সহস্র নাগরিক কমিটির দাবি সিটি নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর

শুক্রবার, ১ মে ২০১৫

কাগজ প্রতিবেদক : দুয়েকটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচন অনেক বেশি উৎসবমুখর ছিল বলে দাবি করেছে সরকার সমর্থিত সংগঠন সহস্র নাগরিক কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব গোলাম কুদ্দুস। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমা শাহীন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, এডভোকেট মোতাহের হোসেন সাজু, ফজলুর রহমান বাবুল, প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক মঞ্জু প্রমুখ। সহস্র নাগরিক কমিটির মতে, সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচন সফল হয়েছে। বিএনপির নির্বাচন বর্জন ছিল অনাকাক্সিক্ষত। নবনির্বাচিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণের সাঈদ খোকন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সব বিজয়ী কাউন্সিলরকে কমিটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান গোলাম কুদ্দুস। তিনি বলেন, উপমহাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচলিত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি উৎসব মুখর। ভোটের দিন সকাল ৮টা থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তিনি বলেন, তবে কতিপয় প্রতিদ্ব›দ্বী কাউন্সিলর সমর্থকরা কোনো কোনো কেন্দ্রে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু প্রতিদ্ব›দ্বী মেয়র সমর্থকদের মধ্যে এ ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯৮২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সর্বাধিক ২০টি কেন্দ্রে এ ধরনের অনভিপ্রেত অনিয়মের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা এ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাই।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন বিএনপি নেতারা যখন অনুভব করলেন- সাধারণ ভোটার ও দলীয়কর্মীদের অনেকেই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা নেই, তখনই তারা নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন। আমরা মনে করি, বিএনপির এ ঘোষণা ছিল অনাকাক্সিক্ষত ও পূর্ব পরিকল্পিত। সব্য সাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি দায়িত্বশীল ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি। আমরা চাই না, কোনো রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হোক কিংবা হারিয়ে যাক। এখন বিএনপি চিন্তা করুক। তিনি বলেন, আমরা যে সব কেন্দ্রে গিয়েছি, সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন খারাপ হওয়ার জন্য বিএনপিই দায়ী। তিনি বলেন, নির্বাচন শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও নিন্দা জানাচ্ছি। তারা যদি মাঠে থাকতেন, সত্যিকার বিজয়ও অর্জন করতে পারতেন। তিনি বলেন, এবার যারা নির্বাচিত হয়েছেন নাগরিক কমিটির দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষ ও সিটি কর্পোরশেনের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা। নির্বাচিতরা তাদের প্রতিশ্রæতি অনুসারে কাজ করছেন কিনা তা দেখাশুনা করা, তারা কাজ না করলে কমিটি সমালোচনা করবে।

নির্বাচনের দিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj