আখাউড়ায় নেশার রাজ্যে এখন ঘুমের ট্যাবলেট

শুক্রবার, ১ মে ২০১৫

আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : নেশার জন্য এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট। ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদের পর যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। আখাউড়া পৌর এলাকা ও শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানীং মাদকসেবীদের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন নেশাসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে মাদকসেবীরা এখন ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ঘুমের ওষুধের ট্যাবলেটের দিকে। স্বল্প দামে ও হাত বাড়ালেই মিলছে উপজেলার অলিগলিতে এসব ঘুমের ট্যাবলেট। ঘুমের ট্যাবলেট সেবন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন তরুণ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে অভিভাবকরা তাদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য ফার্মেসি রয়েছে। নিয়মানুযায়ী সরকারি নীতিমালায় যে কোনো ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ রয়েছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখে ওষুধ বিক্রির কথা থাকলেও মানা হচ্ছে না। কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলোতে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট। সেইসঙ্গে বিক্রিতে পিছিয়ে নেই গ্রামাঞ্চলের মুদি দোকানগুলো। বিভিন্ন নামীদামি ও নামসর্বস্ব ওষুধ কোম্পানির ঘুমের ট্যাবলেটে বাজার সয়লাব। নেশার উদ্দেশ্যে আসক্ত ব্যক্তিরা তা ক্রয় করে সেবন করছেন। সূত্র জানায়, সেবনকারীরা প্রতিদিন একই ফার্মেসি থেকে ২-৩ পাতা ঘুমের ট্যাবলেট ক্রয় করছে। ফার্মেসির লোকদের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠায় ক্রয়ে কোনো বিপত্তি ঘটে না। অতি সহজেই তারা ওইসব ট্যাবলেট পাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের সড়ক বাজার, লাল বাজার, খরমপুর, উপজেলার, আজমপুর, মোগড়া বাজারসহ বেশ কয়েকটি হাটবাজারে কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলোতে অবাধে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য অনেক ফার্মেসির লোকজন বলছেন ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি হয় না। ঘুমের ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে লাইজন, সেডিল, ট্রিপটিন, ডরমিটল, গোফাম, ইজিয়াম। আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহ আলম বলেন, রেজিস্ট্রেশন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। তা ছাড়া ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন কোনো ফার্মেসির মালিকের কাছে বিক্রি করা নিষেধ।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj