নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হালদা নদীতে অবাধে মা মাছ শিকার

শুক্রবার, ১ মে ২০১৫

এম রমজান আলী, রাউজান (চট্টগ্রাম) থেকে : প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা মাছ শিকার। নদীতে হাতজাল দিয়ে মা মাছ শিকার করার সময়ে স্থানীয় কমিনিউটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা এমনি এক মাছ শিকারীর কাছ থেকে সাড়ে ৯ কেজি ওজনের ডিমওয়ালা মা মাছ উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন।

গত মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পশ্চিম ফতেহনগর সবুর চেয়ারম্যানের ঘাটায় হালদা নদীতে হাতজাল দিয়ে একটি সাড়ে ৯ কেজি ওজনের ডিমওয়ালা মা মাছ শিকার করে রাউজানের নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহনগর এলাকার মৃত দানা মিয়ার ছেলে মো. রফিক (৪৫)। এ সময়ে কমিনিউটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের বাধার মুখে মা মাছ শিকারী মো. রফিক মাছ ও হাতজাল ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় কমিনিউটি পুলিশিং কমিটির কর্মকর্তারা ফোন করে বিষয়টি রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসারকে জানালে উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মা মাছটি উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুল প্রদীপ চাকমার নির্দেশে এএসআই মুরাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত মঙ্গলবার দুপুরে মা মাছ শিকারী মো. রফিককে ধরতে তার বাড়ি ও এলাকায় অভিযান চালায়।

রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে মা মাছ শিকারী মো. রফিকের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেছেন। মৃগেল মাছটি প্রায় এক কেজি ডিম নদীতে ছাড়ত। ওই ডিম ফুটিয়ে আধা কেজি রেণু উৎপাদন হতো। আধা কেজি রেণু থেকে দেড় লাখ মাছের পোনা উৎপাদন হতো। আর এই দেড় লাখ পোনা থেকে কয়েকশ টন মাছ উৎপাদন হতো বলে উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজিম উদ্দিন জানান। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতি বৎসর চৈত্র মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত সময়ে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ মাছ ডিম ছাড়েন।

হালদা নদীকে মা মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার লক্ষ্যে হালদা নদীর নাজির হাট থেকে নগরীর মোহরা পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদীতে সারা বৎসর মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে ৬ মাস মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে নাজির হাট থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত হালদা নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন মৎস্য মন্ত্রণালয়।

এ লক্ষ্যে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় হ্যাচারি নির্মাণ, নদীতে বড় আকারের মাছ অবমুক্ত, হালদা নদীর উপকারভোগীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য স্বল্পসুদে ঋণপ্রদান, ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যেমে উপকারভোগীদের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণ, মৎসজীবী ও জেলেদের নিবন্ধন করার কাজ করা হয়।

গত ২০ এপ্রিল হালদা নদীতে মা মাছ মৌসুমের শুরুতেই প্রথমবার ডিম ছাড়েন। এ সময় সংগ্রহকারীর ১ হাজার ৮০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেন। এ ডিম ফুটিয়ে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম রেণু উৎপাদিত করেন ডিম সংগ্রহকারীরা। প্রতি কেজি রেণু ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন বলে জানান ডিম সংগ্রহকারীরা।

নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে হালদা নদীতে অবাধে মাছ শিকার, ও বাঁক কেটে ফেলা, যান্ত্রিক নৌযান চলাচল, অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে মা মাছ ডিম ছাড়া ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে আসছে। এ ছাড়া মা মাছের প্রজনন ক্ষমতা দিন দিন কমে আসছে বলে অভিমত প্রকাশ করছেন হালদা পাড়ের বাসিন্ধা ডিম সংগ্রহকারী বিতান বড়–য়া, জানে আলম, শুবল দাশ, উদয়ন বড়–য়া।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj