জবির ছাত্র সংসদের নামে লাখ লাখ টাকা আদায়!

শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৪

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ২৭ বছর ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ খাতে ফি আদায় করা হচ্ছে ঠিকই। জানা গেছে, শিক্ষার্থী প্রতি ২৫ টাকা হারে গত ২৭ বছরে ৩১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আদায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়ার সময় ছাত্র সংসদের নামে এই টাকা আদায় করছে প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা এই টাকা কোন খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে তাও নির্দিষ্ট করে জানাতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মুহা. ওহিদুজ্জামান বলছেন, আদায়কৃত সব টাকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। এর আগে কলেজ আমলে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে এক বছর মেয়াদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আলমগীর সিকদার ও জাহাঙ্গির সিকদার দুই ভাই ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ থেকে ২০০৫ সাল অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে প্রতি বছর ৫ হাজার ৭০০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হতো। আর ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছাত্র সংসদের নামে ২৫ টাকা হারে ফি আদায় করে কর্তৃপক্ষ। এই হিসাবে তৎকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ ফি নামে প্রতি বছর ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হওয়ার পর কলেজ আমলেই (১৯৮৭-২০০৫) গত ১৮ বছরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর ওই টাকার হিসাব বুঝেও পায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পরও প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদের নামে ২৫ টাকা করে ফি আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের পর প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। যাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ছাত্র সংসদের নামে ২৫ টাকা করে ফি নেয়া হচ্ছে। এই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ ফির নামে প্রতি বছর ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় আমলে (২০০৫-২০১৪) গত ৯ বছরে কর্তৃপক্ষ ৬ লাখ ৮ হাজার টাকা আদায় করেছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় দুই আমলে অর্থাৎ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হওয়ার পর গত ২৭ বছরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট ৩১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদের আদায়কৃত ওই টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ছাত্রলীগের দাবি শিগগিরই যেন প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ছাত্র সংসদের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই। ছাত্র সংসদ না থাকার পরও ওই খাতে ফি আদায় করা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি ছাত্র সংসদের নামে ফি নেয়ার ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ওই খাতে কোনো ফি নেয়া হবে না।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj