শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ : ধর্ষিতার জরিমানা ৫০ হাজার

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : শ্রীনগরে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ মীমাংসায় এক ধর্ষিতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে সালিশ মীমাংসায় ধর্ষককে ১ লাখ ও ধর্ষিতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, রাঢ়িখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার গ্রাম্য ডাক্তার ও দুই সন্তানের জনক মফিজুল গত ৪ ডিসেম্বর রাত দশটার দিকে একই এলাকার এক গৃহবধূকে ফাঁদে ফেলে বালাসুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতার চিৎকারে স্থানীয় দুই যুবক এসে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে। ঘটনায় মফিজুল দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতাকে তার বাবার জিম্মায় দিয়ে দেয়া হয়। ধর্ষিতার বাবা নতুন বাজার এলাকার গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র ভ্যানচালক ওইদিনই স্থানীয় সালিশদারদের পরামর্শে বিষয়টি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদকে জানান। চেয়ারম্যান ঘটনাটি বিচার সালিশ করে মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে গত ৯ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান স্থানীয় সালিশদারদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ মীমাংসায় বসেন। এরপর ভাগ্যকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ সরদারের আত্মীয় হওয়ায় তার প্রভাবে মফিজুল সালিশ মীমাংসায় বসতে টালবাহানা শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানায়। পরে গতকাল চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদসহ আরো কয়েকজন মিলে ধর্ষক মফিজুলকে নতুন বাজার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করে।

অন্যদিকে ধর্ষিতাকেও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধর্ষিতা জানান, মফিজুল তার স্বামীর আত্মীয়। মফিজুলের কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে সে চিকিৎসার কথা বলে তার মোবাইল ফোনে গোপনীয় দৃশ্য ধারণ করে। পরে ওই রেকর্ড তার স্বামীকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে ফাঁদ পেতে তাকে ধর্ষণ করে।

এ ব্যাপারে সালিশদার রাঢ়িখাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসু মোল্লা বলেন, মফিজুল প্রকৃত অর্থে খারাপ। ইতিপূর্বে ফাঁদ পেতে আরো তিনটি সংসার নষ্ট করেছে। এবার তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে তাকে এলাকা থেকে দোকান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। ধর্ষিতা বিষয়টি তার স্বামীকে না জানিয়ে রাতে মফিজুলের কথামতো যাওয়ায় তাকেও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj