খোকন রাজাকারের দশ যুদ্ধাপরাধ

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ প্রতিবেদক : স্বঘোষিত রাজাকার জাহিদ হোসেন খোকনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করবেন। ফরিদপুরের নগরকান্দার পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ১১টি অভিযোগ রয়েছে।

খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এর ৩(১), ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(আই), ২০ (২) ধারা অনুসারে ১১টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। এগুলোতে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতজন গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টিই প্রমাণিত হয়েছে। বাকি ১টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ১১টি অভিযোগের মধ্যে ৫ থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত প্রমাণিত ৬টি অভিযোগে হত্যা-গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নিপীড়ন, জখম ও ধর্ষণের দায়ে খোকন রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ফাঁসি ছাড়াও প্রমাণিত অন্য ৪টি অভিযোগে আরো ৪০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন নগরকান্দা অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মূলহোতা খোকন রাজাকার। এর মধ্যে প্রমাণিত ২ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর, ৩ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৪ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর এবং ১১ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত না হওয়া ১ নম্বর অভিযোগে খালাস পেয়েছেন খোকন রাজাকার।

৬ অভিযোগে ফাঁসি : প্রমাণিত ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে হত্যা-গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নিপীড়ন, জখম ও ধর্ষণের দায়ে ফাঁসির আদেশ পেয়েছেন খোকন রাজাকার।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩০ মে সকাল ৮টার দিকে খোকন রাজাকার তার রাজাকারবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে নগরকান্দা থানার কোদালিয়া (বর্তমানে কোদালিয়া শহীদনগর) গ্রামে প্রবেশ করেন। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের অনেক বাড়িঘরে লুটপাট চালায়। ভেলুর ভিটা জঙ্গল থেকে ৫০-৬০ জনকে এক জায়গায় আত্মগোপনরত থাকা অবস্থায় খোকন ও পাকিস্তানি সেনারা তাদের ধরে আনে। আটককৃতদের তিন ভাগে ভাগ করে লাইনে দাঁড় করান। একপর্যায়ে খোকন রাজাকার ও তার সঙ্গীরা গুলি ও ব্রাশফায়ার করেন। এতে ১৬ জন নারী ও শিশু শহীদ হন। তাদের মধ্যে ছিলেন আকরামুন নেছা (৪৫), রোকসানা আক্তার (১৮), রাবেয়া বেগম (৫০), হেলেনা আক্তার (১৫) ও হামেদা বেগম (২৫)। খোকন রাজাকার কোদালিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনকে নিজে গুলি করে হত্যা করেন। রফিকুল ইসলাম কচি (দেড় বছর), শিউলী বেগমসহ (দেড় বছর) ৬ জন গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়েও বেঁচে যান।

ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩০ মে দুপুর দেড়টার দিকে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে আতাহার ও আয়নালসহ রাজাকাররা ঈশ্বরদী গ্রামে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনারা ছিল। তারা অনেক বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। গ্রামের লোকজন প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকলে খোকন রাজাকার এবং পাকিস্তানি সেনারা পলায়নরত সালাম মাতুব্বর, শ্রীমতি খাতুন, লাল মিয়া ও আব্দুল মাজেদ এ চারজনকে উত্তর মাঠ নামক স্থানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তারা শিশু ফুলমতিকে গুলি করে আহত করে।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩১ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে সশস্ত্র রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে কোদালিয়া গ্রামের পাশে দিঘলিয়া-ঘোড়ামারা বিলে আসে। তারা ২৯ মে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত পাকিস্তানি সেনাদের লাশের সন্ধান করে। তখন গ্রামের নিরীহ-নিরস্ত্র লোকজন ভয়ে ছোটাছুটি করে এদিক সেদিক পালিয়ে যান। এ সময় রাজাকাররা অসুস্থ পিজিরের বসতঘরসহ পার্শ্ববর্তী তার ভাই আফাজ ও সাদেকের বসতঘর পুড়িয়ে দেয়। ফলে ওই ঘর তিনটিতে পিজির, আফাজ ও ছাদেক আগুনে পুড়ে মারা যান। খোকন রাজাকার আছির উদ্দিন মাতুব্বর ও সফিজউদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে।

অষ্টম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩১ মে দুপুর দেড়টার দিকে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে আয়নালসহ রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও হিন্দুদের নির্মূল করার জন্য পশ্চিম দিক দিয়ে গোয়ালদী গ্রামে প্রবেশ করে। ভয়ে নিরীহ লোকজন পালানোর জন্য ছোটাছুটি করে। এ সময় পলায়নরত বৃদ্ধ রাজেন্দ্রনাথ রায় ও হান্নান মুন্সির মায়ের কোলে থাকা তার বোন দুই বছরের শিশু বুলু খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নবম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩১ মে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে আতাহার ও আয়নালসহ রাজাকাররা পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে উত্তর দিক দিয়ে নগরকান্দা থানার পুড়াপাড়া গ্রামে প্রবেশ করেন। তারা রতন শেখ, বারেক মোল্লা, ছোট খাতুন, সফিজউদ্দিন শেখসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের মধ্যে রতন শেখ ও ছোট খাতুনকে খোকন রাজাকার নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করে। তারা গ্রামের অনেক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। শহীদদের মরদেহ আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের লোকজন মিলে মাটিচাপা দেন।

দশম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১ জুন সকাল ৬টার দিকে খোকন রাজাকারের নেতৃত্বে রাজাকাররা বাগাট চুড়িয়ারচর গ্রামে প্রবেশ করে। তারা ফজলুল হকসহ অনেকের বাড়িঘরে লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়। পলায়নরত অবস্থায় মালেক মাতুব্বর ও তার ভাই মোশারফ মাতুব্বরসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমজাদ মুন্সিকে রাজাকাররা ধরে এনে গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় মিনি বেগম ও তার আম্মা পালিয়ে থাকা অবস্থায় খোকনকে চিনতে পারেন। পরে গ্রামের পশ্চিমপাড়ার দক্ষিণ মাঠের মধ্যে পলায়নরত অবস্থায় রতন মাতুব্বর, আইয়ুব ও মঞ্জু রানীসহ আরো ১০-১৫ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের দায়ে ২০ বছর : লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, মন্দিরসহ বসতবাড়ি ধ্বংস করা ও জোর করে ধর্ষণের প্রমাণিত চতুর্থ অভিযোগে খোকন রাজাকারকে দেয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৭ মে সকাল ৯টার দিকে খোকন রাজাকার ও তার বড় ভাই জাফর রাজাকারের নেতৃত্বে রাজাকাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নগরকান্দা থানার চাঁদহাট গ্রামের হিন্দু এলাকা বণিক পাড়ায় প্রবেশ করেন। রাজাকারদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেখে গ্রামের মানুষ এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। খোকন গ্রামের জগন্নাথ দত্তের বাড়িতে প্রবেশ করে পলায়নরত জগন্নাথ দত্তের পিতা ভুবন মোহন দত্ত ও ভুবন মোহন দত্তের ভাইদেরসহ ১৬-১৭ জনকে ধরেন। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে জগন্নাথ দত্তের কাকি সুচিত্রা দত্তের (মৃত) কাছ থেকে ৪২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩২৮ ভরি রুপার অলঙ্কার, রেডিও ও ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। এরপর রাজাকাররা জগন্নাথ দত্তের বসতঘর ও মন্দিরে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। চাঁদহাট গ্রামের বণিকপাড়ায় ঠাকুর দাশের স্ত্রী রাধা রানীকে ধর্ষণ করেন খোকন রাজাকার। একইভাবে মৃত হলধর দের অবিবাহিত কন্যা খুকুমনিকেও খোকন ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ধর্ষিতারা তাদের পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে যান।

ধর্মান্তরকরণে ১০ বছর : হিন্দুদের ধরে হত্যাসহ নানাবিধ ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বাধ্য করে ধর্মান্তরিতকরণের তৃতীয় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ যুদ্ধাপরাধী পেয়েছেন ১০ বছরের কারাদণ্ড। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ মে থেকে ২৮ মে যে কোনো দিন সকালের দিকে খোকন রাজাকার ও তার বড় ভাই জাফর রাজাকারের নেতৃত্বে আয়নালসহ অন্যান্য রাজাকাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একজন অজ্ঞাত মৌলভীসহ জীবন দাশের বাড়িতে আসেন। তারা জীবন দাশসহ তার চার ভাইকে জোরপূর্বক মুসলমান বানান এবং তাদের মুসলিম নাম দেন। এরপর চার ভাইয়ের স্ত্রীদের হাতের শাখা ভেঙে সিঁথির সিঁদুর মুছে মৌলভী দ্বারা কলেমা পড়িয়ে ধর্মান্তরিত করেন। এরপর জীবন দাশসহ তার ভাইয়েরা প্রাণ ভয়ে ভারতে চলে যান ও পরবর্তীতে তারা আবার হিন্দুধর্মে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সন্তোষ দাশ (খবির চৌধুরী) ও তার স্ত্রী কমলা রানী দাস (আমেনা বেগম) আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান পালন অব্যাহত রাখেন।

দুই অভিযোগে ৫ বছর করে কারাদণ্ড : প্রমাণিত ২ ও ১০ নম্বর অভিযোগের প্রতিটিতে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে খোকনকে। হত্যা ও লুণ্ঠনের হুমকিতে ধর্মান্তরিতকরণের প্রমাণিত দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত যে কোনো দিন খোকন রাজাকার ও তার বড় ভাই জাফর রাজাকারের নেতৃত্বে রাজাকাররা অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে নগরকান্দা থানার জঙ্গুরদী বাগুটিয়া গ্রামের কানাই লাল মণ্ডলসহ দুজনের ঘর পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। এরপর সকলকে হুমকি দেন যে, ইসলামধর্ম গ্রহণ করতে হবে, না হলে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। না হলে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। এ ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কানাইলাল মণ্ডলের পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং গ্রামের ধণাঢ্য ব্যক্তি জীবন দাশের পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নগদ আদায় করেন।

আটক ও হত্যার উদ্দেশে গুলি করে গুরুতর জখম এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রমাণিত ১১তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে যে কোনো একদিন খোকন রাজাকার তার দলবল নিয়ে জঙ্গুরদী বাগুটিয়া গ্রামে যান। সাড়ে ১২টার দিকে তারা গ্রামের কানাইলাল মণ্ডলের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সশস্ত্র রাজাকারদের দেখে কানাইলাল মণ্ডল পরিবারের অন্যদের নিয়ে তাদের বাড়ির উত্তর পাশের পাটক্ষেতে পালান। রাজাকাররা তাদের খুঁজে ধরে ফেলে। সেখান থেকে কানাইকে আটক করে তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে রাস্তার ওপর নিয়ে আসে। ‘কানাইলাল মণ্ডল মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিয়েছে, তাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না’ এ কথা বলে খোকন রাজাকার নিজে হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে হত্যা করার জন্য কানাইয়ের বুকে গুলি করেন। কানাই কাত হয়ে রাস্তার ওপর মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার ডান হাতের কনুইয়ের ওপর দিয়ে লেগে মাংস ভেদ করে নিচ দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে কানাই গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন।

প্রমাণিত হয়নি যে অভিযোগ : লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, আটক, নির্যাতন ও অমানবিক ব্যবহারের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের প্রথম অভিযোগটি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছেন রায়ে। এ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল অনুমান ৬টার দিকে দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী সশস্ত্র জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার ও তার আপন বড় ভাই নগরকান্দার শান্তি কমিটির সদস্য জাফর রাজাকারের নেতৃত্বে রাজাকাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নগরকান্দা থানার বনগ্রাম গ্রামে প্রবেশ করেন। ভয়ে গ্রামের লোকজন এদিক-সেদিক পালাতে থাকেন। খোকন, জাফর ও অন্যরা তাদের কথা মতো স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ না করায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই মোল্লা, নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ ৬ জনের ৬টি বসতঘরে লুটপাট চালিয়ে ঘরগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। তারা ওমেদ মোল্লা (মৃত), রতন মোল্লা (মৃত), মোঃ ইউনুস মোল্লা, ছিয়ারুন নেছাসহ ১৯ জন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ গ্রামবাসীকে জোরপূর্বক আটক করেন। পরে ছাত্তার মোল্লা ও আজিজ শেখ (মৃত) এ দুজনকে মারধর করে ছেড়ে দেন। বাকি ১৭ জন বন্দীকে ওই দিন নগরকান্দা থানায় নিয়ে যান। দুদিন তাদের নির্যাতন করা হয়। পরে খোকন রাজাকার ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj