ফ্যাশনে টেনিস ড্রেস বৈচিত্র্য

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

খেলার জগতে খুব কম খেলাই আছে যেখানে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে খেলা হয় না। টেনিস এর অন্যতম একটি। এই স্বাধীনতাই বস্তুত টেনিসের পোশাক ফ্যাশন-নিরীক্ষার অনুঘটক হয়েছে। তার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি।

টেনিস পোশাকের পূর্বশর্তই হল পারফরম্যান্স। তবে ফ্যাশন সবসময়ই প্রভাবকের ভূমিকায় থাকে। এজন্যই বিভিন্ন ধরনের প্যাটার্নের ব্যবহার এবং নিরীক্ষাও দেখা যায়। ফ্যাশন ডিজাইনারদের অন্তর্ভূক্তি এক্ষেত্রে যথেষ্ট তৎপর। কারণ এই পোশাক ক্রীড়াবিদরাই পরেন না। বরং অনেক বেশি করে পরে থাকেন ফ্যানরা। ফলে ব্যবসা তো সেখানেই।

উইম্বলডন রঙকে সরিয়ে রাখলেও বিশ্বজুড়ে আর কোথাও রঙ অপাংক্তেয় নয়। বরং রঙের নিরীক্ষাই টেনিসের পোশাককে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত ও নান্দনিক করে তুলেছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির উৎকর্ষই চালকের আসনে রয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি অনুষঙ্গই বাদ যায় কেন? হেড ব্যান্ড, ক্যাপ, হাতঘড়ি, রিস্টব্যান্ড, ব্যান্ডানা ইত্যাদি কতকিছুইতো আজকাল খেলোয়াড়রা ব্যবহার করছেন। আর সেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজারজাত করে প্রচুর অর্থ তুলে নিচ্ছে বাজার থেকে।

এখানে একটু বলা প্রয়োজন, পুরুষ আর মহিলাদের টেনিসে পোশাকের পার্থক্য স্পষ্ট। পুরুষরা সাধারণত শর্টস বা হাফপ্যান্ট আর হাফহাতা টিশার্ট পরে থাকেন। শীতে কখনো সখনো সোয়েটার। তবে ইদানিং হাতাকাটা টিশার্টও দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মেয়েদের পোশাকে রয়েছে যথেষ্ট বৈচিত্র্য। সাধারণ মানুষের ফ্যাশনের সঙ্গে টেনিসের পোশাক তাই একাকার হয়ে যায়। চেনার উপায় সেক্ষেত্রে একমাত্র র‌্যাকেট।

স্পোর্টস ফ্যাশনে ইউরোপ নয়, উদার ভূমিকা আমেরিকার। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এর প্রমাণ মেলে। কোর্টে মেয়েদের টেনিসকে আরো নারীসুলভ নান্দনিকতা দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন প্লেয়ার-কাম ডিজাইনার টেড টিনলিং। তিনি কেবল নিজের জন্য ছাড়াও ডিজাইন করেছেন মরিন কনোলি, বিলি জি কিং এবং অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেটর কোর্টের জন্যও। তিনি আরও ডিজাইন করেছেন ইভনি গুলগাং কওলি’র জন্য।

সাদা হাতাকাটা শিফট ড্রেস এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ইভনির জন্য তৈরি পোশাক অন্যভাবে বলা যেতে পারে ১৯৬০ দশকের মড আর পপ আর্ট ট্রেন্ডের প্রতি তাঁর অনুরাগেরই প্রকাশ।

১৯৭১ সালে আমেরিকান সুইটহার্ট ক্রিস এভার্টের শর্ট লেস ড্রেস কিংবা ২০০৮ সালের মারিয়া শারাপেভার টাক্সেডো-প্রমাণিত প্যান্টস্যুট আর মেশ টপও টিনলিংয়ের টেনিস ও ফ্যাশন মেলবন্ধনের চমকপ্রদ স্বাক্ষর।

বর্তমানে স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানিগুলোতে ডিজাইনারদের উপস্থিতি টেনিস পোশাককে প্রতিনিয়তই আকর্ষণীয় করে তুলছে। মেয়েদের তো বটেই, ছেলেদের পোশাকও সেই ওজ্জ্বল্য থেকে বঞ্চিত নয়।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে ফ্যাশন। পুরোনো থেকে নতুন। আবার নতুন থেকে পুরোনো এ মায়া জালেই আবদ্ধ গোটা ফ্যাশনাঙ্গন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj