অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তি গতি পাক

সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৪

ঢাকায় দুদিনব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ হাইকমিশনার পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হলো। সম্মেলনে উভয় দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক বিশ্বাস অর্জন ও জাতীয় ঐকমত্যের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। মূলত উভয় দেশের সাবেক হাইকমিশনাররা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিরাজমান প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। যারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ভারতের ১৩ জন হাইকমিশনার ও ২ জন ডেপুটি হাইকমিশনার আলোচনা করেন। বাংলাদেশের পক্ষে যারা বিভিন্ন সময় পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তারা অংশ নেন। বক্তারা স্ব স্ব দেশের পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের প্রাজ্ঞ ক‚টনীতিকরা স্ব স্ব দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর সমাধানে উপনীত হওয়ার আন্তরিক ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ এই সম্মেলন। নিশ্চয়ই সম্মেলনে উঠে আসা বিবেচনাগুলো মূল্যায়নযোগ্য।

ভারত-বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব এ কথা ইতিহাসসিদ্ধ। ভৌগোলিক ও নৃতাত্তি¡ক দিক দিয়েও দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে অনেক সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হচ্ছে সীমান্ত। দুই দেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি হলেও সে চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়নি। চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে ভারতের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। চার দশক পেরিয়ে গেলেও সীমান্ত চুক্তিটি আলোর মুখ দেখেনি। ছিটমহলগুলোতে দুই দেশের অধিবাসীরা দীর্ঘর্দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, এক দেশের অপরাধীদের অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণ ইত্যাদি দুটি দেশেরই অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রতি বছরই বহু বাংলাদেশি মারা যাচ্ছে। এই সমস্যাগুলো ব্যাপক আলোচিত হলেও কোনো সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল না। সীমান্ত হত্যার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা আগের চেয়ে কমলেও এখন পর্যন্ত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়নি। আশা করা হচ্ছে, এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত স্থলসীমান্ত চুক্তি ও এর আওতায় সই হওয়া প্রটোকল এবার বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থলসীমান্ত চুক্তির প্রটোকল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের বিলটি ভারতের রাজ্যসভার আগামী অধিবেশনে উঠতে পারে বলে জানা গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সা¤প্রতিক সম্মেলনের দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো খুব দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আবার বর্তমান সরকারও প্রতিবেশী এ দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিরসন এবং দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ-ভারতের অমীমাংসিত চুক্তিগুলো সম্পাদিত হলে তা উভয় দেশের দরিদ্রতা, সীমান্ত বিরোধ ও ছিটমহল সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এবং ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে কাজ করছে তাও ভবিষ্যতে আরো গতিশীল হবে। লক্ষণীয় যে, তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক অনৈক্যের বিষয়টি এখনো বর্তমান। উভয় দেশের উদ্যোগে এসব নিরসন জরুরি। আমরা মনে করি সম্পর্কোন্নয়নের জন্য উভয় দেশকে সদিচ্ছা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ সৃষ্টি ও ক‚টনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে উদ্যোগ নিতে হবে উভয় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। বাংলাদেশের জনগণ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বহুমাত্রিকতা প্রত্যাশা করে। যেখানে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন ঘটবে।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj