দেশী সোয়েটার

রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৪

নিট প্রডাক্টের শীতপোশাকের মধ্যে পোলক নিটের প্রচুর জ্যাকেট তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। এছাড়া কটন ফিলিস ফ্যাব্রিকে তৈরি জ্যাকেট, হৈভি জার্সি, রিব বা লাইক্র্যায় তৈরি ফুল¯িøভ টি-শার্ট এখান থেকে যাচ্ছে। তবে অনেক দিন থেকেই সোয়েটারের ডিজাইনে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। ওয়ার্ল্ড মার্কেটে এখন হুডি জ্যাকেট ট্রেন্ডি। রপ্তানি হওয়া কিছু কিছু সোয়েটারেও হুডি আছে, তবে পরিমাণে কম। নিটের মধ্যে ফেরিস্টারি, টেরি ফ্যাব্রিকের ফ্যাশনেবল পোশাক বেশি তেরি হয়। পুরুষদের জন্য তৈরি শীতপোশাকে বেসিক ভি-নেক ও নেক ডিজাইন বেশি চলছে। কিছু সোয়েটার অ্যাক্সেসরিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে জিপার বা বাটন বা রিবন। ¯িøভলেস বা হুডেড পুলওভার, রাউন্ড কিংবা স্ট্রাইপ ডিজাইনেও চল রয়েছে। মেয়েদের জন্য তৈরি সোয়েটারে রাজত্ব করছে লং কার্ডিগানর, লং পুলওভার, রোল নেক বা গাউন স্টাইল।

ফ্যাশন দুনিয়ায় নিট গার্মেন্টস নতুন কিছু নয়। বহু বছর আগে এই ফ্যাব্রিকের উৎপত্তি; কিন্তু তা কোথায় হয়েছে, সেটা আজো রয়ে গেছে রহস্যের স্তরে। ইতিহাস থেকে আন্দাজ করা হয়, উত্তর আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্য নিটের উৎসভূমি। গোড়ার দিকে মূলত হাত-পায়ের আবরণ হিসেবে নিট গার্মেন্টস ব্যবহার হতো। কালের বিবর্তনে ভারী নিট বা এ জাতীয় পোশাকের আবির্ভাব ঘটে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে নিট গার্মেন্টসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলেও ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে তখনো ছিল ওভেন গার্মেন্টসের আধিপত্য। তবে শীতের ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে সোয়েটার বা কোটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে গত শতকের মাঝামাঝিতে।

শীতপোশাকের বিবর্তন

ফ্যাশন গার্মেন্টসে শাল, গাউন, কোট ও সোয়েটার শীতপোশাক হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। পঞ্চাশের দশকে ফরমাল ও আলট্টা ফেমিনিন ডিজাইন হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। বাহারি রঙ ও লেস সংযুক্তির কারণে এ সময় জনপ্রিয়তা পায় এনগোরা সোয়েটার। তখন কিছু কিছু সোয়েটার বা জ্যাকেটে এমব্রয়ডারি, বাটনসহ জিপার ব্যবহৃত হতো। ষাট দশকের গোড়ার দিকে সেবাস্তিয়ান বা তার মতো প্রতিষ্ঠিত ডিজাইনাররা উলে তৈরি ভারী বুননশৈলীর সোয়েটার প্রবর্তন করেন। এগুলো ছিল হিপ অব্দি, সঙ্গে কনট্রাস্ট বাইন্ডিং স্টাইল। এই দশকেই লং বেল্টের ভারী উলের সোয়েটার তরুণ প্রজন্মের জন্য বাজারে আনেন মেক্সিকোর সোয়েটার নির্মাতারা। সত্তর দশকে সোয়েটার কিংবা কোটের ফ্যাশনে আসে ইনফরমাল আবহ। এ সময় ডিজাইনার পিয়ের কাদে অ্যাক্রিলিক ইয়ার্ন দিয়ে কালারফুল সোয়েটার তৈরির প্রচলন করেন। এই দশকের পোশাক হিসেবে সোয়েটারে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। কিছুটা বড় আকৃতির কিংবা স্ট্রাইপ ও বেল্ট সংবলিত সোয়েটার ছিল সবার পছন্দের। গø্যামার ও আভিজাত্যের সম্মিলনে নতুন আবহে সোয়েটার ফ্যাশন ট্রেন্ডে স্থান পায় আশির দশকে, যা এখনো সংযোজন-বিয়োজন ও প্যাটানের বৈচিত্র্যের কারণে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। তবে এখন তরুণ প্রজন্মের চাহিদা এবং ফ্যাশনেবল বৈশিষ্ট্যের কারণেই শীতের ফ্যাশন গুরুত্বপূর্ণ পোশাক হিসেবে সোয়েটার আলাদা ও নিজস্ব একটা জায়গা করে নিয়েছে।

সোয়েটার ইয়ার্ন

নিটের ইয়ার্ন সোর্স হিসেবে হেভি নিট কটন বাংলাদেশে তৈরি হয়। কটনের বাইরে অ্যাক্রিলিক ইয়ার্ন বিদেশ থেকে এনে এখানে ডাই করে নেয়া হয়। সাধারণত নিটিং সোয়েটার তৈরির ইয়ার্নগুলো টু প্লাইয়ের হয়। সোয়েটার গেজ হিসেবে ৩, ৫, ৭, ১০, ১২ মূলত ব্যবহৃত হয়। সোয়েটার তৈরিতে কটন, অ্যাক্রিলিক, উল, নাইলন, অ্যাক্রিলিক মিলান্স, কটন মিলান্স, ভিসকোজ, পপকর্ন, তামু ইত্যাদি ইয়ার্নের ব্যবহারই বেশি।

দেশী সোয়েটারের বিদেশযাত্রা

বাংলাদেশে মূলত নিটিং ও লিংকিন পদ্ধতিতে সোয়েটারর বুনন হয়ে থাকে। বিদেশি বায়ার তাদের দেশীয় প্রতিনিধি (বায়িং হাউজ) কিংবা নিজেরাই সরাসরি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যোগাযোগ করে অর্ডার দেয়। দেশের প্রায় দেড় হাজার ফ্যাক্টরি এই কাজে নিয়োজিত। বিদেশী ব্র্যান্ড বা বায়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জারা, পারাসুকো, বারি, পিএমই, রিভার আইল্যান্ড, রুহেল, অ্যামব্রো, সিলেক্টড, জি স্টার, রো, ডিজেল, স্টোন আইল্যান্ড, এইচএনএম, ওয়ালমার্ট, টার্গেট, মার্কস এন্ড স্পেন্সার, নো অ্যাক্সেস, গ্যাপ, ম্যাঙ্গো, জেসি পেনি, লিপমার্ক, গোল্ডেন পেনি, টাটি ইন্টারন্যাশন ইত্যাদি। কিছু ব্র্যান্ডের বায়াররা স্যাম্পল অ্যাপ্রæভ হলে অর্ডার দেয়। পাশাপাশি সিএম বায়াররা অর্ডার দেয় লোকাল বায়িং হাউজের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য সোয়েটারের বড় একটি অংশ যায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। এর মধ্যে জার্মানি বড় ক্রেতা। তারপর যুক্তরাজ্য, ফ্যান্স, ইতালি, স্পেন। এই পাঁচ দেশই মূলত বাংলাদেশী নিটওয়্যার পণ্যের বড় ক্রেতা।

দেশী ফ্যাশন হাউস

বাংলাদেশী ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো মুলত বাইরের দেশের বায়ারদের ডিজাইনই বেশি অনুকরণ করে থাকে। তবে এর মধ্যেও দেশীয় ব্র্যান্ড মেনজ ক্লাব, জেন্টল পার্ক, ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, রেক্স, ইয়োল বেশকিছু ইউনিক ডিজাইন ডেভলপ করেছে এই শীতে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj