সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার : হাইকোর্টের নির্দেশনা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন হয়নি

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

তানভীর আহমেদ : গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড এবং সব ধরনের নম্বর ও নেইমপ্লেটে একমাসের মধ্যে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ এক বছরেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে এ আদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে একমাসের মধ্যে গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড এবং সব ধরনের নম্বর ও নেইমপ্লেটে বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এছাড়া অনতিবিলম্বে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ (১৯৮৭ সালের ২নং আইন) বাস্তবায়নে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ বাংলাদেশের সর্বত্র অনুসরণ করার জন্য কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারে অগ্রগতি হবে। কিন্তু অজানা কারণে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে বাংলা ভাষা ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতিও হয়নি। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট স ম রেজাউল করিম বলেন, জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য কোনো মনিটরিং সেল নেই।

অপরদিকে আদালতের রায় ও আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের প্রশাসনিক সংস্কার না হওয়ায় ব্যক্তিস্বার্থে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে ব্যবহার করা হয়। এ-জাতীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না। বাংলা ভাষার ব্যবহার সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশেও একই কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মনজিল মোরশেদ বলেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না, এটা একেবারেই ঠিক নয়। অনেকাংশেই রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলা কয়েক বছর ধরে হচ্ছে।

তাই এ ধরনের মামলা অনেকটা নতুন। আশা করি সময়ের ব্যবধানে বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড এবং গাড়িসহ সব ধরনের নম্বর ও নেইমপ্লেটে (দূতাবাসের বাড়ি ব্যতীত) একমাসের মধ্যে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন করে ১ এপ্রিলের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সংস্কৃতি সচিবকে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন আদালত।

কিন্তু পরবর্তীতে কোন মনিটরিং না থাকায় রায় বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করি, ভবিষ্যতে সরকার এ বিষয়ে নজর রাখবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের মার্চে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ‘বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে বাংলা ব্যবহার করবে।

নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হবে। উল্লিখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহা হইলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবে এবং তাহার বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।’

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj