নতুন বন্ধু

রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

শুধু যে সমমানসিকতাসম্পন্ন মানুষেরাই আপনার বন্ধু হবেন তেমনটা কিন্তু নয়, বরং নতুন বন্ধুর মানসিকতা যেমনই হোক না কেন তার প্রতি আপনার সহনশীলতা এবং আপনার মতের প্রতি তার সমর্থনই পারে একটা নির্ভেজাল বন্ধুত্ব গড়ে দিতে। আর বন্ধুত্ব থেকে প্রণয়ে আবদ্ধ সেতো চিরন্তন তারুণ্যের আবেদন। প্রেম সৌন্দর্যের ভেতরে থাকে। ভালোবাসা মানুষকে সৌন্দর্যের শান্তির আবহে ডুবিয়ে দেয়। জয়তু ভালোবাসা, জয়তু শান্তি…

জীবনে চলতে গেলে বন্ধুর সান্নিধ্য চাই সবারই। আবার চলতি পথে ব্যস্ততা কিংবা জীবন ধারার অদল-বদলের কারণে অনেক বন্ধুকে হয়তো নেহাত অনিচ্ছাতেই হারিয়ে ফেলি আমরা। একইভাবে পরিবেশ আর পারিপাশ্বর্কিতার কারণে কখনো কখনো সন্ধান করতে হয় নতুন বন্ধুত্বেরও। আর নতুন বন্ধু খোঁজার এই সময়টায় কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে না পারলে তা সময়ের পালাবদলে অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। একজন ভালো বন্ধু পাওয়ার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝে কোনো ধরনের স্বার্থ কিংবা প্রাপ্তির চিন্তা মাথায় না রাখা। মনে রাখবেন স্বার্থের প্রয়োজনে করা বন্ধুত্ব আপনাকে একটা সময়ে লাভবান করলেও চূড়ান্ত বিচারে আপনাকে করে তুলতে পারে নিঃসঙ্গ। এ কারণে কোনো ধরনের প্রাপ্তির চিন্তা থেকে নয়, বরং নিজের ভালোলাগা আর ভালোবাসাগুলোকে ভাগাভাগি করে নেয়াই হোক বন্ধুত্বের প্রথম দাবি। দ্বিতীয়ত, বন্ধুত্বের মাঝে যেন ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য সহজেই স্থান করে নিতে না পারে সেজন্য নতুন করে বন্ধু হওয়ার মানসিকতাটুকু বোঝাও কম-বেশি জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু যে সমমানসিকতাসম্পন্ন মানুষেরাই আপনার বন্ধু হবেন তেমনটা কিন্তু নয়, বরং নতুন বন্ধুর মানসিকতা যেমনই হোক না কেন তার প্রতি আপনার সহনশীলতা এবং আপনার মতের প্রতি তার সমর্থনই পারে একটা নির্ভেজাল বন্ধুত্ব গড়ে দিতে।

নতুন কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়বার মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার মনের কথা কিংবা কাজের পরিবেশের অনেক কথা ভাগাভাগি করে নিতে চান তেমনি আপনার বন্ধুটির মনেও একই রকম আকাঙক্ষা থাকাটা স্বাভাবিক। কাজেই নিজের কথা বলার পাশাপাশি বন্ধুর কথা শুনতে চাইবার মানসিকতাটাও জরুরি। আর এ প্রেক্ষাপটে খুব বেশি মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক কোনো মানুষের সাথে বন্ধুত্বে জড়ানোর আগে অবশ্যই তার সাথে আপনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন সে বিষয়টুকু ভেবে দেখা দরকার।

বন্ধুত্বের যেমন সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা হয় না তেমনি বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধরাবাঁধা কোনো নিয়মের কথা বলা যায় না। তবে বন্ধুত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান যেন মুখ্য হয়ে না দাঁড়ায় সেটি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। আবার বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর এ ধরনের চিন্তাও মাথা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। কেননা যাদের কাছে বন্ধুত্বের আবেগের চাইতে নিজের অবস্থান অনেক বেশি মুখ্য তাদের সাথে কখনও প্রাণখুলে বন্ধুত্বের আনন্দটুকু উপভোগ করা যায় না। আবার বন্ধুর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যারা খুব বেশি কৌতূহল দেখান বা বন্ধুর কোনো বিষয়ে যারা উপযাচক হয়ে অযাচিত উপদেশ বিলাতে ভালোবাসেন তাদেরকেও নতুন বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতে সতর্ক হতে হবে। সর্বোপরি নতুন বন্ধু হিসেবে কারো দিকে হাত বাড়াতে বা কারো বন্ধুত্বের ডাকে সাড়া দিতে তার মানসিকতা, বন্ধুর প্রতি তার মূল্যায়ন সম্পর্কেও কম-বেশি জানতে এবং বুঝতে হবে।

চমক দিন প্রিয়জনকে

* কীভাবে চমকে দেবেন সেটা বুঝতে হবে আপনাকে। অনেক কিছুই করতে পারেন। তবে মাথায় রাখতে হবে, চমকে দিতে গিয়ে আবার বিরক্ত বা বিব্রত করবেন না যেন। আমও যাবে, ছালাও যাবে।

*যদি ছবি আঁকতে পারেন তো আপনার প্রিয় মানুষটির ছবি এঁকে বাঁধিয়ে উপহার দিতে পারেন। মনে রাখবেন যে উপহারে আপনার প্রতিভা, মেধার স্বাক্ষর আছে সেটির মূল্য অপরিসীম।

* উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন সেটি ভুল বার্তা না দেয়। তার পছন্দ বোঝার চেষ্টা করুন। যদি সে টিভি সিরিজ পছন্দ করে তার একটি ডিভিটি সেটও হতে পারে লাগসই উপহার। গান পছন্দ করলে গানের সিডি।

* প্রিয় মানুষটির প্রিয় ফুলের একটা তোড়া হাতেও হাজির হতে পারেন। পছন্দের ফুল দিয়ে ভরিয়ে দিন তার পড়ার টেবিল, ঘর কিংবা গোটা বাড়ি বা বারান্দা। কর্মস্থলেও ফুলের তোড়া পাঠাতে পারেন। কলিগদের কাছে বুক ফোলাতে পারবে সে।

* ছুটির সময় তার অফিসে চলে যান। সেখান থেকে দুুজনে কোথাও ঘুরে বাসায় ফিরুন। ঘোরার ক্ষেত্রে একটু অপরিচিত জায়গায় যাওয়াই ভালো। খেতে পারেন প্রিয়জনের পছন্দের কোনো রেস্তোরাঁয়। খেতে খেতে বলুন ভালোবাসার কথা।

* টেডি বিয়ার বা পুতুল কিনে ভালোবাসার কথা সেঁটে উপহার দিন।

* প্রিয়জনকে নিয়ে একটা ডায়েরি লিখতে পারেন। সেখানে আপনাদের দেখা হওয়া, একে অপরের পছন্দের বিষয়গুলো লিখতে পারেন। এ ডায়েরিটাই উপহার দিতে পারেন বিশেষ দিনে।

* আপনি ভালোবাসার কথা লেখা কোনো কাগজ চুপিচুপি আপনার প্রিয় মানুষটির ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন।

* তার পুরোনো কোনো ছবি বাঁধিয়ে উপহার দিন।

* এখন অনলাইনের যুগ। সুতরাং ই-কার্ড পাঠাতে পারেন। এসএমএস লিখুন ঝাক্কাস। তার জন্য একটা ওয়েব পেইজ বানিয়ে উপহার দিতে পারেন। চমকে যাবে সন্দেহ নেই।

* প্রথম যেখানে পরিচয় হয়েছিল সেখানে ঘুরতে যেতে পারেন। প্রথম দিন যে পোশাক পরে গিয়েছিলেন সেটাই পরে যান। সেইদিনের কথা আলাপ করুন।

* এফএম রেডিওর যুগ চলছে। যে কোনো একটি রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে তার কাছে বার্তা পাঠাতে পারেন। শোনাতে পারেন পছন্দের গান। তবে এক্ষেত্রে তার রেডিও শোনাটাও নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj