নিয়ম মেনে স্যুট

রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৪

শীতকালে নাকি শীত তাড়াতে গিয়ে ফ্যাশন হয় না ঠিকমতো- এরকম মন্তব্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেরই। কিন্তু দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে শীতের কাপড়। ফ্যাশনে কোনোভাবেই আর পিছিয়ে নেই এগুলো। ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে তাই শীতের এই সময়টাতে ছেলেদের স্যুটের চাহিদা বেড়ে যায়। তরুণদের কথা মাথায় রেখে স্যুটেও এসেছে পরিবর্তন। বেøজারের কাপড়, কাটছাঁট, বোতাম, রঙে লেগেছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। সুতি, সাটিন ছাড়াও তরুণরা স্যুটে পছন্দ করছে মখমল।

সাদা, ব্লু, নেভি ব্লু বা লাইট অরেঞ্জের মতো রঙগুলোও এসেছে সেমি ফরমাল স্যুটে। ইস্পাতের বাটনের চেয়ে ব্রাশ ও এন্টিক ধাঁচের বাটন প্রিয় তরুণদের। একরঙা স্যুট তো রয়েছেই, সঙ্গে কম যাচ্ছে না চেক আর স্ট্রেইপ কাপের স্যুট। স্যুট বা সেমি বেøজার ধাঁচের মখমলের এ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন উজ্জ্বল রঙের প্যান্ট। একের ভেতর দুই- অর্থাৎ অফিসে পরা যায়, আবার বাইরে কোনো পার্টিতেও ঠিকমতো মানিয়ে যায় এমন স্যুট।

যেখানে পাবেন

রেডিমেড স্যুট কিনতে পারেন। এ জন্য আপনাকে যেতে হবে ফ্যাশন হাউস মেনজ ক্লাব, আর্টিস্টি, ফ্রিল্যান্ড, ক্যাটস আই, স্মাটেক্স, প্লাস পয়েন্ট, তানজিম, স্ট্রিট, ইনফিনিটিসহ বিভিন্ন দোকানে। স্যুটের কাপড় কিনতে চাইলে ভিনটেজ, লান্সে, সেশন, সাফারি, ট্রপিক্যাল, স্টার লিং, রেড এন্ড টেইলার্স। যদি বাজেট একটু বেশি থাকে, তবে ব্র্যান্ডের কাপড় কিনতে পারেন। যেমন- রেমন্ড, ইতালিয়ান ভারসেস, ডিক জ্যাম, অ্যালিশান ও ডরমেনি ব্র্যান্ডের কাপড়।২৫ টিপসপুরুষদের জন্য ফরমাল বা আনুষ্ঠানিক পোশাক হিসেবে আমরা স্যুট, প্যান্ট এবং টাইয়ের বিকল্প খুব কমই ভাবতে পারি। তবে স্যুট পরার ক্ষেত্রে এমন কিছু ব্যাপার আছে যেগুলোতে অনেকেই মনোযোগ দেন না। এর ফলে ফরমাল পোশাক পরলেও আনুষ্ঠানিকতার কোথাও একটু ফাঁক থেকে যায়।

তাই স্যুট, প্যান্ট, টাই এবং জুতার ব্যাপারে পরার ক্ষেত্রে জেনে নিন কিছু টিপস

স্যুট, প্যান্ট, টাই এবং জুতার ব্যাপারে পরার ক্ষেত্রে জেনে নিন কিছু টিপস :

১) স্যুটের কলারের ভাঁজ করা অংশ বা ল্যাপেল যতোটুকু চওড়া টাইও ততোটুকু চওড়া হওয়া উচিত।

স্যুটের কলারের ভাঁজ করা অংশ বা ল্যাপেল যতোটুকু চওড়া টাইও ততোটুকু চওড়া হওয়া উচিত। এতে স্যুট এবং টাইয়ের ব্যালেন্স ঠিক থাকে।

২) সাধারণভাবে ল্যাপেল বা কলারের ভাঁজ করা অংশ চিকন হওয়া আধুনিক ফ্যাশন। মোটা ল্যাপেল ফ্যাশন হিসেবে পুরনো।

৩) স্যুটে পকেট স্কয়ার রাখলে একটা বাড়তি মার্জিত ভাব আসে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন দেখতে টাই অথবা কোটের কাপড়ের মতো বা কাছাকাছি না হয়।

পকেট স্কয়ারের ব্যাপারে বেশি রক্ষণশীল হওয়ার আগে মনে রাখতে হবে, নিজের পছন্দমতো পকেট স্কয়ার ব্যবহার করেই স্যুটে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করা যায়।

৪) রেডিমেড বানানো স্যুট কিনতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে তা কাঁধে ফিট হয় কিনা।

৫) স্যুট পরার পর স্যুটের ল্যাপেল এবং আপনার শার্টের মধ্যে যদি গ্যাপ থাকে তাহলে বোঝা যাবে স্যুট ফিট হয়নি।

৬) যদি কোনো শোকের উপলক্ষ না থাকে তাহলে সাধারণ কালো রঙ থেকে গাঢ় কালো রঙ বা ধূসর রঙকে প্রাধান্য দিন।

গাঢ় ধূসর রঙ অন্যান্য রঙ থেকে বহুমাত্রিক এবং অনেক রঙের সঙ্গে মানিয়ে যায়।

৭) সবসময় চিকন বেল্ট পরা উচিত এবং জুতার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেল্ট পরা উচিত।

৮) স্যুটের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা পরা উচিত।

৯) পেছন দিকে দুই অংশের জোড়া লাগানো স্যুট বেশি আধুনিক এবং বেশি ফ্যাশনেবল।

এ ধরনের স্যুটে মোটা মানুষকেও মানায়। এ ধরনের স্যুট পরলে খুব স্বাভাবিকভাবে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে থাকা যায়।

১০) ক্যাজুয়াল এবং আধুনিক লুকের জন্য ল্যাপেলের মাথায় এক বোতামওয়ালা স্যুট ব্যবহার করুন।

১১) বেশি ফরমাল পোশাক পরতে চাইলে ল্যাপেলের মাঝখানে দুই বোতামওয়ালা স্যুট পরুন।

১২) প্যান্টের দুই হাতা একটার ওপর আরেকটা ভাঁজ করে রাখলে প্যান্ট হ্যাঙ্গার থেকে পড়ে যায় না। নিচের ছবিতে নির্দেশিত।

১৩) স্যুটের বোতাম লাগানোর পর স্যুট এবং বুকের মাঝখানে হাত ঢুকানোর মতো জায়গা থাকতে হবে। তাহলে বোঝা যাবে স্যুট বেশি টাইট হয়নি এবং পরার জন্য আরামদায়ক হয়েছে।

১৪) বসার আগে সবসময় স্যুটের বোতাম খুলে নিন। না হলে স্যুট তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে।

১৫) স্যুটের দুই বোতামের উপরেরটি (অথবা তিন বোতাম থাকলে মাঝখানেরটি) নাভি বরাবর বা নাভির ওপরে থাকবে।

১৬) সবসময় নিজের টাইয়ের জন্য ক্লাসিক উইন্ডসর নট নির্বাচন করুন। নিজের মাথার সাইজ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন আপনার জন্য কোনটি যথাযথ, হাফ উইন্ডসর নাকি ফুল উইন্ডসর?

বড় মাথা যাদের তাদের জন্য ফুল নট মানানসই এবং ছোট মাথা যাদের তাদের জন্য হাফ নট মানানসই।

১৭) আপনি যদি ভেস্ট পরেন তাহলে সবসময় নিচের বোতামটি খোলা রাখুন।

তবে অনেকেই এই নিয়ম না মেনেও ভালোই উৎরে যান।

১৮) লুকের পরিবর্তন করা ছাড়াও ভেস্ট পরার ব্যবহারিক কারণ আছে।

শীতের সময় স্যুটের ভেস্ট পরলে আরাম লাগে। আর ভেস্টের কারণে স্যুটকে আরো ফরমাল দেখায়। তবে ভেস্ট শুধু সিঙ্গেল-বেøস্টেড স্যুটের সঙ্গেই পরা হয় যাতে ভেস্ট দেখা যায়।

১৯) স্যুটের হাতার সামনের অংশ কবজির আধা-ইঞ্চি ওপরে থাকবে সবসময়।

ভারসাম্যপূর্ণ দেখানোর জন্য পেছনের শার্টের কলার যতোটা দেখা যায় কবজির হাতাও ততোটুকু দৃশ্যমান রাখুন।

২০) স্যুট কিনে বাড়িতে আনার পর সেলাই খুলতে কাঁচি অথবা সেলাই খোলার রিপার ব্যবহার করুন।

স্যুটের পকেটের সেলাই প্রথমে খুলে নিন। স্যুটের পেছন দিকের জোড়ায় যে দৃশ্যমান আলগা সেলাই থাকে সেটা খুলে ফেলুন। স্যুটের বাম হাতা থেকে এমব্রয়ডারি করা লেবেলটুকু সাবধানে খুলুন।

২১) আপনার শার্ট থেকে আপনার টাই সবসময় গাঢ় হতে হবে। টাই এতোটুকু লম্বা হতে হবে যেন তা প্যান্টের কোমর বন্ধনী পর্যন্ত পৌঁছায়।

২২) স্যুট এতোটুকু লম্বা হতে হবে যেন প্যান্টের জিপার এবং পশ্চাৎদেশ ঢাকা পড়ে। বসলে যেন উন্মুক্ত পা দেখা না যায় সেজন্য যথেষ্ট লম্বা মোজা পরুন।

২৩) সুন্দর এবং ফ্যাশনেবল দেখানোর জন্য প্যান্টের শেষভাগ জুতার উপরিভাগ পর্যন্ত পৌঁছাবে। আর বেশি ফরমাল লুকের জন্য প্যান্টের শেষভাগ জুতার উপরিভাগ এবং গোড়ালির কিছু অংশ ঢাকবে।

২৪) যদি আপনি বেশি ঘামেন তাহলে শার্টের নিচে হালকা কিছু পরুন।

তবে এমন কিছু পরুন যাতে বাইরে থেকে দেখা না যায়। বাইরে থেকে দেখা গেলে তা খুব বিশ্রী দেখায়।

২৫) টাইয়ে ডিম্পল তৈরি করুন।

ডিম্পল হচ্ছে টাইয়ের নটের ঠিক নিচটায় ছোট ফাঁকা গর্ত বা স্পেস। ডিম্পল তৈরি করা একটু কঠিনই বটে। তবে সার্থক ডিম্পল আপনার সামগ্রিক লুকে একটা খুব সামান্য অগোছালো কিন্তু মার্জিত ভাব যোগ করবে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj