধর্মীয়, গোষ্ঠীগত বা স¤প্রদায়গত দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বিবেচনা না করে বিশ্বমানবতার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ব বিবেককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবের কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর যে হারে মানুষ বেকার হচ্ছে, সে হারে কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ আমাদের দেশের সরকার তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এ ধরনের মানবপাচার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, মানবপাচার বন্ধ করতে হলে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থের দুর্বৃত্তায়ন রুখতে হবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন

অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গত ২ সপ্তাহ ধরে পাচারের শিকার হয়ে ৬ থেকে ৮ হাজার মানুষ সাগরে ভাসছিল। সেসব ভাসমান মানুষের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের একটা নির্লিপ্ততা আমরা লক্ষ করেছি। যখন এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলো।

তখন ২০ মে বিকেলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা এল, সাগরে ভাসমান মানুষকে তারা উদ্ধার করবে। কিন্তু এর আগে এ বিষয়টা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল চরম নির্লিপ্ততা দেখিয়েছে। বিশ্ব সভ্যতার কাছে এটি ছিল একটা টেস্ট কেস।

মানবপাচার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে অনেক বক্তব্য-বিবৃতি এলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে এখন তারা কিছুটা সক্রিয় হয়েছে। এ ব্যাপারে মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ৪টি দেশ সম্পৃক্ত হয়েছে।

মানুষ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে গেল, না কি অবৈধভাবে গেল, সেটা মূল বিষয় না। মূল বিষয় হচ্ছে তারা নিরাপদে যাচ্ছে কিনা। সে দায়িত্ব সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থাইল্যান্ডে যখন গণকবর আবিষ্কৃত হলো, তখন থেকেই দেশটি এ ব্যাপারে তৎপর হয়েছে।

শাকিরুল ইসলাম

চেয়ারম্যান, ওকাপ

বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার অবাধ সুযোগ না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সরকার মালয়েশিয়ার সঙ্গে জি টু জি যে চুক্তি করেছে, সেই মোতাবেক সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের মাধ্যমে যে নিবন্ধন করা হয়েছে, তা কার্যকর না হওয়ার সুযোগ দালাল চক্র লুফে নিয়েছে।

জি টু জি কার্যকর না হওয়ায় মানুষ বেসরকারিভাবে প্রফেশনাল ভিসা খুঁজছিল। কিন্তু সেই সুযোগও অনেকটা বন্ধ রয়েছে।

যারা পাচারের শিকার হচ্ছে তারা শিক্ষিত নয়। আর অশিক্ষিত হওয়ার কারণেই তারা খুব সহজে দালালদের খপ্পরে পড়েছে। এ ছাড়া দালালদের মাধ্যমে পাচারের শিকার মানুষের আত্মীয়-স্বজন যারা বিদেশে রয়েছে, তারাও এদের উৎসাহিত করছে। তারা তাদের বলছে, তোমরা শুধু যে কোনোভাবে ঢুকতে পারলেই হবে।

এখানে কাজের লোকের অভাব রয়েছে। তাই চাকরির কোনো সমস্যা হবে না। ঢুকতে পারলেই চাকরি নিশ্চিত। তারা এভাবেও অনেকটা উৎসাহিত হয়েছে।

অবৈধভাবে পাচারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো সতর্ক হতে হবে। মানবপাচারের মতো এ ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, আঞ্চলিক সমস্যা। তবে আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

একই সঙ্গে ক‚টনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি এ সমস্যা নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবং সরকারকে মানবপাচার বন্ধে ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুমাইয়া ইসলাম

পরিচালক, বাংলাদেশী অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এসোসিয়েশন

কালো টাকা আর ছায়া অর্থনীতির শিকার হচ্ছে দেশের শ্রমজীবী মানুষ। দেশে কালো টাকার রাজনীতি চলছে। ফলে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়াল থেকে শুরু করে নৌকার মাঝি পর্যন্ত চক্রটিকে নির্মূল করতে হবে। আর যদি রাঘব-বোয়ালদের নির্মূল করা সম্ভব না হয়, তাহেল এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যুগ যুগ ধরে ঘটতেই থাকবে। দেখা যাবে এক সময় আমাদের সন্তানরাও এই পাচারের শিকার হচ্ছে।

কত হতভাগ্য মানুষের লাশ থাইল্যান্ডে গণকবর দেয়া হয়েছে, কতজনের লাশ সাগরে ভাসছে, কতজন বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছে, তার ডাটা আমাদের কাছে নেই। থাকা সম্ভবও নয়। দেশে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে।

শ্রমিকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের মূল্য দিতে হবে। শ্রমিকদের বন্দি রেখে শোষণ করা যায়, বাস্তবে একটি উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখা যায় না। শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শোষণ করা কালো টাকায় ঢাকা শহরে অবৈধ বাড়ির সংখ্যা বেড়ে গেছে। অবৈধ কালো টাকার মালিকদের রুখতে হবে। শ্রমিকদের সঠিক ঘাম ঝরানো মূল্য তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ড. জালালউদ্দিন শিকদার

রিসার্চ ফেলো, রামরু

মানবপাচার বর্তমানে একটি বড় ধরনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। সমস্যা যত জটিলই হোক না কেন, আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব।

গ্রামে এখনো লক্ষ করা যাচ্ছে, ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যাচ্ছেন অনেকেই। আবার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনের জন্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কুয়েতে পাড়ি দিচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু এই মানুষকে সেসব দেশে পাঠানোর জন্য আমরা বৈধ কোনো পন্থা বের করতে পারছি না। ফলে মানবপাচারের ঘটনা বেড়েই চলেছে।

বৈধভাবে ব্যাপকহারে অভিবাসনের না থাকার সুযোগে দালালরাই বাংলাদেশে বড় গ্রুপ তৈরি করে মানবপাচার করছে। যাদের দালালরা নিয়ে যাচ্ছে এই সুযোগে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তারাই আটকা পড়ছে। মানবপাচার রোধে সরকারকে নতুন শ্রমবাজার চালু করতে হবে।

বিদেশে যারা অবৈধ রয়েছে, তাদের বৈধতা দেয়ার জন্য ওই দেশের সরকারের প্রতি চাপ দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। নইলে মানুষ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে বিদেশে যেতে বাধ্য হবে। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

মানবপাচারের ঘটনায় রোহিঙ্গাও একটি বড় সমস্যা। রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। যার ফলে বাংলাদেশিদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা মিশে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রোহিঙ্গাদের খুঁজে বের করত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে। এখন সেই উদ্যোগও নেই।

ধীরাজ কুমার বিশ্বাস

ভুক্তভোগী

দালালদের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নানা নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আমাকে। মালয়েশিয়ায় নৌকাপথের যাত্রী ছিলেন আমি। সাজেদা নামের এক মহিলা ৭ দিন একটি ছোট্ট বাসায় আটক রাখে আমাকে। যে ঘরে আমাদের আটক রাখা হয়েছিল তার বাইরে ১০ থেকে ১২ জন মানুষ লাঠি নিয়ে পাহারায় ছিল। সাত দিন আটক রাখার পর রাত ৯টায় ছোট্ট একটি ট্রলারে উঠিয়ে আমাদের ৮ জনকে পাচারের উদ্দেশ্যে দালালের হাতে তুলে দেয়।

ট্রলারে দিনে একবার আমাদের আতব চালের ভাত খেতে দিত। ৭ দিন পর থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের প্রচণ্ড মারপিট করত। দালাল সাজেদা আমার কাছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। তারা আমাকে আটক রেখে আমার বাড়িতে ফোন দেয় টাকার জন্য।

এ সময় প্রচণ্ড নির্যাতন করত আমাকে। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে ৪ দিন পর সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাই। সেখানে ইমিগ্রেশন পুলিশ আমাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তারাও আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন করে। আমাকে ১৮ দিন রিমান্ডে মারপিট করে। আমি পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলাম।

মিস্ত্রির কাজ করে যা আয় হতো, তাতে সংসার চালানো খুব কষ্টকর ছিল। যার ফলে অধিক আয়ের জন্য দালালের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়ায় যাই। কিন্তু সেখানে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, একমাত্র স্রষ্টা সহায় ছিলেন বিধায় আমি ফেরত আসতে পেরেছি।

৭ মাস মালয়েশিয়ার জেলে থাকার পর গত ৮ মাস আগে বাংলাদেশে ফেরত আসতে পেরেছি। কিন্তু আমার ওপর যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল, তার যন্ত্রণায় আমি এখন কোনো কাজ করতে পারি না। দালালরা আমাকে চার জায়গায় বিক্রি করেছিল। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অবস্থান করা দালাল হামিদ মোবাইলের মাধ্যমে আমার পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়।

হাসান আহম্মেদ চৌধুরী কিরণ

চেয়ারম্যান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুসারে- মানবপাচার হলো ভয় দেখিয়ে বা জোর করে অথবা অন্য কোনোভাবে জুলুম করে, হরণ করে, প্রতারণা করে, ছলনা করে, মিথ্যাচার করে, ভুল বুঝিয়ে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অথবা যার ওপরে একজনের কর্তৃত্ব আছে, পয়সা বা সুযোগ-সুবিধার লেনদেনের মাধ্যমে তার সম্মতি আদায় করে শোষণ করার উদ্দেশ্যে কাউকে সংগ্রহ করা, স্থানান্তরিত করা, হাতবদল করা, আটকে রাখা বা নেয়া। এমনকি জাতিসংঘের মানবাধিকারের রেজুলেশনে লেখা আছে, ‘ঐঁসধহ ঃৎধভভরপশরহম রং ধ পৎরসব ধমধরহংঃ যঁসধহরঃু ধহফ ারড়ষধঃরড়হ ড়ভ যঁসধহ ৎরমযঃং.’

মানবপাচারের প্রেক্ষিত ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ : মানব সভ্যতার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সভ্যতার বিকাশের আগে এই পৃথিবীতে হাজার বছর ধরে মানবপাচার ও শোষণ প্রচলিত ছিল। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে মধ্যযুগ এবং বর্তমান আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন উপায়ে মানবপাচারসহ তাদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চলেছে। দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল অনেক মানুষ। যাকে আমরা দাসপ্রথা বলে অভিহিত করি। ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের আগেই এই দাসপ্রথা সর্বপ্রথম ইউরোপে পর্তুগিজদের মধ্যে আবির্ভূত হয়। পর্তুগিজরা তখন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আফ্রিকা মহাদেশে এসে আফ্রিকানদেরই দাস হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। এবং এই আফ্রিকানদের নিজ দেশ পর্তুগালে পাচার করে দাস হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা একই প্রক্রিয়ায় আফ্রিকানদের দাস হিসেবে বিক্রি তথা দাস ব্যবসা শুরু করে।

কিন্তু এখন একুশ শতক চলছে। সভ্য পৃথিবীতে সেই দাসপ্রথার প্রচলন নেই। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এখনো বিদেশে গিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে শ্রমদাসে। নিজের দেশে জীবন ও জীবিকার কোনো উপায় না থাকায় শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে তারা কার্যত পাড়ি জমায় বিদেশে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অবৈধ পথে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এই মানবের অধিকাংশই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এরকম অনেক ঘটনার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো বাংলাদেশের কক্সবাজার-টেকনাফ থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকালে মাঝপথে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে ৫০০-এর মতো অভিবাসীকে হত্যা এবং বাংলাদেশিসহ প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে জীবিত উদ্ধার। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের শঙ্খলা প্রদেশের সাদাও এলাকার গভীর জঙ্গলে প্রাথমিকভাবে দুটি গণকবর থেকে ৩২টি দেহাবশেষ ও তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীর দেহাবশেষ বলে থাই পুলিশ জানিয়েছে। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্যাতন করে এসব বন্দিকে মূলত হত্যা করা হয় এই তথ্য জানা যায় থাইল্যান্ডের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবর থেকে। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে একাধিক গণকবরে বাংলাদেশিদের লাশের খবরে উদ্বিগ্ন সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা। এদিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, হত্যা-গুমের এই জঘন্যতম ঘটনায় উদ্বিগ্ন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমার। গত ১৫ মে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী প্রায় ৭০০ অভিবাসীকে মালয়েশিয়ার তীরে ভিড়তে না দেয়ায় ইন্দোনেশিয়ার আচেহর উপক‚লে ডুবতে থাকা নৌকা থেকে উদ্ধার করেছে সুমাত্রার জেলেরা। তাদের মধ্যে ২১০ জন রোহিঙ্গা এবং ৩৯৫ জন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী ফাংগা প্রদেশের উপক‚ল থেকে ১০৬ জনকে উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে ১৫ জন নারী ও ২টি শিশু রয়েছে।

জাতিসংঘের চারটি সংস্থা যথাক্রমে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (টঘঐঈজ), মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ঙঐঈঐজ) আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (ওঙগ) ও জাতিসংঘের মহাসচিবের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ দূত (ঝজঝএ) এর বিবৃতি মতে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাগরে বিপদসঙ্কুল যাত্রায় মালয়েশিয়ার পথে পা বাড়িয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ। শুধু চলতি বছর ২০১৫-এর প্রথম তিন মাসেই পাড়ি জমানো মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এ ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে সমুদ্রযাত্রায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছেন। সমসংখ্যক মানুষ থাই জঙ্গল ও সমুদ্রে পাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মায়ানমারসহ বাংলাদেশের ২৪১ দালালের নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার উপক‚ল দিয়ে এই মানবপাচারের কার্যক্রম চলছে বলে জানা যায়। তন্মধ্যে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের শীর্ষ মানবপাচারকারী হিসেবে ম্যাডাম রেবির নাম শোনা যায়। তার স্বামী নুরুল কবির বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে তার বাড়িতে রেখে সুযোগ বুঝে মালয়েশিয়ায় পাচার করে দিত ট্রলারে করে। এভাবে কক্সবাজারের উপক‚লের মেরিন ড্রাইভ, টেকনাফ, কোটবাজার সি-বিচ দিয়ে অহরহ সোনারপাড়া বাজারসহ ইনানী, নিদানিয়া এলাকায় জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুক মানুষের প্রকাশ্যে হাট বসত। কক্সবাজার উপক‚লীয় এলাকায় এই রেবি ম্যাডামের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৫০ সদস্যের একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী সিন্ডিকেট।

মানবপাচারের টার্গেট দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের মানুষ : মানবপাচারকারীদের টার্গেট হচ্ছে দারিদ্র্যপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত, পশ্চাৎপদ, অনগ্রসর এলাকার লোকজন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় কাজের অভাবে আয়-উপার্জন এবং অশিক্ষিত ও অসচেতন জনগোষ্ঠীর বিস্তৃতি ঘটেছে সেখানেই মানবপাচারকারীদের নেটওয়ার্ক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দালালদের মাধ্যমে ওই সব এলাকা থেকে অসহায় ও নিরুপায় মানুষকে সংগ্রহ করে তাদের পাচার করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। সমুদ্রগামী এসব দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাদের শেষ সম্বল জমি-জমা, ভিটে-মাটি বিক্রি করে কেউ চড়াসুদে ঋণ নিয়ে অধিক উপার্জনের আশায় বিদেশের যাওয়ার জন্য দালালদের খপ্পরে পড়ে। এদের মধ্যে মুক্তিপণ দিয়ে কেউ রক্ষা পায়, পক্ষান্তরে মুক্তিপণ না দেয়ায় কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করে। এ ক্ষেত্রে দালালরা প্রথমে এই প্রলোভন দেয় যে, অল্প টাকা অগ্রিম দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে বাকি টাকা পরিশোধ করবেন।

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের কারণ : বাংলাদেশের আর্থ-সমাজিক অবস্থা বিশেষ করে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, বেকারত্বের কারণে মূলত মানবপাচারের হার অধিকাংশে বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় এই মানবপাচারের ঘটনা বেড়ে চলছে। প্রকৃত অর্থে দেশে কাজের অভাব হওয়ায় নাগরিকরা জীবন বাজি রেখে ট্রলারে চড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে লাশ হয়ে কিংবা সহায়-সম্বল হারিয়ে দেশে ফিরছেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে এসব মানুষ মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মরণযাত্রায় পা দিচ্ছে দালালদের খপ্পরে পড়ে।

জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য : মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (ঐজড) এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রান্ড অ্যাডামস বলেন, এ ঘটনায় বিস্ময়ের কিছু নেই। মানবপাচারে থাই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকেই জড়িত। দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সমুদ্রে ভাসমান এসব অভিবাসীর জীবন রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মানবপাচার রোধে থাইল্যান্ডের বর্তমান সামরিক সরকারের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউভুক্ত দেশ থাইল্যান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। গত ১৯ মে ২০১৫ জাতিসংঘের চারটি সংস্থা যথাক্রমে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (টঘঐঈজ), মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ঙঐঈঐজ), আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (ওঙগ) ও জাতিসংঘের মহাসচিবের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ দূত (ঝজঝএ) এদের যৌথ বিবৃতি মতে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাগরে বিপদসঙ্কুল যাত্রায় মালয়েশিয়ার পথে পা বাড়িয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ। শুধু চলতি বছর ২০১৫-এর প্রথম তিন মাসেই পাড়ি জমানো মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এ ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে সমুদ্র যাত্রায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছেন। সমসংখ্যক মানুষ পাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাই জঙ্গলেও মারা গেছেন। এছাড়া ৬ হাজারের মতো মানুষ গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় আছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য মতে জানা যায়। জাতিসংঘের উল্লিখিত চারটি সংস্থা সাগরে ভাসমান নারী-পুরুষ ও শিশুদের অমানবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতিতে উদ্ধার হওয়া লোকজন এবং বঙ্গোপসাগরে ও আন্দামান সাগরে বিভিন্ন নৌযানে ভাসতে থাকা অভিবাস প্রত্যাশীদের সুরক্ষা, নিরাপদে তীরে অবতরণের সুযোগ দেয়া, জীবন বাঁচানোর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সরকার প্রধানদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের মধ্যে একটা প্রচলিত বিশ্বাস জন্মেছে যে, কোনোভাবেই মালয়েশিয়া পৌঁছাতে পারলেই উপার্জন করা যায়। এই বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রযাত্রায় মালয়েশিয়া পৌঁছানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এর করুণ পরিণতি হচ্ছে অকাল মৃত্যু। (সংক্ষেপিত)

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj