জেনে নিন : ৫৭ মিনিট চালু, ১৭ মিনিট বিশ্রাম

রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

পারকিনসন্স ল : সিরিল নর্থকোট পারকিনসন বলেছিলেন, শেষ মিনিট পর্যন্ত আপনার অপেক্ষার অর্থ হলো আরো এক মিনিট বেশি সময় নেয়া। আমাদের সবার জীবনে প্রতিনিয়ত এই নিয়মের প্রয়োগ ঘটে। খেয়াল করে দেখুন, এক মাস আগে যে প্রজেক্টটি শুরু করেছিলেন, হয়তো তার আসল কাজটুকু হয়েছে শেষতম সপ্তাহে। অর্থাৎ, বাকি সময়টুকু পুরোই জলে গেছে। পারকিনসনের এই বিখ্যাত ল-এর মাধ্যমে কাজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য আনা হয়েছে।

সক্ষমতার সর্বোচ্চ বিন্দুতে পৌঁছানো: অ্যাথলেটরা সক্ষমতার এই অংশকে বলেন ‘ইন দ্য জোন’। এই পর্যায়ে আপনি এতটাই মনোযোগী থাকেন যে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ আপনাকে একচুলও টলাতে পারে না।

একটিমাত্র কাজ: একযোগে বহু কাজের বিষয়ে অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। অর্থাৎ একসঙ্গে বহু কাজ নয়, বরং এক কাজ থেকে অন্য কাজে চলে যাওয়া। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল বলেছিলেন, সূর্যরশ্মি কখনো পোড়ায় না, যদি না তা একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করা হয়।

দুই মিনিটের নিয়ম: ই-মেইলে ইনবক্স পরিষ্কার করা, ভয়েস মেইল চেক করে নেয়া বা কোনো অনুরোধের অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে আগামীর বড় বড় কাজের অনেকাংশ শেষ করে ফেলা যায়।

জৈবিক চক্রের তালে তাল মেলানো: আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি এমন এক জৈবিক প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট সময় পর পর চক্রাকারে ঘুরে আসে।

পাল্টা প্রকৌশল: নির্দিষ্ট কাজের পেছনে যে প্রকৌশল ব্যবহার করা হয়, এর বিপরীত কৌশলগুলোকেও ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অপরিসীম ইচ্ছাশক্তি: স্ট্যানফোর্ডের প্রফেসর কেলি ম্যাকগোনিগাল বলেন, ইচ্ছাশক্তির তিনটি ভিন্ন প্রায়োগিক দিক থেকে সফলতা বাগিয়ে আনা যায়। এগুলো হলো-

আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাব না- এর মাধ্যমে লোভ সংবরণ করা হয়। আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাব- এর মাধ্যমে মূল কাজের সঙ্গে বিকল্প উপায় অবলম্বন করা হয়। আমি শক্তির প্রয়োগ ঘটাতে চাই-এর মাধ্যমে আপনার লক্ষ্য, গন্তব্য, ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেয়া ইত্যাদি বিষয় বারবার মনে আসে। ইচ্ছাশক্তি অনেকটা পেশিশক্তির মতো।

৫৭ মিনিট চালু, ১৭ মিনিট বিশ্রাম: বিশ্রামে উদ্যম ফিরে আসে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, মানুষের মনোযোগী থাকার সহজাত প্রবণতার চক্রটি মস্তিষ্কে টানা ৯০ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর ২০ মিনিটের বিশ্রামের দরকার হয় মস্তিষ্কের।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj