বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কর্মসূচিবিহীন বাবুগঞ্জ!

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ প্রতিবেদক, বরিশাল : মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ছিল গত ১৪ ডিসেম্বর। তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে দাফন করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ চত্বরে। এবার বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালের বাবুগঞ্জে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি ১৯৪৯ সালের ৮ মার্চ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়ন বর্তমান নাম জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ গ্রামের এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাকোরাম এলাকায় ১৭৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের ৩ জুলাই শিয়ালকোটের সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসে যোগদেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে লে. কর্নেল নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৭ নং সেক্টরের মোহদিপুর সাব সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। বীরশ্রেষ্ঠ এই সন্তানের শেষ অভিযান ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারঘরিয়ায়। ১২ ডিসেম্বর শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে অবস্থান নেন মহানন্দা নদীর ওপারে বারঘরিয়ায়। ১৩ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ৩ থেকে ৪টি নৌকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মহানন্দা নদী পার হয়ে সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাস্ত করেন শত্রু বাহিনীকে। স্বাধীনতার ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর সকালে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে শুরু করেন যুদ্ধ। উত্তর দিক থেকে একটি একটি করে ট্রেঞ্চ দখল করে ও এগিয়ে যেতে থাকেন বিজয়ের দিকে। বীরদর্পে এগিয়ে গিয়ে এ যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন পাকবাহিনীদের। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে শত্রু পক্ষের একটি বুলেট তার কপালে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন এই সাহসী সৈনিক। যুদ্ধে যাওয়ার আগে তার সহকর্মীদের তিনি বলেছিলেন, মৃত্যু হলে আমাকে এ এলাকাতেই কবর দিও। তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে ওই স্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ-এর পরিবারে একমাত্র জীবিত সদস্য ছোটভাই মঞ্জুর রহমান বাচ্চু জানান, স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে তার ভাইয়ের নামে তাদেরই দান করা জমিতে বাড়ির সামনে জাদুঘর নির্মিত হওয়ায় তারা খুশি কিন্তু এ জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের দর্শনার্থীদের জন্য যে সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকা দরকার তা নেই এখানে। ২০০৮ সালের জুলাই মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান বীরশ্রেষ্ঠ-এর মা সাফিয়া খাতুন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যতোদিন বেঁচে ছিলেন তার মা ততোদিন তার দাবি ও স্বপ্ন ছিল নিজ গ্রামে হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া অবহেলিত মানুষগুলোর জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়ে এলেও বীরশ্রেষ্ঠ-এর মা তার স্বপ্ন নিয়েই অবশেষে মারা যান। তবুও তাই সে দাবি আজ শহীদ পরিবারসহ এলাকাবাসীর। স্থানীয় এলাকাবাসী মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে আগরপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখান থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাই এই রহিমগঞ্জে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন। বীরশ্রেষ্ঠ-এর জন্মস্থান রহিমগঞ্জ দেশের একটি মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে উঠবে এই দাবি এলাকাবাসীর।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj