রাবি রাহুমুক্ত করতে আর দেরি নয়

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলাম দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। গত শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আবাসিক এলাকার (বিহাস) নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। সঙ্গত কারণেই এ হত্যাকাণ্ডের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আমরা লক্ষ করছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর পর খুন হচ্ছেন প্রগতিশীল ভাবধারার শিক্ষকরা। প্রফেসর ইউনূস, প্রফেসর তাহের এরপর প্রফেসর শফিউল হত্যাকাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একের পর এক শিক্ষক খুন হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। মৃত্যু জীবনের খুব স্বাভাবিক পরিণতি- কিন্তু এমন নৃশংসতার শিকার হয়ে মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন অস্বাভাবিক মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হচ্ছে। গত ৩২ বছরে কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষকসহ মোট ৩১ জন খুন হয়েছে। রগ কাটা ও অন্যান্য আঘাতে আহত হয়েছে তারচেয়ে কয়েক গুণ বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তিনদিনেও শফিউল হত্যার কোনো কারণ উদঘাটিত হয়নি। খুনিরা শনাক্ত হয়নি। তবে মৌলবাদী রাজনীতির ধারক ও জঙ্গি গোষ্ঠীর দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। শফিউল একজন লালনভক্ত, সংস্কৃতিসেবী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ষক সমাজের একজন সরব কণ্ঠ ছিলেন। প্রতিক্রিয়াশীল সা¤প্রদায়িক শক্তির রোষানলে পড়া তার জন্য স্বাভাবিক। এদিকে শনিবার রাতেই ফেইসবুকে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে একটি পৃষ্ঠায় এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে। পৃষ্ঠাটি খোলা হয়েছে অধ্যাপক শফিউলকে হত্যার ঘণ্টা পাঁচেক পর। এতে বলা হয়েছে, আমাদের মুজাহিদীনরা আজকে রাজশাহীতে এক মুরতাদকে কতল করেছেন, তার ডিপার্টমেন্টে ও ক্লাসে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করেছিল তার জন্য।’ পৃষ্ঠায় ওই গোষ্ঠীর পরিচয়ে বলা হয়েছে, ‘উই আর দ্য হেল্পারস অব শরিয়া ইন বাংলাদেশ। উই আর মুজাহিদীন সাবিলিল্লাহ। যদিও পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি যে, এটা জঙ্গিদেরই কাজ। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন থেকে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা-হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে এটা মৌলবাদী কোনো গোষ্ঠীরই কাজ। বিশেষ করে যে স্থানে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, সেটি জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি বলে পরিচিত। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিদের তৎপরতারও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সে বিবেচনায় এটা জঙ্গিদের কাজ হওয়াও বিচিত্র নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এই হত্যাকণ্ডের কারণ উদঘাটন করা, খুনিদের শনাক্ত করা।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দিনেদুপুরে একজন শিক্ষক হামলার শিকার হবেন, খুন হয়ে যাবেন- এটা খুবই ভয়ঙ্কর একটা পরিস্থিতি। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে না পারলে খুনিদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়াই স্বাভাবিক। রাবি ক্যাম্পাসে মনে হচ্ছে, খুনি ও দুর্বৃত্তরাই রাজত্ব করছে। আমরা চাই, দ্রুত প্রফেসর শফিউল হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হোক, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj