মৃত্যুঝুঁকিতে শিশুরা : সড়কে অটোরিকশা আতঙ্ক

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

মজিদ কাজল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) থেকে : ব্যাটারিচালিত শখের অটোরিকশা এখন অনেকটা আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। অভিভাবকদের অনেকে অটোকে এখন ‘যমদূত’ হিসেবে দেখছেন। কেননা, গত দুদিনের পৃথক দুর্ঘটনায় দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে শিশু আহতের সংখ্যা।

নিহত শিশুরা হলো গোলাপী রানী (৫) ও আঁখি মনি (৬)। ঘটনায় অদক্ষ অটোরিকশা চালক ও জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন সুধীরা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া-বড়াইবাড়ী সড়কে পীরেরহাটের পাশে রাস্তা পারাপারের সময় গত বৃহস্পতিবার গোলাপী রানী (৫) নামের এক শিশু অটোরিকশা চাপায় মারা যায়। সে দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের দিলিপ চন্দ্র রায়ে মেয়ে। একই স্থানে গত মঙ্গলবার অটোচাপায় মারা যায় আঁখি মনি (৬) নামের আরো এক শিশু। সেও একই এলাকার আমিনুর রহমানের মেয়ে।

গঙ্গাচড়া-বড়াইবাড়ী সড়কে গতকাল শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, পীরেরহাট এলাকার একই স্থানে একটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। দুটি স্কুলেই প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার শিশু শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করে। বাজারের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে দ্রুতগতিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সবসময় চলাচল করছে। এসব অটোযান চালকদের বেশিরভাগের নেই গাড়ি পরিচালনার সাধারণ জ্ঞান। তারপরও বিদ্যালয়ের পাশের পাকা সড়কে নেই কোনো গতিরোধক। যে কারণে শিশুদের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

পীরেরহাটের পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে গতকাল দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিশু শিক্ষার্থীর বয়স ৬ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। তারা রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম জানে না। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে দোকান হওয়ায় শিশুরা বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসা-যাওয়া করছে। যে কারণে এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেক শিশু। বাড়ছে অভিভাবদের মধ্যে আতঙ্ক ও শিশু মৃত্যের হার।

একই সঙ্গে বাজারের পাশে গতকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা গেছে, পাকা রাস্তায় ও দোকানের পাশে অনেক শিক্ষার্থী অকারণে ভিড় করছে। যাদের অধিকাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। তবে তারাও রাস্তা পারাপার ও রাস্তার পাশে ব্যবহৃত জরুরি চিহ্ন সম্পর্কে অজ্ঞাত।

কারণ অনুসন্ধানে উভয় স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের রাস্তা চলাচলে উভয় বিদ্যালয়ে বিশেষ কোনো শিক্ষা দেয়া হয় না। শিক্ষকরা যদি তাদের বিদ্যালয়ে পুঁথিগত শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রাস্তা চলাচলে শিক্ষাদানে যতœশীল হন, তাহলে এমন অনাহুত ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেক সুধী।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, স্কুলের পাশে পাকা সড়কে গতিরোধক রাখতে হবে এবং যান চলাচলের সময় অবশ্যই চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের রাস্তায় চলাচলে নিয়ম-কানুন শিক্ষায় বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক অটোযান চালকদের গাড়ি ব্যবহার না করার প্রতি কঠোর হতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা গেছে, সড়কে দুর্ঘটনার শিকার অন্য বয়সী মানুষদের তুলনায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি। শিশুদের অজ্ঞতা এবং বৃদ্ধদের বয়সের ভারে বিভিন্ন কারণে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত নভেম্বর মাসে ভর্তি এসব শিশু ও বৃদ্ধদের বেশিরভাগ মারা গেছেন।

দুর্ঘটনা এড়াতে কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুর ইসলাম বলেন, অদক্ষ অটোচালকদের কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি অটোচালকদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে তারপরে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj