ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ : প্রত্যাশা এবং সম্ভাবনা

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ছিল মূলত ই-এশিয়া এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্ভাবনী মেলার একটা ধারাবাহিকতা। কিন্তু এর সাথে এখন বেসিস বা অন্য বিভিন্ন সংগঠন যুক্ত হয়ে একটি জট পাকানোর মত অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ বছরের মেলার জন্য থাকা সাংগঠনিক কমিটির দুইটি মিটিং হয়েছে যেখানে বেশ কিছু ভাল এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমি নিজেও এই সাংগঠনিক কমিটির সদস্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি জানতে পেরেছি সাংগঠনিক কমিটি কর্তৃক গৃহীত এসকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখানে সরকার এবং বেসিস মিলে কিছু একটা দাড় করানোর চেস্টা করছে যা আমি জানি না। আমি শুধু জানি যে সাংগঠনিক কমিটি যেসকল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কিছুই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর কারণ হল পুরো আয়োজনের জন্য প্রায় ১৯ কোটি টাকা বাজেট ছিল যার মধ্যে সরকার ৮ কোটি টাকা দিয়েছে। ফলে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাদ দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ছিল ‘বাংলা জোন’ যার দায়িত্ব আমাকেই দেয়া হয়েছিল। বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে এটি করার কথা ছিল। কিন্তু আমাকে জানানো হল এটি হচ্ছে না।

রাসেল টি আহমেদ

ভাইস প্রেসিডেন্ট, বেসিস

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে থাকছে সফটএক্সপো, ই-গভার্নেন্স এক্সপো, মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো এবং ই-কমার্স এক্সপো। এর মধ্যে ই-কমার্স এক্সপো এবার নতুন সংযোজিত হয়েছে। চার দিনে ৪০টিরও বেশি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সম্মেলনে ৭৫ জনেরও বেশি বিদেশি বক্তা অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই আমাদের নিশ্চিত করেছেন যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এবারের মেলায় বেশ কিছু নতুন পণ্য দেখানো হবে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও এটি মেলায় দর্শনার্থীদের আগমনে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই আমি মনে করি। সব মিলিয়ে আমি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ নিয়ে বেশ আশাবাদি।

সাইদুর মামুন খান

কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইল্যান্স বাংলাদেশ

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনে থাকছে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বেশ কয়েকটি সেমিনার। এই সেমিনার গুলোতে দেশ বিদেশের অনেক নামকরা বক্তারা উপস্থিত থাকবেন। এসকল সেমিনারে সবাইকেই জোর দিতে হবে। নতুন কিছু শিখতে পারবে যার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ে তাদের সফলতা আরও বাড়বে। ইল্যান্সের পক্ষ থেকে আমি এমন প্রত্যাশাই করছি।

মনির হোসেন

সিইও, ক্রিয়েটিভ আইটি

তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই আসলে এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এখানে দেখা যায় বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক প্রতিনিধি এবং বক্তারাই অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এটি পর্যাপ্ত নয়। এর বাইরে এই খাতে সংশ্লিষ্ট আমাদের দেশের বিভিন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এখান থেকে কিছু শিখতে পারা আরও সহজ হবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল আরও তথ্যমূলক হওয়াটা প্রয়োজন বলে আমি অনে করি।

শোয়েব আলম

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ম্যাপল মোবাইল

সারা বিশ্বই বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটালাইজেশনের দিকে। আর এর সাথে তাল মেলাতে এটি সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন যারা নিজেদের উদ্যোগে অনেক সমস্যার সমাধান করে নিয়েছেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত। তাই সরকারের উচিত এদিকটায় গুরুত্ব দেয়া। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং শ্রীলংকা এই খাতে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। দেশ দুটির সরকার এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করায় এটি সম্ভব হয়েছে।

ডট নেট'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj