দেহকাব্যর নতুন ধারা…

শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ঋতুপর্ণা সেন। সংক্ষেপে ঋ সেন। কলকাতার চলমান সময়ের সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী। ‘গান্ডু’র পর এবার ‘কসমিক সেক্স’ দিয়ে অতীতের সব রেকর্ডের মুখে ছাই ঢেলে দিলেন তিনি। সিনেমার টেইলরে যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে তাতে গান্ডু সিনেমা তো নস্যি পূর্ণ সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। তাই বলাই যায় এবার ঋ সেন কলকাতার সিনেমায় নতুন চমক নিয়ে এসেছেন। লিখেছেন- নাজমুল হক ইমন

টলিউড নাকি সাবালকত্ব পেল। কারণ ‘কসমিক সেক্স’ সিনেমাটির মাধ্যমেই নাকি সাবালক হলো কলকাতার বাংলা সিনেমা এমনটিই জানান সিনেমার পরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী। সঙ্গম, উত্তেজক, অশ্লীল দৃশ্যে ভরপুর কসমিক সেক্স। এ প্রসঙ্গে পরিচালকের ব্যাখ্যা, ‘কাহিনীর স্বার্থে খুবই প্রাসঙ্গিক তথ্যেই এই দৃশ্যগুলো যুক্ত করতে হয়েছে।’আবারো ঋ সেন, আবারো আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্কের ঝড় এবং নিষিদ্ধ সিনেমা। তবে এবারের মোড়টা একটু ভিন্ন। সিনেমা হলে মুক্তির জন্য আর কোনো অপেক্ষা করলেন না পরিচালক বা শিল্পীরা। তাই ঋ সেনের ভক্তরা তার নতুন সিনেমাটি দেখতে পাচ্ছে অনলাইনে। ঘরে বসেই তারা সিনেমার রগরগে সব দৃশ্যের কসমিক সেক্সে পুলকিত হচ্ছে। কারণ অনলাইনে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কসমিক সেক্স’-এ নেই কোনো কাটাছেঁড়া, কোনো সেন্সর। তবে অনলাইনে টাকা দিয়েই আপনাকে পুরো সিনেমাটি দেখতে হবে। যা সিনেমাটির অনলাইনে গেলে টাকার অঙ্ক এবং অন্যান্য সব হিসেব পরিষ্কার হবে।

যৌনতা-ব্যতিক্রমী ‘কসমিক সেক্স’ সিনেমা মিলছে ইন্টারনেটে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। তাদের নিজেদের সিনেমা ওয়েবে দেখতে পাবেন নিষিদ্ধ সিনেমাটি। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্দেশক অমিতাভ চক্রবর্তীর ব্যতিক্রমী সিনেমা ‘কসমিক সেক্স’ প্রথাগতভাবে কোনো প্রেক্ষাগৃহ অথবা মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি না পেলেও ইন্টারনেটের মারফত গোটা বিশ্ব দেখছে সিনেমাটি।

যৌনতার মাধ্যমে মোক্ষলাভ সম্ভব। যৌনতা সম্পর্কে ধারণার বিস্তৃতিকরণ, পূর্বরাগ ও মিলনের প্রতিটি স্তর পেরিয়ে দেহজ অনুভূতির শীর্ষে পৌঁছানো এবং রতিক্রিয়ার অন্ধিসন্ধি মন্থন করে সৌন্দর্য, সুখ ও শান্তির অপার সমুদ্রে অবগাহনের জটিল কিন্তু অবধারিত রাস্তাটি চেনায় তন্ত্র সাধনা। তবে একবার এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারলে তার সীমানা পার হওয়াই জীবন সাধনার পরম প্রাপ্তি, পরম সাধ্যও বটে। দেহতত্ত্বের এই গাঢ় আঙ্গিককে কিছুটা তরলায়িত করেই ‘কসমিক সেক্স’ সিনেমার কাহিনী সাজিয়েছেন চিত্রনাট্যকার। আর সিনেমাটির মুখ্য তিন চরিত্র কৃপা, দেবী ও জোনাকির পায়ে পায়ে রূপ পেয়েছে তার প্রতিটি গতি, বাঁক, চোরাস্রোত।

সিনেমার পরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তীর কথায়, এই সিনেমাতে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে যৌনতার ব্যবহারের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করেছি। যদি কারো যৌন শক্তির ধারা লক্ষ করা যায়, তা হলে তা শুরু হবে আকর্ষণ দিয়ে। তারপর পর্যায়ক্রমে আসবে রতিক্রিয়া, যৌন সুখের শিখরে পৌঁছানো, বীর্যপাত, জন্ম, জীবন, সন্তানের বিবাহ, বার্ধক্য ও মৃত্যু। যৌন শক্তির প্রবাহের নিরন্তর প্রদর্শনী চলেছে…।

তার আরো দাবি, আমার ছবিতে দেখানো হয়েছে কিভাবে যৌনতার হাত ধরে যুবক কৃপার স্থ‚ল জীবন থেকে সর্বোচ্চ স্তরে উত্তরণ ঘটে। বাংলার ফকিরদের ওপর তৈরি তথ্যচিত্র ‘বিশার বুজ’ এর আগে পরিচালক হিসেবে অমিতাভ চক্রবর্তীকে বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বস্তুত প্রান্তিক মানুষের পরম্পরায় গচ্ছিত দেহতত্ত্বের ভিত্তিতেই সৃষ্টি হয়েছে ‘কসমিক সেক্স’।

ঋ সেন ২০০৩ সালে মিডিয়া পাড়াতে পা দেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে একটু খোলামেলা। এরপর মডেল আর উপস্থাপনায় জনপ্রিয়তা। টিভি সিরিয়াল আর কলকাতার মিউজিক বাংলা টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় সব মিলিয়ে মন্দ নয়।

হঠাৎ করেই পেয়ে যান পরিচালক কৌশিক মুখার্জির ‘তেপান্তরের মাঠ’ সিনেমার অফার। কিন্তু সিনেমাটি নিষিদ্ধ হয়। ২০০৯ সালে কৌশিক মুখার্জির আরো দুটি সিনেমা ‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’ আর ‘বিষ’ এবং শ্যামল কর্মকারের ‘মেনি স্টোরিস অব লাভ এন্ড হেট’ সিনেমাতে নায়িকা ভূমিকায় অভিনয় করেন। আর খোলামেলা ঋ যে এত খোলামেলা আর অগোছালো হয়ে যাবে তা আগে কেউ বুঝতেই পারেনি যেটা ২০১০ সালে কৌশিক মুখার্জির ‘গান্ডু’ সিনেমা মুক্তির পরই জানা যায়। আর কলকাতা সিনেমায় ইতিহাস হয়ে থাকবে ঋ অভিনীত ‘গান্ডু’ সিনেমা। অবশ্য ভারতীয় সরকার এ সিনেমা নিষিদ্ধ করে। এরপর ঋ এর ‘কয়েকটি মেয়ের গল্প’। ২০১৩ সালে অনির্বাণ মুখার্জির ‘বয়ানকা পৃথিবী’ আর সবশেষে কৌশিক মুখার্জির ‘তাসের দেশ’। কৌশিক মুখার্জির তাসের দেশ নিষিদ্ধ অনেক কাটাকাটি সেন্সরের পর মুক্তি মেলে। বেশি রগরগে দৃশ্য ছেঁটে ফেলে দেয়া হয়। তবে ঋ সেনের ‘গান্ডু’ সিনেমাটি নিয়েও মুক্তির আগেই বিভিন্ন মহলে উঠেছিল বিতর্কের ঝড়।

আবার আসি ‘কসমিক সেক্স’ নিয়ে। অন্য সিনেমা থেকে এ সিনেমা সব দিক থেকে হবে হাই ভোল্টেজ কারণ এই সিনেমায় যৌনতা এবং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে এক ধরনের সংযোগের বিষয় অঙ্কন করা হয়েছে। যেখানে হিন্দু দেহতত্ত্বের প্রভাব রয়েছে যা প্রান্তিক পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে আজো চর্চা হয়ে আসছে। সিনেমায় ঋ সেন নগ্নতার দৃশ্য প্রদর্শনের জন্য আলোচিত হন; এর আগেও তিনি কৌশিক মুখোপাধ্যায়ের গান্ডু চলচ্চিত্রে নগ্নতার দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। ২০১২ সালে কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়।

‘কসমিক সেক্স’ সিনেমার কাহিনীতে যা দেখানো হচ্ছে-এক রাতে আঠার বছর বয়সী কৃপার সঙ্গে তার বাবার দ্ব›দ্ব শুরু হয়। কারণ ছিল তার বিমাতাকে নিয়ে। সেখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে এবং তার বাবা মারা যায়; কৃপা তার বাবাকে হত্যা করে। এরপর ভয়ে সে বাড়ি থেকে দূরে পালাতে চেষ্টা করে। সে রাতে রাস্তায় বিভিন্ন বিপরীতমুখী চরিত্রের সন্ধান পায় কৃপা। এক পর্যায়ে তার পরিচয় ঘটে দেবী নামের একজন রাস্তার পথিকের সঙ্গে। জোনাকি নামে দেবীর একজন হিজড়া দালাল ছিল। এরপর কৃপা দেবীর প্রতি প্রেম, যৌনতা এবং ঈর্ষার ফাঁদে পড়ে। সে আবার খুন করে। জোনাকি মারা যায়। কৃপা আবার পালিয়ে বেড়াতে থাকে। এক ভোর কৃপা গঙ্গার তীরে বসে ছিল। এ সময়ে জল থেকে একজন নারীর উত্থান ঘটে। কৃপা দেখতে পায় তার মৃত মা জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে! তাই সে তার মাকে অনুসরণ করে। তিনি কৃপাকে তার ঘরে নিয়ে আসেন এবং ছেলে হিসেবে গ্রহণ করেন। একটি নতুন জীবন এবং অন্যরকম জন্ম দেন।

ভারত রঙ মহোৎসবে অংশ নিচ্ছে সিএটি

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৭তম জাতীয় ‘ভারত রঙ মহোৎসব-২০১৫’-এ অংশ নিতে যাচ্ছে দেশের ব্যতিক্রমী থিয়েটার সংগঠন সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সিএটি)। দিল্লির তাৎপর্যবহ এ নাট্যাসরে দলের আলোচিত প্রযোজনা ‘ম্যাকাবে’ প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছে সিএটি। এটি উত্তর আধুনিক নাট্য প্রযোজনার সমকালীন বৈশ্বিক ধারার প্রযুক্তিনির্ভর একটি শিল্পমাত্রিক একটি নাট্য প্রয়াস। বরেণ্য নাট্যজন কামালউদ্দীন নীলু নির্দেশিত এ নাটকটি রচনা করেছেন তরুণ নাট্যকর্মী আনিকা মাহিন। নাটকটি মঞ্চায়নের লক্ষ্যে সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন টুটুলের নেতৃত্বে গতকাল শুক্রবার রাতে ২৩ সদস্যের একটি নাট্যদল দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছে।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিল্লির কামানী অডিটোরিয়ামে প্রদর্শিত হবে ‘ম্যাকাবে’। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার আয়োজনে ‘ভারত রঙ মহোৎসব-২০১৫’ একযোগে ভারতের দিল্লি, ত্রিপুরা, জাবালপুর, আরঙ্গাবাদ, গোয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উৎসবে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশসহ পোল্যান্ড, ফ্রান্স, নেপাল, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, জার্মানি প্রভৃতি বিশ্বেও বিভিন্ন দেশের নাট্য প্রদর্শিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

:: মেলা প্রতিবেদক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj