প্রস্তুতি ম্যাচে মাশরাফিদের হার

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রস্তুতি ম্যাচে পেরে উঠছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর আগে নিজেদের উদ্যোগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে হার মানে তারা। ম্যাচ দুটিকে অবশ্য ‘আন-অফিশিয়াল’ প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে গতকাল সোমবার প্রথম ‘অফিশিয়াল’ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। এ ম্যাচটিতেও হেরে যান মাশরাফিরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন উইকেটের হার দিয়ে বাংলাদেশ দলের আনুষ্ঠানিক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু হয়।

হারের ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে তামিম ইকবালের ফেরা। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় তামিমকে নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। পরে অস্ট্রেলিয়াতে তামিমের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়। তাই প্রথম দুটি আন-অফিশিয়াল ম্যাচে তিনি খেলতে পারেনি। গতকাল ফিরেই দারুণ একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন। ম্যাচটিতে ১২ জনকে নিয়ে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে ব্যাট করে ১১ জনকে নিয়েই। তাসকিন আহমেদ ব্যাটিং করতে না পারলেও বোলিং করেন। ম্যাচে নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও আল-আমিন হোসেনকে বিশ্রাম দেয় বাংলাদেশ। সিডনির ব্লু্যাকটাউন অলিম্পিক

পার্ক ওভালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ২৪৬ রান করে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ৪৮ ওভার ১ বলে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

বাংলাদেশ দলের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ১৬ রানের মধ্যে এনামুল হক ও মুমিনুল হককে হারায়। সোহেল খানের বলে শোয়েব মাকসুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন এনামুল। প্রথম ওভারের শেষ বলে ফেরা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান কোনো রান করতে পারেননি। সপ্তম ওভারে আবার আঘাত হানে পাকিস্তান। এবার হারিস সোহেল ফিরতি ক্যাচ নিয়ে বিদায় করেন মুমিনুলকে (৭)। তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদুল্লাহ ও তামিম। মাহমুদুল্লাহর রান আউটে ভাঙে ৩৩ ওভার স্থায়ী ১৬৮ রানের জুটি। ৮৩ রান করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ১০৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৫টি চারে। এরপর জোড়া আঘাতে তামিম (৮১) ও মুশফিকুর রহিমকে (০) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন ইয়াসির শাহ। তামিমের ১০৯ বলের ৮১ রানের ইনিংসটিও পাঁচটি চারে সাজানো। হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠার পর এই প্রথম মাঠে নামলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৬ রানের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ, তামিম ও মুশফিককে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসান (৩১) ও সৌম্য সরকার (১৫) ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় সংগ্রহ খুব একটা বড় হয়নি তাদের। মাত্র ১৮ বলে শেষ ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ২৩১ রান থেকে ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৫২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার মোহাম্মদ ইরফান। শেষ ওভারেই তিন উইকেট নেন এই দীর্ঘদেহী পেসার। লেগ স্পিনার ইয়াসির ৪২ রানে নেন ২ উইকেট।

৮ রানের মধ্যে পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দেন রুবেল হোসেন ও মাশরাফি। তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ইউনুস খান (২৫) ও হারিস সোহেল গড়েন ৪৪ রানের জুটি। ইউনুসকে ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন মাহমুদুল্লাহ। এরপর হারিসের সঙ্গে ৫১, উমর আকমলের সঙ্গে ৬৩, মিসবাহ-উল-হকের সঙ্গে ৩৩ ও শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে ৪১ রানের চারটি জুটি গড়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান শোয়েব মাকসুদ। দারুণ চেষ্টা করলেও জুটি গড়া ঠেকাতে পারেননি মাশরাফি, রুবেল, সাকিব আল হাসানরা। তাই হারও এড়াতে পারেননি তারা। শেষ পর্যন্ত ৯৩ রানে অপরাজিত থাকেন মাকসুদ। তার ৯০ বলের ইনিংসটি ৯টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ। হারিস ও আকমলের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান করে। আফ্রিদি খেলেন ২৪ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি ও তরুণ পেসার তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন রুবেল ও সাকিব।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj