গোপীবাগ সিক্স মার্ডারের ১ বছর : হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ আজো উদঘাটন হয়নি

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৪

আজিজুর রহমান : আজ রোববার রাজধানীর গোপীবাগে চাঞ্চল্যকর সিক্স মার্ডার ঘটনার ১ বছর পূর্তি। ঠিক ১ বছর আগে ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বর আয়না বাড়ির দোতলায় খুন হন কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুকসহ আরো ৫ জন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করলেও হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ আজো উদঘাটন করতে পারেনি তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৭ আগস্ট পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় একই কায়দায় নিহত চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপক ও ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতেরও কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে এ হত্যাকাণ্ডের। আলোচিত সিক্স মার্ডারের ৯ মাস পর গোলাম সারওয়ার রাহাত, আজমির অমিত, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম জিতু ও আল-আমিন নামে জেএমবির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৪ সেপ্টম্বর বুধবার সকালে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম শুনানি শেষে তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে এখন তারা কারাগারে। যদিও এ মামলায় গ্রেপ্তারের দেখানোর সময় তারা দাবি করেছিল, অন্য মামলায় ৬ মাস ধরে কারাগারে রয়েছে তারা। এ সিক্স মার্ডারের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি তাদের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর বলেন, সিক্স মার্ডারের ঘটনায় প্রথম দিকে পুলিশ উগ্রপন্থী কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনকে সন্দেহ করে আসছিল। ৪ জন গ্রেপ্তারের পর অনেক কিছু খোলাসা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাক্ষী ও সন্দেভাজনদের মধ্যে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সেখান থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, ৪ জনকে দুদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে সময় তারা কয়েকজনের নাম বলেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই হত্যার মূল মোটিভ বের হয়ে আসবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ আজো উদঘাটন করা যায়নি উল্লেখ করে নিহত লুৎফরের ছেলে ও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বাসার মধ্যে এমন নৃশংসভাবে তার বাবা, ভাইসহ ৬ জন খুন হলেন। ১ বছরেও প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা গেল না। ডিবি পুলিশ তো অনেক বড় বড় ঘটনায় আসামি ধরে। তবে ৬ খুনের এই ঘটনাটি কেন যেন মনে হয় পুলিশ গুরুত্বই দিচ্ছে না।

আবদুল্লাহ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে সব ধরনের সহায়তা করতে চান তারা। বারবার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিলেও তারা তেমন গুরুত্বই দিচ্ছেন না। হত্যাকাণ্ডের ১ বছর হয়ে গেলেও মূলহোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা।

প্রকৃত কারন উদঘাটন না হওয়ায় পুলিশের আন্তরিকতা রয়েছে কিনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদৌ ওই ঘটনার কোনো তদন্ত করছে কিনা নিহতের পরিবারের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কর্মকর্তা আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর বলেন, নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj