সার্ক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ : যোগাযোগ-জ্বালানিতে প্রাধান্য

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৪

কাগজ প্রতিবেদক : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সংস্থা সার্কের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গভীর সমন্বয়’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনের জন্য বেশ জোরেসোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দারিদ্র নিরসন, যোগাযোগ (কানেকটিভিটি) ও জ্বালানি সহযোগিতার সহযোগিতার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বের পাশাপাশি অতীতের সার্কের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে জোর দিবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে সার্ককে আরো গতিশীল করতে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করবে। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, জলবায়ু ও আবহাওয়া পরিবর্তন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের সার্ক সম্মেলনে ৩টি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করছে সদস্য ৮টি দেশ। ‘সার্ক ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ফর এনার্জি কোঅপারেশন’ চুক্তি, রেল পরিবহন সংক্রান্ত চুক্তি এবং মোটরযান চলাচলবিষয়ক চুক্তি ৩টি স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, রেল মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জ্বালানি ও রেলবিষয়ক চুক্তি দুটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত হয়েছে এবং নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। অন্য খসড়াটির কাজ চলছে। তবে সব সদস্য দেশ প্রস্তুত হলেই চুক্তিগুলো দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিতে সই হবে।

জানা গেছে, আগামী ২২ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। ২৩ নভেম্বর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। ২৪ নভেম্বর পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক। আর ২৫ নভেম্বর কাঠমান্ডুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৩৬তম সার্ক কাউন্সিল অব মিনিস্টারস সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ২৫ নভেম্বর কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬-২৭ নভেম্বর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। ২৮ নভেম্বর তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

জানা গেছে, জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে যুক্ত হতে যাচ্ছে। কারণ সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়ন সামনে রেখেই এ আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য চুক্তি সই হচ্ছে। এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে এতে। চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার, গ্রিড নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সর্বোচ্চ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া চুক্তির ফলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ কেনাবেচার জটিলতা নিরসন হবে। যে কোনো সদস্য রাষ্ট্র অন্য সদস্য রাষ্ট্রের কাছে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

২০১০ সালে ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ১৬তম সার্ক শীর্ষ বৈঠকে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সার্কভুক্ত দেশগুলো এ বিষয়ক চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে প্রস্তুত হচ্ছে। গত ১৭ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সার্ক এনার্জি মিনিস্টারদের পঞ্চম সভায় এ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ চাইলে নেপাল বা ভুটান থেকে কম খরচে জলবিদ্যুৎ আনতে পারবে।

এদিকে সার্ক সচিবালয় ও নেপালে বাংলাদেশের মিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে হিমালয় কন্যার দেশটিতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ অঞ্চলের নেতাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মুগ্ধ করার জন্য ঢেলে সাজানো হচ্ছে পুরো রাজধানী। শেষ মুহ‚র্তের প্রস্তুতি নিয়ে চলছে বৈঠকের পর বৈঠক। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দফায় দফায় কাঠমান্ডু সফর করছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠা হওয়ার তিন দশকেও এটি এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে পুরো সুফল দিতে পারেনি। তাই এবারের সার্ক সম্মেলনের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থার বন্ধন দৃঢ় করা ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি উঠে আসবে। মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করাসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।

জানা গেছে, আঞ্চলিক উন্নয়নে দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া সার্কের এবারের সম্মেলনটি বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj