আশাশুনিতে সবজি বীজ বিতরণ

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে সিবিডিপি (কমিউনিটি বেজড ডিজাস্টার প্রিপার্ডনেস) মডেল বাস্তবায়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আশাশুনিতে দুর্যোগ সহনশীল জাতের বীজ বিতরণের সমাপনী পর্বে ২১০ জন কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে লবণ সহিষ্ণু এবং দুর্যোগ সহনশীল জাতের উন্নত মানের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ১নং ওযার্ডের নড়েরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সরিডারিটিস ইন্টারন্যাশনালের বাস্তবায়নে এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের অর্থায়নে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং দুর্যোগ সহনশীল চাষাবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মাৎ মমতাজ বেগম কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শামসুল আলম এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা। সবজি বীজ বিতরণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লবণ সহিষ্ণু জাতের সবজি ক্ষেত, মেলে ক্ষেত এবং মেলে দ্বারা মাদুর প্রস্তুত করার তাঁত ও মাদুর বুনন পরিদর্শন করেন।

সবজি বীজ বিতরণ শেষে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদ পালনে উৎসাহিত করার জন্য নড়েরাবাদ গ্রামের স্থানীয় কৃষকদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে রুগ্ণ পশুর চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করেন। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার মল্লিক কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতির শাক-সবজি চাষাবাদ, জৈবসারের ব্যবহার এবং জৈবসার উৎপাদনের ওপর হাতে-কলমে জ্ঞানগর্ভ অনুশীলন পর্ব পরিচালনা করেন। উক্ত বিতরণ এবং চাষাবাদ পর্ব অনুশীলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দুর্যোগ সহনশীল জীবিকায়ন অনুশীলনের জন্য ভূমির বহুমুখী ব্যবহার, অধিক মাত্রায় ফসল উৎপাদন, আগাম জাতের ফসল উৎপাদন, দুর্যোগকালীন সময়কে বিবেচনা করে ফসল বপন, কর্তন, সংরক্ষণ, সঠিকভাবে বীজ সংরক্ষণ কৃষক পরিবারের পারিবারিক পর্যায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জরুরি সময়ে পরিবারের টিকে থাকার জন্য পরিকল্পিত সঞ্চয় এবং প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই আমরা দুর্যোগ সহনশীল অনুশীলনের পথে যাত্রা শুরু করতে পারি, আমরা যদি আমাদের জনগোষ্ঠীভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনাকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে কোনো প্রকার দুর্যোগ আমাদের দিশেহারা করতে পারবে না।

তিনি ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়ে সামনের দিকে অগ্রসরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনায় সংযুক্তিকরণ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, বড়দল ইউনিয়ন জনগোষ্ঠী দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনায়, নারী শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করায় তিনি ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে উৎসাহিত করেন। তিনি আরো বলেন দুর্যোগ সহনশীল অনুশীলনের প্রথম শর্ত নারীদের অংশগ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা দুর্যোগ প্রস্তুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তার আলোচনায় বলেন, দুর্যোগ সহনশীল অনুশীলন প্রাণিসম্পদকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, মানবসম্পদের জন্য যেমনটি আপদকালীন পরিকল্পনা করতে হয় তদরূপ প্রাণিসম্পদের জন্যও পরিবারভিত্তিক পরিকল্পনা রাখতে হবে। কারণ পরিবারভিত্তিক প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ জীবনের পুষ্টি ও অর্থের অন্যতম আধার। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনায় পশুসম্পদ বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণের জন্য সমষ্টিগত জায়গায় টিলা নির্মাণ এবং পারিবারিক পর্যায় গোয়ালঘর দুর্যোগকে বিবেচনা রেখেই নির্মাণ এবং সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন সলিডারিটিস ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নীহার ঘোষ, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দীলিপ কুমার সানা প্রমুখ।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj