ওবামার দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন রোহিঙ্গারা

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ ডেস্ক : চীন থেকে মায়ানমারে গিয়েছেন বারাক ওবামা। মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার তার বৈঠক। রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব দেবেন- মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমনই প্রত্যাশা।

অ্যাপেক সম্মেলন উপলক্ষে চীন সফর শেষ করে স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় মায়ানমার পৌঁছেন বারাক ওবামা। এটি তার দ্বিতীয় মায়ানমার সফর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা প্রথমবার সে দেশে গিয়েছিলেন ২০১২ সালে। তবে এবারের সফরটি ‘রোহিঙ্গা ইস্যু’র কারণে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথম সফরটিও খুব তাৎপর্যময় ছিল, কেননা, বারাক ওবামা যাওয়ার ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ ২০১১ সালে সামরিক শাসন থেকে গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে যাত্রা শুরু করে মায়ানমার। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের নেতৃত্বে দেশটিতে বেশকিছু সংস্কার কাজ শুরু হলেও মুসলিম রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ফেরেনি। বরং ২০১২ সালে রাখাইন প্রদেশে শুরু হয় ভয়াবহ দাঙ্গা। বৌদ্ধদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে দলে দলে দেশ ছাড়তে শুরু করেন মুসলিম রোহিঙ্গারা। এখনো চলছে এ প্রক্রিয়া। থেইন সেইনের সরকার বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। ১৯৮২ সালে কার্যকর করা এক আইনকে বাধা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেশ ছাড়া অধিকাংশ রোহিঙ্গাকে মায়ানমারের নাগরিক হিসেবেই স্বীকার করছে না সরকার। অথচ রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে মায়ানমার সরকারের অবস্থান বদলানোর জন্য চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতেই মায়ানমার সফরে গেছেন বারাক ওবামা।

মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক দল ‘হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেটিক পার্টি’-র সভাপতি কোয়ে মিন মনে করেন রোহিঙ্গাদের জন্য বারাক ওবামার এ সফর খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, এ ক্রান্তিলগ্নে ওবামার সফরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন হয় আমাদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলবে, নয়তো আমরা আদিবাসী হিসেবে নাগরিকত্ব পাবো, ১৯৮২ সাল পর্যন্ত যা আমরা পেয়ে আসছিলাম। কোয়ে মিন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে ‘(মায়ানমার) সরকার রোহিঙ্গাদের শেষ করে দেবে।

কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে বারাক ওবামা কি বেশি কিছু বলবেন? সফরের আগে থেইন সেইনকে টেলিফোনে জাতিগত সংঘাত কমানোয় আরো সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ওবামা। তাই আশা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবারের আলোচনাতেও ওবামা রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে জোর দিয়ে কিছু বলবেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের ব্যাপারটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, গণতন্ত্রের পথে দেশটির যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করা- এসব বিষয়কেও গুরুত্ব দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর এসবের ভিড়ে ‘রোহিঙ্গা ইস্যু’ কিছুটা গুরুত্ব হারাতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ গত মাসে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টি তুলে ধরতেই পারেন ওবামা, তবে দুদেশের সম্পর্ককে বিপদগ্রস্ত করে এমন কথা না বলাই ভালো।’

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj