জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর জর্ডান, মিসর ও ব্রিটেন

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ ডেস্ক : আইএসের হয়ে কেউ যুদ্ধ করতে গেলে তাকে আর ফিরতে দেবে না ব্রিটেন। সন্দেহজনক কাউকে দেশ ছাড়তেও দেবে না। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো আরব-বিশ্বেও চলছে আইএসকে রোখার চেষ্টা। জর্ডান আর মিসর মসজিদেও রেহাই দিচ্ছে না আইএস সমর্থকদের।

জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমাদ এজাত বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিককালে সে দেশের সরকার জিহাদি চেতনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মসজিদে নামাজ পড়ানোর নামে কোনো ইমাম জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মতো কথা বললে সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২৫ জন ইমামের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বেশকিছু মসজিদে ভালো বেতনে নতুন ইমামও নিয়োগ করা হয়েছে। আইনজীবী মুসা আবদালাত জানান, জর্ডান সিরিয়া ও ইরাকে আইএসবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন আইএস সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগই সালাফিস্ট গ্রুপের সদস্য।

মিসরে বিশেষ করে গতকাল শুক্রবার, অর্থাৎ জুমার নামাজের সময় ইমামদের দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নামাজ পড়তে এসে কেউ ধর্মের নামে অসন্তোষ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। সরকারের হিসেব অনুযায়ী এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০০ সালাফিস্ট যুদ্ধ করতে ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়েছে। জর্ডান থেকে গিয়েছে প্রায় ৪ হাজার জন। আরব বিশ্বের মতো পাশ্চাত্যের দেশগুলোও ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে শুরু হচ্ছে জি-টোয়েন্টি সম্মেলন। এ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সেখানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার দেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্যামেরন সাংবাদিকদের বলেছেন, ব্রিটেন ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কঠোর হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে সন্দেহভাজনদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার পথে এগোবে ব্রিটেন। এর ফলে চাইলেও কেউ বিদেশে গিয়ে ইসলামের নামে যুদ্ধ করতে পারবে না। যুদ্ধ করে ফিরে এসে ব্রিটেনেও যাতে কোনো সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অংশ নিতে না পারে সে দিকেও নজর রাখবে ব্রিটেন।

ক্যামেরন আরো জানিয়েছেন, যুদ্ধে অংশ নিতে কেউ বিদেশে গেলে তাকে আর ব্রিটেনে ফিরতে দেয়া হবে না।

সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি যাতে ব্রিটেনের বাইরে যেতে না পারে, কিংবা বিদেশ থেকে ব্রিটেনে ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন ক্যামেরন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে, নাগরিক অধিকার ক্ষুণœ হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা বলা হলে জবাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকের স্বাধীনতা বা অধিকার নিয়ে আমরাও ভাবি। এসব (পদক্ষেপ)-এর প্রভাব অন্য দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে সে বিষয়টিও আমরা বুঝি। কিন্তু দিন শেষে এটাই সবচেয়ে বড় সত্যি যে, ব্রিটেনের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপদ রাখতে যা যা করা দরকার আমাকে সবার আগে তাই করতে হবে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj