বাংলাদেশ-ভারত হাইকমিশনারদের অভিমত : দুদেশের অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে মতৈক্য জরুরি

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক জোরদার এবং ঝুলে থাকা অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো ও জাতীয় মতৈক্য জরুরি বলে মনে করেন দুদেশের সাবেক হাইকমিশনাররা। প্রথমবারের মতো ঢাকায় আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের হাইকমিশনারদের সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিমত প্রকাশ করেন।

সাবেক এসব ক‚টনীতিক কাছের প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ দুটির মধ্যে অতীতের চেয়ে বর্তমানে আস্থার সম্পর্ক বেড়েছে এবং এ সম্পর্ক আরো নিবিড় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখতে হবে। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বাড়ানোর ব্যাপারে তারা তাগিদ দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে উদীয়মান ভারতের সমৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা। সে জন্য পুরোনো মানসিকতা বদলে ফেলে সম্পর্কের সুফল যাতে দুদেশের জনগণ ভোগ করতে পারে সেই আঙ্গিকে দুদেশের ক‚টনীতিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন দুদেশের ক‚টনীতিকরা। তবে তারা বলেন, বড় দেশ হিসেবে এক্ষেত্রে ভারতকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ক‚টনীতিক যোগাযোগ ছাড়াও দুদেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তারা আরো বলেন, বিশ্বায়নের যুগে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় দুদেশকেই এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা রয়েছে।

তারা মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থায়ী করতে হলে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে জোর দিতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী সিনেট হলে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রথম দিনে দুদেশের সাবেক ক‚টনীতিকরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিল দিকগুলো তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের পর তিনটি পৃথক অধিবেশনে দুদেশের সাবেক হাইকমিশনাররা দুই কাছের প্রতিবেশীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুরো সুবিধা পেতে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনাও দেন। একই সঙ্গে তারা এ সম্মেলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ারও সুপারিশ করেন।

সাবেক এ ক‚টনীতিকরা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক মতৈক্যের অভাব দুদেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে বড় বাধা। ফলে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত সমস্যা, অবৈধ অভিবাসন, সীমান্তচুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো সমাধানে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা থাকলেও শেষ মুহ‚র্তে ঝুলে যায়। তারা বন্ধু দেশকে কোনো প্রতিশ্রæতি দেয়ার আগে জাতীয় মতৈক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। যাতে পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নে কোনো বাধা না আসে।

দুদেশের বেশ কয়েকজন হাইকমিশনার বলেন, দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে চুক্তি হয়, তবে সেসব চুক্তির আর বাস্তবায়ন হয় না। এসব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

সম্মেলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘অতীত থেকে শিক্ষা’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাবেক ক‚টনীতিক ফারুক আহমেদ চৌধুরী, ফারুক সোবহান, সি এম শফি সামি ও হারুন-উর রশীদ এবং ভারতের মুচকুন্দ দুবে, আইপি খোসলা ও আইএস চাড্ডা। ‘পরিবর্তন ও সমসাময়িক বাধা’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ক‚টনীতিক তারিক এ করিম, হুমায়ুন কবীর ও মোস্তাফা ফারুক মোহাম্মদ এবং ভারতের ক‚টনীতিক দেব মুখার্জি ও বীনা সিক্রি। ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং এর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার হেমায়েত উদ্দিন ও সাবেক ডেপুটি হাইকমিশনার তৌহিদ হোসেন এবং ভারতের পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, রাজিত মিত্তার ও ঢাকায় নিযুক্ত বর্তমান হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক আমেনা মোহসীন প্রমুখ।

এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশিকা ইরশাদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, দুদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কখনো কখনো সম্পর্কের ওঠানামা করলেও সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। এমনকি ভারতের সরকার পরিবর্তনেও এ সম্পর্ক পাল্টায়নি। বর্তমান সরকারের ওপর বিজেপি সরকারের অনুক‚ল দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ভারতের মোদি সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যে এটি সুস্পষ্ট উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করে দুদেশের সাবেক ও বর্তমান ক‚টনীতিকদের উদ্দেশে মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সময়ের আবর্তে ‘জটিল ও বহুমাত্রিক’ থেকে ‘সমন্বিত রূপ’ পেয়েছে। এক দশক আগেও গুরুত্ব পেতো না এমন সব ক্ষেত্রেও এখন দুদেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। এ সম্পর্ক অন্যান্য অঞ্চলের দেশের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। আপনারাই এ সম্পর্কের জীবন্ত দলিল, ইতিহাস নির্মাণের বিরল সাক্ষী।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির সাম্প্রতিক উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আজ সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। বিশ্ব আজ আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী। অমীমাংসিত অন্য বিষয়গুলোর সমাধানের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখনো দুদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

এ সম্মেলনের আয়োজন প্রসঙ্গে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সর্ম্পক এগিয়ে চলেছে। এ সম্পর্ককে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সে কারণেই দুদেশের হাইকমিশনারদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

মুচকুন্দ দুবে বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি দুদেশের সম্পর্ক অতীতের চেয়ে ভালো হয়েছে। বিশ্বাস, পারস্পরিক সমঝোতা এমনকি নিরাপত্তা ইস্যুতেও দুদেশ একসঙ্গে কাজ করছে। তবে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ, সমন্বিত অর্থনীতিই দুদেশের জনগণকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বোচ্চ সুফল দিতে পারে। এজন্য দুদেশের মধ্যে একটি সার্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির সুপারিশ করে সাবেক এ ক‚টনীতিক বলেন, বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামের মাধ্যমেও দুদেশের মধ্যে এখন সম্পর্ক বাড়ছে। এর ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট, ট্রানজিট, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তবে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যা রয়ে গেছে যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।

ফারুক চৌধুরী বলেন, দুদেশের মধ্যে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। তবে সেই জটিলতা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। এখন দুদেশকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও সমস্যা সমাধানে যে কোনো নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের অংশগ্রহণ জরুরি।

ফারুক সোবহান বলেন, দুদেশের মধ্যে প্রত্যাশিত আস্থার সম্পর্ক গড়ে না ওঠায় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। এ আস্থাহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ অনুধাবন করতে হবে। সে কারণে উভয় দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

শফি সামি দুদেশের সম্পর্ক সঠিক পথে রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এখন শুধু সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন। যাতে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ঝুলে না থাকে।

আইএস চাড্ডা বলেন, দুদেশের সম্পর্ক জোরদারে রাজনৈতিক আদর্শ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি ও জাতীয় মতৈক্য এ তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দুদেশেরই সৌভাগ্য যে তাদের শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব রয়েছে। এখন এ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগোলে দুদেশই সুফল পাবে।

হারুন-উর রশীদ সমান্তরাল ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা দ্রুত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা উচিত। আর তিস্তা ও সীমান্ত ইস্যুর মতো বিষয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব ঝুলে থাকা ইস্যু জরুরি সমাধান করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখার সিগন্যাল দিয়েছেন। এর ফলে আমরা আশা করি দুদেশের মধ্যে ভবিষ্যতে আরো সুসম্পর্ক তৈরি হবে।

বীণা সিক্রি বলেন, দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইলে মোদি সরকারের বৈদেশিক নীতি প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে। মোদি সরকারের বৈদেশিক নীতি খুবই শক্তিশালী। তারা এখন ভারতের জাতীয় স্বার্থরক্ষা করে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ গড়তে চায়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্কও গড়ে তুলতে চায়।

হুমায়ুন কবীর বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে অস্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। ছিটমহল ও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত সমস্যারও দীর্ঘদিন কোনো সমাধান হয়নি।

সদ্যবিদায়ী হাইকমিশনার তারিক করিম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই এখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে চায়।

দেব মুখার্জী বলেন, দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি। এজন্য জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। আর তা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতির জন্য শুধু ভারতকে এগিয়ে আসলেই হবে না। বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ভারতে বর্তমানে অটোমোবাইল একটি ব্যাপক সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ শিল্পের প্রসার ঘটালে এখানে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সমুদ্র সম্পদ আহরণেও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সম্মেলনে বিরতির ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিনাক রঞ্জন বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। এখানে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তাদের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক থাকবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে কোনো দেশেই আদর্শ গণতন্ত্র থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশেও একটি আদর্শ গণতন্ত্র থাকবে আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।

হেমায়েত উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ও ঐতিহাসিকভাবে দুদেশের সম্পর্ক অনেকটা আবেগের। এ সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হলে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসকে বাড়াতে হবে। সরকার পরিবর্তনের ফলে চুক্তির বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজিত মিত্তার বলেন, কানেকটিভিটির ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিলেও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন ধীর।

তৌহিদ হোসেন বলেন, দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো ঝুলে থাকলে পারস্পরিক আস্থা অর্জন কঠিন হবে।

ঢাকায় বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেন, দুদেশের হাইকমিশানরদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অনেকগুলো সমস্যার সমাধানের পথ এবং দিক-নির্দেশনা বেরিয়ে এসেছে। যা খুবই ইতিবাচক। ভবিষ্যতে আমরা এ দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারি।

আজ শনিবার সিনেট ভবনে দুদেশের হাইকমিশনার সম্মেলন শেষ হবে। বেলা সাড়ে ১২টায় এসব ক‚টনীতিক তাদের সুপারিশ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরবেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj