বৈদেশ

রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৪

ব্রাজিলের পথে ধাবমান ফ্যাশনবিশ্ব

শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো লাতিন আমেরিকার অগ্রণী ফ্যাশন ইভেন্ট সাও পাওলো ফ্যাশন উইক। পাঁচদিনের এ আয়োজনে পসরা সাজিয়েছিল নামিদামি ব্র্যান্ডগুলো

অর্থনীতির নাকাল দশার মধ্যেও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে দিন দিন কদর বাড়ছে ব্রাজিলের। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এখন চাইছে এ বাজারে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে। তারই প্রমাণ মিলেছে এবারের সাও পাওলো ফ্যাশন উইকে। শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো লাতিন আমেরিকার অগ্রণী ফ্যাশন ইভেন্ট সাও পাওলো ফ্যাশন উইক। পাঁচদিনের এ আয়োজনে পসরা সাজিয়েছিল নামিদামি ব্র্যান্ডগুলো। ইতালির ভারসাচ্চি, লিওপার্ড ছাড়াও ব্রাজিলের ওসক্লেন, প্যাট্রিসিয়া ভিয়েরাসহ প্রথম সারির সব ব্র্যান্ডই হাজির হয়েছিল নিজেদের কালেকশন নিয়ে।

ভারসাচ্চির পেন্সিল, স্কার্ট ও গাউন দর্শকদের এতটাই মন কেড়েছে যে, দোনাতেল্লা ভারসাচ্চি রানওয়ে থেকে বিদায় নেয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে দর্শক-ক্রেতারা সেগুলো সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সাও পাওলো কনভেনশন সেন্টারে ভারসাচ্চির কিওস্কে পাঁচটি পৃথক সারিতে দাঁড়িয়ে পড়ে আগ্রহী ক্রেতারা। ক্যাটওয়াকের পর পর পণ্য বিক্রির এ ধারণা ভারসাচ্চির দেখাদেখি অন্য ব্র্যান্ডগুলোও লুফে নেবে বলে মনে করছেন অনেকে। স্টেলা ম্যাকার্টনির নকশা করা বক্সি-কাট ব্লুাউজ এবং ঢলঢলে কাপড়ের প্যান্টও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সঞ্চার করে। প্রথমবার ভালো সাড়া পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে এবার নিজের সংগ্রহ হাজির করেছেন বলে জানান স্টেলা। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলীয় নারীরা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, ভোক্তা হিসেবে তেমনি সচেতন।’

চলতি সপ্তাহের এ আয়োজনে নতুন ধাঁচের ট্রেঞ্চ কোট এনেছিল রিওভিত্তিক ফ্যাশন হাউস ওসক্লেন। রিওর আরেক ডিজাইনার প্যাট্রিসিয়া ভিয়েরা এনেছিলেন বেশ হালকা কিছু ককটেল ড্রেস। প্যাট্রিসিয়া সুপরিচিত চামড়ার পোশাকের জন্য। তার নকশায় নতুন পোশাকগুলোও তা-ই, চামড়ায় তৈরি। বলে রাখা ভালো, সৈকত নগরী রিওতে এবারের ফ্যাশন উইক বাতিল করা হয়েছে। এজন্য রিওর ডিজাইনাররা সাও পাওলোয় এসেছিলেন।

হ্যান্ডব্যাগের বৃত্তান্ত

জানেন কি, বিশ্বের সবচেয়ে দামি হ্যান্ডব্যাগটির নাম ‘১০০১ নাইটস ডায়মন্ড পার্স’। নামে যেমন আরব্য রজনীর হীরকধার, দামেও তেমন। ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের এ ব্যাগ তৈরি করেছে দুবাইয়ের বিখ্যাত জুয়েলারি ব্র্যান্ড হাউস অব মোয়াওয়াদ’স।

হৃদয়াকৃতির এ চমকপ্রদ ব্যাগটির কারুকার্যে ব্যবহার হয়েছে ৪ হাজার ৫১৭টি হীরা, সাকুল্যে যেগুলোর ওজন আনুমানিক ৩৮১ দশমিক ৯২ ক্যারেট। ব্যাগটির নকশা তুলতে বসানো হয়েছে ৫৬টি গোলাপি ও ১০৫টি হলুদ রঙের হীরা। বাকি ৪ হাজার ৩৫৬টি হীরাই বর্ণহীন। ১৮ ক্যারটের স্বর্ণ দিয়ে মুড়ানো বিশ্বের সবচেয়ে দামি এ হ্যান্ডব্যাগ তৈরি করতে সময় লেগেছে চার মাসের মতো। কোনো রকম প্রযুক্তির ছোঁয়া ছাড়া ১০ জন সুদক্ষ কারিগরের হাতেই তৈরি হয়েছে ব্যাগটি।

‘১০০১ নাইটস ডায়মন্ড পার্সে’র পরই রয়েছে ফ্রান্সের বিলাসবহুল পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হার্মিসের তৈরি ‘বারকিন ব্যাগ’। জাপানি গহনাশিল্পী গিঞ্জা তানাকার নকশা করা প্লাটিনামের এ ব্যাগে বসানো হয়েছে ২ হাজারের মতো হীরা, যার দাম ১৯ লাখ ডলার। হীরায় খচিত এর স্ট্র্যাপটি অনায়াসেই আলাদা করা যায় এ ব্যাগ থেকে।

স্ট্র্যাপটিকে কেউ চাইলে ব্রেসলেট কিংবা নেকলেস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাগের সম্মুখভাগে বসানো প্রায় নাশপাতির মতো দেখতে সবচেয়ে বড় হীরাটির ওজন ৮ ক্যারেট।

বহু দামি হ্যান্ডব্যাগের বাজারে আরেক শরিকের নাম হলো ‘ডায়ামন্ড ফরএভার’। শানেল নির্মিত এ ক্ল্যাসিক হ্যান্ডব্যাগটির দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ডলার। হোয়াইট গোল্ড দ্বারা আবৃত এর আবরণে বসানো হয়েছে ৩৩৪টি হীরা, সাকুল্যে যার ওজন ৩ দশমিক ৬ ক্যারট। শানেল এ পর্যন্ত ১৩টি ব্যাগ তৈরি করেছে, যার মধ্যে পাঁচটিই ছাড়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj