জিতেও খলনায়ক মেওয়েদার

মঙ্গলবার, ৫ মে ২০১৫

৪৮-০। বক্সিং ইতিহাসে নিঃসন্দেহ বিরল এক কৃতিত্ব। একই সঙ্গে জিতে নিলেন শতাব্দীর সেরা লড়াইও। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোথায় যেন হেরে গেলেন ফ্লয়েড মেওয়েদার। যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের ছেলে দেশের মাটিতেই গড়ছেন ইতিহাস। মেওয়েদারকে নিয়ে তো উৎসবটা মাত্রা ছাড়া হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হল কই? বরং উল্টো ছবিটাই দেখা গেল এমজিএম এরিনায়। ম্যানি প্যাকিয়াওকে হারিয়ে হাততালির বদলে মেওয়েদারের কপালে জুটল বিদ্রুপ। বাহবার বদলে শুনতে হল গালিগালাজ। রিংয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেও রিংয়ের বাইরে শুধুই তোপ। এমজিএম এরিনায় তখন সবে শেষ হয়েছে ম্যাচ। চ্যাম্পিয়নের হাত তুলে ধরলেন রেফারি। জানিয়ে দিলেন মেওয়েদারই অপরাজিত থাকছেন। সঙ্গে সঙ্গে এমজিএম এরিনার বড় একটা অংশ প্রতিবাদে সরব। কেউ চিৎকার করছেন, খারাপ লোকটা চ্যাম্পিয়ন হল। আবার অনেকের উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া, প্যাকিয়াওর জেতা উচিত ছিল।

ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও। যার শিকার সেই মেওয়েদারই। মেওয়েদারকে কাপুরুষ বলে টুইটারে একটা হ্যাশট্যাগও চালু হয়ে গেছে। রিংয়ের ভিতরে তার ডিফেন্সিভ স্টাইল নিয়ে যেমন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তেমনই দীর্ঘদিন ধরে রিংয়ের বাইরের জীবন নিয়েও কম বিতর্কে জড়াননি মেওয়েদার। একদিকে যখন বহুবার নারী নির্যাতনের মামলায় ফেঁসে গেছেন এই মার্কিন বক্সার, প্যাকিয়াও তখন নিজের দেশে বহু স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল বানাতে সাহায্য করেছেন। মেওয়েদারের অন্ধকার জীবনের কাহিনি আরো আছে। নিজের সন্তানদের মাকে মেরে মুখ ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি। যে ঘটনার কথা এদিন বারবার ওঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায়।

দুই বক্সারের এই জীবনটাও তাদের খলনায়ক এবং নায়ক হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের ছেলেকে ঘরেই শুনতে হয়েছে কটাক্ষ। আর হেরে যাওয়ার পরেও ফিলিপিন্সে কিন্তু নায়ক সেই প্যাকম্যান। এমনকি সে দেশের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলছেন, প্যাকিয়াও হারলেও আমাদের মাথা নিচু হয়ে যায়নি। ওর কাছ থেকে এখনো জীবন যুদ্ধের প্রেরণা পাই।

প্যাকিয়াও আবার বাউট শেষে অভিযোগ করেছেন, তিন সপ্তাহের আগে আমার ঘাগে একটা মাসল ছিড়ে যায়। ওটা আগের থেকে ভাল অবস্থায় থাকলেও ডান কাঁধটা পুরো সারেনি। ম্যাচের আগে চুক্তি হয়েছিল, ডান কাঁধে চোটের জন্য প্যাকিয়াওকে ইঞ্জেকশন দিয়ে নামতে দেয়া হবে। কিন্তু পরে তার এজেন্ট জানান, প্যাকিয়াওকে ইঞ্জেকশন দিয়ে বাউট লড়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। যে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফিলিপিন্স জুড়ে দাবি উঠেছে, মেওয়েদারের বিপক্ষে আবার লড়তে দেয়া হোক প্যাকম্যানকে।

:: গ্যালারি ডেস্ক

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj