বীজ ব্যবসায়ীর প্রতারণা : নালিতাবাড়ীতে ৬০০ একর জমির বোরো ধান মরে গেছে

শুক্রবার, ১ মে ২০১৫

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি : উপজেলায় বীজ ব্যবসায়ীর প্রতারণায় রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের কৃষকদের ৬ শতাধিক একর জমির বোরো ধান মরে গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, বেলতৈল গ্রামের কৃষকরা নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তরবাজারের মেসার্স জনি ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল লতিফ মানিকের কাছ থেকে উচ্চ ফলনশীল এসএল-৮ এইচ সুপার হাইব্রিড ধানের বীজ ক্রয় করে হাইব্রিড পদ্ধতি অনুযায়ী জমিতে আবাদ করেন। পরবর্তীতে ওই ধান হয়ে যায় স্থানীয় ব্রি-২৮ জাতের। আস্তে আস্তে ধান মরতে শুরু করে। বর্তমানে ওই মাঠের ৬ শতাধিক একর জমির ধান সম্পূর্ণভাবে মরে গেছে। এতে কৃষক পড়েছে দুশ্চিন্তায়। একমুঠো ধানও ঘরে আসবে না। ঋণ নিয়ে ও ধার করে আবাদ করা বোরো ধান ঘরে না ওঠায় এখন না খেয়ে থাকতে হবে কৃষকদের। তাই সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার প্রায় সব কৃষকের দাবি, শুধু আব্দুল লতিফ মানিকই নয়, ধান বীজ ব্যবসায়ী ভজন সাহা ও ভোলা সাহার কাছ থেকেও তারা বীজ ধান ক্রয় করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নূর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি তার জমির মরা ধান গাছ দেখিয়ে বলেন, তিনি মানিকের কাছ থেকে হাইব্রিড ধানের বীজ এনে সাড়ে ৫ একর জমিতে আবাদ করেন। পরে এই ধান হয়ে যায় স্থানীয় জাতের ব্রি-২৮। বর্তমানে তার সম্পূর্ণ ক্ষেতের ধান মরে গেছে। তাই মরা ধান গাছ কেটে গরুর খাদ্য হিসেবে খড় তৈরি করছেন। এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ রকম জুলহাস উদ্দিনের আড়াই একর, দুলাল মিয়ার দেড় একর, মনিরুজ্জামানের ২ একর, শহিদুলের ৫০ শতাংস, মফিজুলের ৩ একর, জিয়ারুলের ৭০ শতাংস, বাচ্চু মিয়ার দেড় একর, আ. হাইয়ের দেড় একরসহ ওই মাঠের ৬ শতাধিক একর জমির ধানগাছ একেবারে মরে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি এবং কৃষি কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি।

কৃষি কর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক এবং বিএডিসি উপপরিচালকের (বীজ বিপণন) সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগের সত্যতা থাকলে বীজ ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিএডিসি বীজ বিতরণ বিভাগের উপপরিচালক বদর উদ্দিন বলেন, আমি এলাকায় গিয়েছিলাম। কয়েকজন কৃষক কৃষি অফিসে আসে। কৃষকদের কোনো কার্ড নেই। তাহলে আমি কী করে বুঝব। কোথা থেকে বীজ সংগ্রহ করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে বোরো ধান বীজ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ মানিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ সমস্যার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিএডিসির বীজের প্যাকেট আমরা বিক্রি করেছি। শুধু আমিই না আরো অনেকেই এই প্যাকেট বিক্রি করেছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj