ইংল্যান্ডকে সহজেই হারাল নিউজিল্যান্ড

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

টিম সাউদির বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ব্যাটিং তাণ্ডব। দুই ইনিংসেই নিউজিল্যান্ডের আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। স্বাগতিকদের কাছে আট উইকেটের এই হারে পরের রাউন্ডে যাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে ওয়েন মরগানের দলের জন্য।

ডানহাতি পেসার সাউদির ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জায় পড়ে ইংল্যান্ড। শুক্রবার ওয়েলিংটনের ওয়েস্ট প্যাক স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-এর খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ ওভার ২ বলে ১২৩ রানে গুটিয়ে যায় তারা। বিশ্বকাপে ১৯৮৩ সালে শেষবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। ১২৩ রানের পুঁজি নিয়ে ৩২ বছর পর জেতার চেষ্টা করাটাও ভীষণ কঠিন ছিল তাদের জন্য। ইংল্যান্ডের তেমন কোনো দুরাশা থাকলেও ম্যাককালামের দাপুটে ব্যাটিংয়ে তা মিলিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। ১২ ওভার ২ বলে ২ উইকেট হারিয়ে এই বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন মার্টিন গাপটিল ও ম্যাককালাম। মাত্র ৪৩ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েন এই দুই জনে। মাত্র ২৫ বলে ৭৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন ম্যাককালাম। নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের ইনিংসটি সাতটি ছক্কা ও আটটি চারে সাজানো। এই ইনিংস খেলার পথে বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতকের নিজের রেকর্ড ভাঙেন তিনি। ১৮ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো ম্যাককালাম রেকর্ড গড়েছিলেন ২০০৭ সালের আসরে। সেন্ট লুসিয়ায় কানাডার বিপক্ষে ২০ বলে অর্ধশতকে পৌঁছেছিলেন তিনি। ম্যাককালামের পর গাপটিলকেও বোল্ড করেন ক্রিস ওকস। তবে রস টেইলরকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সহজেই সারেন কেন উইলিয়ামসন। ইংল্যান্ডের পেসার ওকস ২ উইকেট নেন ৮ রানে। এর আগে ম্যাচ সেরা সাউদির তোপে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারা ইংল্যান্ডের। পঞ্চম ওভারেই ইয়ান বেলকে বোল্ড করে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাউদি। পরের ওভারে ফিরে অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মইন আলিকেও বোল্ড করেন তিনি।

দুই অঙ্কে পৌঁছেই গ্যারি ব্যালান্স ট্রেন্ট বোল্টের শিকারে পরিণত হলে অস্বস্তিতে পড়ে ইংল্যান্ড। অধিনায়কের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন জো রুট। মর্গ্যানকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভাঙেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। এক সময়ে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল তিন উইকেটে ১০৪ রান। এরপর মাত্র ১৯ রান যোগ করতে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জায় পড়ে তারা। বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ৯৩ রান। ১৯৭৫ সালের আসরে লিডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রান করেছিল তারা।

এরপর ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভালে ১০৩ রান করেছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন সাউদি। এই সময় চার ওভারে ১০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। ফিরেই জেমস টেইলরকে বোল্ড করেন সাউদি। পরের ওভারে জোড়া আঘাতে জস বাটলার ও ক্রিস ওকসকে বিদায় করেন তিনি। বাটলার উইকেটরক্ষক লুক রনকির গøাভসবন্দি হন; বোল্ড হয়ে যান ওকস। পরের ওভারে স্টুয়ার্ট ব্রড ও স্টিভেন ফিনকে ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আট উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখানোর পথে এগিয়ে যান সাউদি। কিন্তু জো রুটকে (৪৭) অ্যাডাম মিলন আউট করলে সেই সুযোগ আর পাননি তিনি। ৩৩ রানে সাত উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সফলতম বোলার সাউদি। ওয়ানডেতে এটা তার সেরা বোলিং। তার আগের সেরা ছিল ৫/৩৩। ইন্টারনেট।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj