ইউরোপে মানবপাচারকারীদের নৌযানে হামলার সিদ্ধান্ত

শনিবার, ২৩ মে ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মিছিল এবং মৃত্যু রুখতে কঠোর হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মানবপাচারকারীদের নৌযানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

গত সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দীর্ঘ এক বৈঠক শেষে বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে শত শত মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে সাগরে ডুবে মারা যাচ্ছেন। গত মাসেও লিবিয়া থেকে ইটালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা একটি নৌযান সাগরে ডুবে যায়। নৌযানটির অন্তত ৯০০ যাত্রী ডুবে মারা যান।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম চার মাসে ৫১ হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। এ সময়ে সাগরে ডুবে মারা গেছেন অন্তত ১৮০০ জন। এ ছাড়া গত ১৮ মাসে মারা গেছেন ৫ হাজারের মতো মানুষ। সব মিলিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ এবং ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঘটনায় ইইউয়ের সমালোচনা বেড়েই চলেছে। সমালোচনার মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ইইউয়ের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক বিভাগের প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেন, ‘আমাদের যেহেতু দ্রুত কাজ শুরু করার রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং প্রতিজ্ঞা আছে, তাই আমরা মনে করি, কাজটা ঠিকভাবে করতে পারব।

আপাতত মানবপাচার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দাদের সক্রিয় করবে ইইউ। তারপর শুরু হবে মানবপাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান। মোগেরিনি জানান, সামরিক অভিযান আগামী জুন মাসে শুরু হতে পারে।

তবে অভিযান শুরু করার আগে ইইউকে জাতিসংঘের সবুজ সংকেত পেতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং লিবীয় জলসীমায় প্রবেশ করে মানবপাচারকারীদের নৌযান আটক বা ধ্বংস করার বিষয়ে জাতিসংঘের আগাম অনুমোদন নিতেই হবে ইইউকে।

সাগরে মৃত্যু বন্ধ করার লক্ষ্যে নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে ইইউ। ক্যাথলিকদের জার্মানি ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা ‘মিজেরিয়র’ ইইউয়ের এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। মিজেরিয়র-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন ব্র্যোকেলমান সাইমন বলেছেন, য্দ্ধু, সহিংসতা আর দারিদ্র্য থেকে বাঁচতেই অনেক মানুষ ইউরোপে আসছে, সুতরাং, এখানে মানবপাচারকারীরা প্রধান সমস্যা নয়। এই সত্যকে উপেক্ষা করে মানবপাচারকারীদের প্রতিহত করার কথা বলে নৌযানে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ইইউয়ের সমালোচনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে ইইউকে দ্রুত অভিযান শুরুর তাগিদ দিয়েছে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটো। ন্যাটোর আশঙ্কা, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবাধে অভিবাসনপ্রত্যাশী এলে এই সুযোগে অনেক আইএস জঙ্গিও ইউরোপে ঢুকে পড়বে। ইইউকে দ্রুত কাজ শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টোলেনবার্গ বলেছেন, ‘দেরি করলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আড়ালে অনেক আইএস জঙ্গিও ইউরোপে ঢুকে পড়তে পারে।’

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj