রানের চূড়ায় বাংলাদেশ

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

মোঃ শোয়াইব : ব্যাটসম্যানদের বীরত্বে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজেদের সংগ্রহ পাঁচশর ওপরে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে অলআউট হওয়ার আগে ৫০৩ রানের ইনিংস খেলে স্বাগতিকরা। টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ রান এটি। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল ৪৮৮ রানের। সেটাও হয়েছিল চট্টগ্রামের মাঠেই, ২০০৫ সালে।

আগের দিনের ৩০৩ রানের সঙ্গে গতকাল বাংলাদেশ ঠিক ২০০ রান যোগ করে। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা আগের দিনের মতো আধিপত্য বিস্তার করতে সমর্থ হননি। দিনের শুরুতেই আগের দিনের ৪৬ রানের সঙ্গে ২ রান যোগ করেই আউট হয়ে যান মুমিনুল হক। দলীয় ৩১২ রানে পানিয়াঙ্গারার বলে টেইলরের শিকার হন তিনি। বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে আর মাত্র ২৭ রান যোগ করতেই আউট হয়ে যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। মিডল অর্ডারের বড় ভরসা মুশফিকুর রহিম ভালো খেলার ইঙ্গিত দিয়েও ব্যক্তিগত ১৫ রান করে পার্টটাইম বোলার মাসাকাদজার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।

এদিন সাকিব তার ক্যারিয়ারের ১৭তম অর্ধশত রানের ইনিংসটি খেলেন। তার করা ১১০ বলে ৭১ রানের কার্যকরী ইনিংসটি ভঙ্গুর মিডল অর্ডারকে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। ৮৭ রান করতে পারলে এ সিরিজে তার ২৫০ রানের কোঠা পূরণ হতো। সে লক্ষ্যে তিনি রাজকীয়ভাবেই এগোচ্ছিলেন। সিকান্দার রাজার একটি বলকে বাউন্ডারি ছাড়া করতে গিয়ে ক্রেইগ আরভীনের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। আউট হওয়ার আগে তিনি শুভাগত হোমকে নিয়ে ৫০ রানের এক মূল্যবান জুটি গড়ে যান। সাকিব আউট হওয়ার পর টেল এন্ডারদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন হোম। নবম উইকেট হিসেবে তিনিও ব্যক্তিগত ৩৫ রান করে রানআউট হয়ে যান।

রুবেলের শেষ বিকালের চোখ ধাঁধানো ইনিংসের সুবাদে ৫০০ রানের কোঠা পার করে বাংলাদেশ। মাত্র ৪৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংসটি থেমে যায় সঙ্গীর অভাবে। নয়নাভিরাম এ ইনিংসটি খেলার পথে তিনি মিড উইকেট দিয়ে ২টি চার ও ৪টি বিশাল ছক্কা উপহার দেন। জুবায়ের আউট হওয়ার আগে তার সঙ্গে গড়েন ৫১ রানের জুটি গড়েন তিনি। ইনিংসের ১৫৪তম ওভারে পানিয়াঙ্গার বলের বোল্ড হন এই তরুণ।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট লাভ করেন রাজা। পানিয়াঙ্গারা ও দুই মাসাকাদজা সহোদর প্রত্যেকে পান দুটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের করা ৫০৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। রুবেল হোসেনের বলে ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রায়ান চারি। এরপর বাকি সময়টা শুধুই জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ওভারে শফিউল ইসলামকে দুটো বাউন্ডারি মেরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের যে সূচনা করেন রাজা, তা অব্যাহত রাখেন খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত। মাত্র ৫৩ বল খেলে তিনি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশত রানের ইনিংসটি খেলেন। অর্ধশতকে পৌঁছাতে তিনি ৯ বার স্বাগতিক বোলারদের বাউন্ডারি ছাড়া করেন। গতকাল স্পিন ও পেসের বিপক্ষে সমানতালে ব্যাট চালাতে থাকেন জিম্বাবুয়ের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

রাজার তুলনায় কিছুটা শান্ত ছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। গতকাল বিকালে তিনিও টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ অর্ধশত রানের মাইলফলকটি স্পর্শ করেন। অর্ধশত রানে পৌঁছাতে তিনিও খেলেন মাত্র ৭১ বল। ইনিংসটি খেলার পথে ৭টি চারের সঙ্গে সাকিবকে বিশাল এক ছক্কাও হাঁকান তিনি। গতকালের শেষ সেশনটি বাংলাদেশের বোলারদের জন্য ছিল হতাশার। দিনের শুরুতে একটি উইকেট বাদে তারা কোনো সফলতা লাভ করতে পারেনি। এমনকি সাকিবরা প্রভাবও বিস্তার করতে পারেননি রাজা-মাসাকাদজা জুটির ওপর। মাত্র ২৬ ওভার খেলে তাদের সংগ্রহ ১১৩ রান। মাসাকাদজা ৫১ ও রাজা ৫৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj