সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু, ইসহাকের মৃত্যু বিরাট ক্ষতি : প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

সংসদ প্রতিবেদক : সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইসহাক হোসেন তালুকদারের মৃত্যুতে দেশ ও দলের বিরাট ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। শহরের দালানের বাতাস তার গায়ে লাগেনি। তার মৃত্যুতে দেশ ও দলের বিরাট ক্ষতি হয়েছে। এটা পূরণ করা সম্ভব নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সদ্যপ্রয়াত সরকার দলীয় সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ইসহাক হোসেন তালুকদারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকাল ৪টা ২ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়।

ইসহাক হোসেন তালুকদারের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতি দিয়েই তার (ইসহাক হোসেন তালুকদারের) রাজনৈতিক জীবন শুরু। ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তার যথেষ্ট অবদান ছিল।’ ৭০-এর নির্বাচনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।’ ৭১-এ তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি যুদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর তরুণ সৈনিক হিসেবে চলনবিল এলাকায় দুস্থ মানুষের জন্য নৌকায় করে ত্রাণ নিয়ে যেতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যে বিষয়টা লক্ষণীয় তা হলো অনেকের অনেক কিছু চাওয়া-পাওয়ার আছে। কিন্তু ইসহাক তালুকদারের কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিল না। তিনি মানুষের জন্য ও তার এলাকার উন্নয়নের জন্য আবদার নিয়ে আসতেন। তার মতো এমন একজন মানুষের হঠাৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মোহাম্মদ নাসিম, চিপ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ আরো বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ইসহাক হোসেন তালুকদারের শোক প্রস্তÍাবের ওপর আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন এ কে এম আবদুল আউয়াল। পরে শোক প্রস্তাব সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাব পাসের পর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।

ইসহাক হোসেন তালুকদার ছাড়াও জাতীয় সংসদের সাবেক তিন সংসদ সদস্য- বেগম জাহানারা রব, মোঃ গোলামে মোস্তফা এবং মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

সংসদ সদস্য ছাড়াও ১৯৫২ সালের সর্ব দলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন, ভাষাসৈনিক এডভোকেট আবদুস সামাদ, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক আবদুল ফয়েজ সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক সংগঠক মোঃ বজলুর রহমান, নজরুল সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগম, পণ্ডিত রামকানাই দাশ এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেনের মৃত্যুতে সংসদ শোক প্রকাশ করে।

এছাড়াও নাটোরের বনপাড়া-হটিকুমরুল সড়কের রেজুর মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এবং দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে জাতীয় সংসদের শোক প্রকাশ করা হয়।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj