ঢাকা মহানগর আ.লীগের দুই কমিটিতে পদ পেতে তদবির

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

ঝর্ণা মনি : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। সম্মেলনের প্রায় দুই বছর পর তারা পেতে যাচ্ছেন নতুন কমিটি। আর দুভাগে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন পদ প্রত্যাশী নেতারা। দলীয় হাইকমান্ড ঘোষিত নগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিতে ঠাঁই পেতে লবিং-তদবির শুরু করেছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটি বিভক্ত করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন। নগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করে শিগগিরই দুই ভাগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা এবং পরে পৃথক দুটি সম্মেলনের মাধ্যমে তা পূর্ণাঙ্গ করার কথাও জানান তিনি। দলীয় সভানেত্রীর কাছে দুই অংশের আহ্বায়ক কমিটির নামের তালিকা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন সৈয়দ আশরাফ।

সাধারণ সম্পাদকের এরূপ ঘোষণার পর দুই অংশের আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পাওয়া নিয়ে লবিং-তদবিরে নেমেছেন নগর নেতারা। অচিরেই দুই অংশের সম্মেলন হলে নেতৃত্বের দৌড়ে যাতে এগিয়ে থাকা যায় সেটি নিশ্চিত করতে আগেভাগে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত তারা।

নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লবিং দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় চরম দুর্দিনে সংগঠনটির হাল ধরার দায়িত্ব পড়েছিল তার কাঁধে। দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট দলীয় হাইকমান্ড তাকেই ফের দায়িত্ব দিতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ পুত্র, তরুণ নেতা সাঈদ খোকন। বর্তমানে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

উত্তরের সভাপতি হিসেবে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর নাম জোরালো আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আসলামুল হক আসলাম, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক খানের নাম শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, শেখ বজলুর রহমান, মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম, হাজি মোহাম্মদ সেলিম, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা, আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, ইসমত জামিল লাবলু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়সহ শতাধিক নেতা পদ প্রত্যাশায় ইতোমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছর পর ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথা অনুযায়ী ওই সম্মেলনেও নগরে নতুন কমিটি গঠনের সব দায়িত্ব দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। তবে সম্মেলনের দিনই অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি অর্থাৎ আজিজ-মায়ার নেতৃত্বাধীন কমিটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর গত দুবছর ধরেই কেন্দ্র থেকে আরো কয়েক দফায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, কমিটির ব্যাপারে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন। কাউন্সিল হয়ে গেছে। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা তাই মেনে নেবো। সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী বলেন, জামাত-বিএনপির নাশকতা প্রতিরোধে ও ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শক্তিশালী ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি প্রয়োজন। যাকে কমিটিতে আনলে মহানগর আওয়ামী লীগে কোনো গ্রুপিং থাকবে না, বিশৃঙ্খলা থাকবে না, তার নেতৃত্বেই কমিটি হওয়া প্রয়োজন। কেননা ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ জানান, নগর কমিটি কিভাবে হবে সেটি সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনার ওপরই নির্ভর করছে। নগর কমিটির মতো ইউনিট কমিটি ঘোষণার বেলায়ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj