কুলাঙ্গারের সর্বোচ্চ সাজায় স্বস্তিতে ফরিদপুরবাসী

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় তার জেলা ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও একাত্তরের নির্যাতিতরা বলেছেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর জেলা ‘কলঙ্কমুক্ত’ হলো।

যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল বৃহস্পতিবার পলাতক খোকনের মামলার রায় ঘোষণা করেন। অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা, গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের দায়ে তাকে দেয়া হয় সর্বোচ্চ সাজা। ফরিদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহ নেওয়াজ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর কলঙ্কমুক্ত হলো। ফরিদপুরের চার কুলাঙ্গারের মধ্যে একজনে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। সরকারের কাছে দাবি

অন্যদের রায়ও দ্রুত কার্যকর করা হোক।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত আসা ১২টি রায়ের মধ্যে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া চার আসামিরই বাড়ি ফরিদপুরে। জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে। ইতোমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোঃ মুজাহিদের বাড়ি ফরিদপুর শহরে। ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া জামাতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বাড়ি সালথা উপজেলায়। খোকনের মতো তিনিও পলাতক।

নগরকান্দা উপজেলার শহীদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান অনু বলেন, জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার হিসেবে গর্ব বোধ করতেন। এই রায়ে নগরকান্দা মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। রায় ঘোষণার পরপরই নগরকান্দা ও সালথায় দফায় দফায় আনন্দ মিছিল করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণও হয়।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, এই রায় দেশের জনগণের রায়, এই রায় মুক্তিযোদ্ধাদের রায়। ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামাতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন জাহিদ হোসেন খোকন ও তার বড় ভাই জাফর হোসেন। পরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই ভাই রাজাকার বাহিনীকে সংগঠিত করেন। ১৯৭১ সালের ২৯ মে চাঁদহাটে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় ধরনের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে জাফর নিহত হলে নগরকান্দা রাজাকার বাহিনীর প্রধান হন তার ভাই খোকন। তার নেতৃত্বেই বাড়ি-ঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধে লিপ্ত হয় রাজাকার বাহিনী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খোকন বিএনপির রাজনীতিতে জড়ান এবং ২০১১ সালে নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ওই সময়ে যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত শুরু হলে মেয়র হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই নিরুদ্দেশ হন তিনি। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে খোকনের বিচার শুরু হওয়ার পর গত বছরের ৯ জুন তাকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj