অভিনয় এবং গানে মাতাবেন ‘জেলো’

শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৫

অভিনেত্রী, লেখক, ফ্যাশন ডিজাইনার, ড্যান্সার, প্রযোজক, গায়িকা, পরিচালক

যে বিশ্লেষণেই তাকে বিচার করা হোক সব ক্ষেত্রেই তার সফলতা আকাশচুম্বী। ৪৫ বছর বয়সেও হলিউড হোক আর বিশ্ব সঙ্গীত হোক কোনো ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে পাল্লা দেয়ার কেউ নেই। হলিউডের ক্যারিয়ারে আবার নিয়মিত হচ্ছেন তিনি। নতুন বছরে একই সঙ্গে তিনটি ছবি দিয়ে হলিউড কাঁপানো এ অভিনেত্রী হলেন জেনিফার লোপেজ। নতুন বছরে ‘দ্য বয় নেক্সট ডোর’, ‘হোম’ আর ‘লিল এন্ড ইভ’ ছবিগুলোতে অভিনয় করেছেন। ‘দ্য বয় নেক্সট ডোর’ ছবিটি আমেরিকান থ্রিলার ছবি। রব কোহেন এবং জ্যাসন বেøমের যৌথ পরিচালনার এ ছবিটির মূল লগ্নিকারক জেনিফার লোপেজ নিজেই। শুধু তাই নয়, ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছেন লোপেজ। ছবিতে জেনিফারের সঙ্গে অভিনয় করেছেন রায়ান গিজম্যান, জন করব্যাট, ক্রিস্টিন চেনোওয়েথ। ক্লারি পিটারসন (জেনিফার লোপেজ) নিঃসঙ্গ এক নারী, যার বিয়ে হওয়ার এক বছরেরমাথায় বিয়ে ভেঙে যায়। কারি যখন জীবন নিয়ে হতাশ তখন পরিচয় হয় নোয়া সেন্ডবন (রায়ান গিজম্যান) নামের এক যুবকের সঙ্গে। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এক সময় কারি জানতে পারে নোয়ার জীবনের অন্ধকার সব কাহিনী। হতাশার সাগরে ডুবে কারি জড়িয়ে পড়ে আরো একটি অজানা জগতে। যে জগতের গন্তব্য নেই কোনো সঠিক দিকনির্দেশনা। প্রতিনিয়ত সেখানে ভর করে ম”ত্যুর আতঙ্ক। উদ্ভট এবং বিচিত্র চিন্তাধারা সঙ্গী হয় কারির মনোজগতে। ক্রমশ দূরে সরে যেতে থকে তার চারপাশ। চিরচেনা নোয়াও ধীরে ধীরে অচেনা হতে থাকে তার জীবনে।

থ্রিলারধর্মী এ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২৩ জানুয়ারি। ‘দ্য বয় নেকস্ট ডোর’ ছবিটি তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ছবিটি প্রযোজনার জন্য জেনিফার লোপেজ অর্থ দিতে সম্মত হন। ছবিতে জেনিফারের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য রায়ার গিজম্যানকেই নির্বাচন করা হয়। ইতোমধ্যে ছবিটি নিয়ে বেশ একটা কৌত‚হল তৈরি হয়ে গেছে দর্শকদের মনে। অধীর আগ্রহ নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন ছবিটির জন্য। বিশেষ করে লোপেজের ভক্তদের জন্য লম্বা একটা বিরতিই বলা চলে। এ ছবির মাধ্যমেই পুরো এক বছরেরও বেশি সময় পর দর্শকের মুখোমুখি হচ্ছেন অভিনেত্রী লোপেজ।

জেনিফার লোপেজ বলেন, ছবিটিতে রোমান্টিকতার সঙ্গে সাইকো থ্রিলারের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। অনেক পরিকল্পনা করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই, রায়ান গিজম্যানকে। তার মতো একজন ব্যস্ত এবং উঁচুমাপের অভিনেতা আমার ছবিতে কাজ করেছেন এটা আমার সৌভাগ্যও বলা চলে।

শুধু এই ছবিটিই নয়, নতুন বছরে মুক্তি পাচ্ছে জেনিফার লোপেজ অভিনীত আরেক ড্রামাটিক থ্রিলার ছবি ‘লিল এন্ড ইভ’ ছবিটি। চার্লেস স্টোনের পরিচালনায় ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন ভিওলা ডেভিস, এমেল অ্যামান। গল্পে দেখা যায়, দুজন বান্ধবী তাদের সন্তান নিয়ে মহাচিন্তিত। বাইরে খেলতে যাওয়ার কথা বলে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। এক সময় দুই বান্ধবী অনুভব করে ভৌতিক কোনো কিছুর অস্তিত্ব। ছবিটি ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাবে। এ ছাড়াও হোম নামে আরেক এনিমেশন ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। জেনিফার লোপেজ তার ক্যারিয়ার জীবন শুরু করেন অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে। গানের ক্যারিয়ারে জেনিফারের অবিচ্ছিন্ন সাফল্য থাকলেও অভিনয়ের ক্যারিয়ারে প্রথমে বিশাল হোঁচট খান। টেলিভিশনের সিরিজগুলোতে সরব থাকলেও বড় পর্দায় ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কোনো হিট ছবি উপহার দিতে পারেননি।

১৯৯৮ সালে সেলেনা ছবিতে অভিনয় করে প্রথমবার অভিনেত্রী হিসেবে আলোচিত হন। একই বছর এনাকোন্ডা ছবিটি হিট হওয়ায় জেনিফারের অভিনয়ের ক্যারিয়ার পোক্ত হয়। পরের বছর অভিনয় করেন আইট অফ সাইট ছবিতে জর্জ ক্লুনির বিপরীতে। রোমান্টিক ছবিটি সুপারহিট হয়। ১৯৯৯ সালে মিউজিক ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ২০০১ সালে নতুন রেকর্ড করেন এ অভিনেত্রী। সে বছর একই সঙ্গে জেনিফারের দ্য ওয়েডিং প্লেনার ছবি এবং গানের এলবাম জেলো মুক্তি পায়। ছবিটি এবং এলবামটি একই সঙ্গে টানা দুসপ্তাহ শীর্ষস্থান দখল করে রাখে। এ রেকর্ডটি এ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।

এরপর ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করেন মেড ইন ম্যানহাটান, গাগলি, জারসি, সেল উইন্ডেস, মাস্টার ইন ল, এন আনফিনিশড লাইফ, বর্ডার টাউন, দ্য ব্যাক আপ প্লেন, হোয়াট টু এক্সপেক্ট হোয়েন ইউ আর এক্সপেক্টিং, পার্কার উল্লেখযোগ্য। ছবিতে অভিনয় করে জেনিফার এ পর্যন্ত আয় করেছেন ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অভিনয়ের পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন গানও।

২০১৪ সালে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে পিটবুল এবং ক্লুডিয়া লেটির সঙ্গে উই আর ওয়ান গান গেয়ে বিশ্ব কাঁপান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম আলোচিত হননি। প্রথমে জেনি নাও, পরে ক্রিস জেডের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মার্ক এন্থনির সঙ্গে ঘর বাঁধেন। সে সম্পর্কের ইতি ঘটে গেল বছর। সম্প্রতি নতুন করে ডেটিং করছেন ক্যাস্পার স্মার্টের সঙ্গে। ছেলে মেক্সিমিলান ডেভিড, মেয়ে এমি মারবেলকে নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সুখেই আছেন জেনিফার। আর ক্যারিয়ারে তো ৪৫ বছর বয়সেও গতিশীল।

:: সালেহীন বাবু

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj